শিরোনাম
দেশকে যারা তাঁবেদার রাষ্ট্র করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়বে বিএনপি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলকারীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা একাধিক মামলার সাজা একসঙ্গে চলার সুযোগ নেই: হাইকোর্ট অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্ধশত কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ। নবম ব্যালন ডি’অর জিততে পারেন মেসি, জানা গেল যে ৫ কারণ হলান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ের জয় ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ মেরামত হচ্ছে ‘থ্রি আর’ কৌশলে: প্রধানমন্ত্রী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সূচকের পতনে লেনদেন ৭৫১ কোটি টাকা বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড, আগস্টে ৬৪৩ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি

২৮ দেশের ৬৬ পরিকল্পনা: ডলারের বৃষ্টিতে ভিজবে ধ্বংসের নগরী গাজা

স্কাই নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডবে ধ্বংসের নগরীতে পরিণত হয়েছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা। ৩৬৫ বর্গ কিলোমিটারের এ শহরটির পুন:নির্মাণে লাগবে ৭১ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অবকাঠামো খাতে ক্ষতি পোষাতে প্রয়োজন হবে ৩৫ বিলিয়নের বেশি ডলার।

প্রাথমিকভাবে আগামী ছয় মাসের জন্য ২৪৫ কোটি ডলার পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা প্রকাশ করতে যাচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর-স্থানীয় সময় অনুযায়ী) বোর্ডের সদস্যদের এক বৈঠকে এ পরিকল্পনাটি উপস্থাপন করা হবে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে Axious.

পরিকল্পনায় কী আছে, কেন গুরুত্বপূর্ণ

৬৬টি প্রকল্পের এই প্রস্তাব যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার পুনর্গঠন ও শাসনব্যবস্থার প্রাথমিক পর্যায় কেমন হবে তার বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরেছে। পরিকল্পনাটি তৈরিতে বোর্ড অব পিসের ২৮টি সদস্য দেশের প্রতিনিধি এবং ফিলিস্তিনি সরকারের বহু কর্মকর্তা প্রায় এক বছর ধরে কাজ করেছেন।

ট্রাম্পের এ পরিকল্পনায় অস্থায়ী আবাসন, ধ্বংসস্তূপ অপসারণ, হাসপাতাল মেরামত, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং একটি বহুজাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের জন্য সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব রয়েছে।

বোর্ড অব পিসের এক কর্মকর্তা বলেন, এই পরিকল্পনা দেখিয়েছে কীভাবে শূন্য থেকে একটি সরকার, ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি অর্থনীতি এবং বিপর্যস্ত একটি ভূখণ্ডকে পুনরায় গড়ে তোলা যায়।

পুনর্গঠনে কিছু শর্ত আছে

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য প্রথমত ইসরায়েল ও হামাস-উভয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার এর আগে আলোচিত পরিকল্পনার কিছু বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মতি জানিয়েছে। তবে, নির্বাচনের আগে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণে তারা এর বাস্তবায়ন দ্রুত শুরু করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

অন্যদিকে, হামাস নীতিগতভাবে নিরস্ত্র হতে সম্মত হলেও বিষয়টির এখনো বাস্তব ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়নি। এর একটি কারণ হলো—নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরুর আগে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে রাজি নয় ইসরায়েল।

বোর্ড অব পিস আশা করছে, আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের নির্বাচন হওয়ার পর নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে গাজা পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।

তবে, নির্বাচনে স্পষ্ট একক বিজয়ী না এলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে, যা গাজা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

গাজা উপত্যকার পুরোপুরি পুনর্গঠন

পরিকল্পনার তথ্য অনুযায়ী, গাজার অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ ৩৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করা হয়েছে। আর পূর্ণ পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনে আগামী ১০ বছরে প্রায় ৭১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

৬৬টি প্রকল্পকে ছয়টি প্রধান খাতে ভাগ করা হয়েছে: অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করা, ডিজিটাল রূপান্তর, আইন ও বিচারসংক্রান্ত বিষয়, শান্তি ও নিরাপত্তা।

অবকাঠামো খাত

অবকাঠামো খাতে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে- ক) অস্থায়ী আশ্রয়ের জন্য প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার, খ) ধ্বংসস্তূপ ও অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ অপসারণে ২৭৫ মিলিয়ন ডলার, গ) হাসপাতাল পুনর্বাসনে ৫০ মিলিয়ন ডলার, ঘ) গাজার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে ৩০ মিলিয়ন ডলার।

এছাড়া সীমান্ত ক্রসিং মেরামত, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহব্যবস্থা পুনরুদ্ধার, ২৫ হাজার বহনযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ কিট স্থাপন এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক পুনর্গঠন প্রকল্পের আওতাধীন স্থাপনার নিচে থাকা সুড়ঙ্গগুলো স্থায়ীভাবে ভরাট করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

নিরাপত্তায় ৮৮৫ মিলিয়ন ডলার

নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রকল্পগুলোর জন্য প্রায় ৮৮৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ক) রাফাহ এলাকায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (ISF)-এর ৫ হাজার সদস্যের জন্য একটি স্থায়ী সুরক্ষিত ঘাঁটি নির্মাণে ২৭৫ মিলিয়ন ডলার খ) একটি বহুজাতিক নিরাপত্তা বাহিনী নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম সরবরাহ ও মোতায়েনে ১৪০ মিলিয়ন ডলার গ) ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে সক্রিয় করতে ১২০ মিলিয়ন ডলার।

গাজা থেকে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনিকে নতুন পুলিশ বাহিনীতে কাজ করার জন্য বাছাই ও যাচাই করা হয়েছে। তবে, প্রশিক্ষণের জন্য তাদের মিশরে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি ইসরায়েল।

এছাড়া হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিতে উৎসাহিত করার জন্য একটি অস্ত্র ক্রয় কর্মসূচিতে ২০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। জমা দেওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিরাপদে ধ্বংস করা হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ইসরায়েল ও মিশরের সঙ্গে গাজার সীমান্ত ক্রসিংগুলো-পণ্য ও যাত্রী উভয়ের জন্য-পরিচালনার দায়িত্ব ফিলিস্তিনি কারিগরি সরকার গ্রহণ করবে।

তাঁবু থেকে ঘরে ফিরবে মানুষ

তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকারের একটি হলো তাঁবুতে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া। বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জন্য ইনসুলেটেড ক্যারাভান বা অস্থায়ী আবাসন তৈরিতে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

আলাদাভাবে, সংযুক্ত আরব আমিরাত রাফাহ এলাকায় একটি পরীক্ষামূলক ‘এমিরাতি নেইবারহুড’ নির্মাণে অর্থায়ন করবে। সেখানে তাঁবুতে বসবাসকারী প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে স্বাধীন বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য সেবা-সুবিধাসহ আবাসনের ব্যবস্থা করার কথা রয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচিতেও প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

শুধু ত্রাণ নয়, প্রশাসন ও অর্থনীতিও

পরিকল্পনাটি কেবল জরুরি ত্রাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর লক্ষ্য হলো একটি কার্যকর ফিলিস্তিনি প্রশাসনের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং গাজার বেসরকারি খাতকে পুনরায় সচল করা। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে— ১) ডিজিটাল পরিচয়পত্র ব্যবস্থা ২) ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ৩) ফোর-জি মোবাইল সংযোগ ৪) ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা ৫) ক্ষুদ্র ব্যবসা পুনরায় চালুর জন্য অনুদান ৬) নতুন গাজা বিনিয়োগ তহবিল বোর্ড অব পিস এবং ফিলিস্তিনি কারিগরি সরকার বলছে, গাজার পুনরুদ্ধার হবে ফিলিস্তিনিদের নেতৃত্বে এবং ফিলিস্তিনি মালিকানার ভিত্তিতে।

অর্থায়নই বড় চ্যালেঞ্জ

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান বাধা অর্থায়ন। বর্তমানে বোর্ড অব পিস ও ফিলিস্তিনি কারিগরি সরকার পুরো ২৪৫ কোটি ডলার সংগ্রহ করতে পারেনি।
তবে, বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন ফিলিস্তিনি কারিগরি সরকার গাজায় প্রবেশের সময় পুরো অর্থ একসঙ্গে প্রয়োজন হবে না। রাজনৈতিক বাধাগুলো দূর হলে দাতাদেশগুলো বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়নে এগিয়ে আসবে বলে তারা আশাবাদী।

৩৫ দেশের প্রতিনিধির অংশগ্রহণ

বোর্ড অব পিসের ব্রিফিংয়ে ৩৫টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), জাতিসংঘ এবং বোর্ড অব পিসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দেশও ছিল, যদিও এসব দেশের সবাই বোর্ডের আনুষ্ঠানিক সদস্য নয়।

গাজা-সংক্রান্ত উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছেন ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার, হোয়াইট হাউসের দূত স্টিভ উইটকফ, বোর্ড অব পিসের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ নিকোলাই ম্লাদেনভ এবং ফিলিস্তিনি কারিগরি সরকারের প্রধান আলী শা’থ।তারা দাতা দেশগুলোকে গাজা পরিকল্পনায় সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ম্লাদেনভ বলেন, আমরা গাজায় নতুন কিছু গড়ে তুলতে চাই-আরও ভালো একটি ব্যবস্থা, যা স্থায়ী শান্তির সুযোগ তৈরি করবে।

তিনি বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে বোর্ড অব পিসের আলোচনা সহজ নয়, বিশেষ করে নির্বাচনের কারণে। তার ভাষায়, এখন সবকিছু আরও সংবেদনশীল। কাজ শেষ করতে আরও কম সময় লাগলে ভালো হতো, তবে তারা ধীরে ও ধারাবাহিকভাবে অগ্রসর হচ্ছে।

উইটকফ বলেন, কোনো শর্টকাট নেই। কোনো বিকল্প পরিকল্পনা নেই। এই পরিকল্পনাকে সফল করতে আমরা সবাই কাজ করব।

এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2021 Skynews24.net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com