জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ হাসি হাসতে পারল না জার্মানি। ম্যাচের অধিকাংশ সময় এগিয়ে থেকেও যোগ করা সময়ে কোডি গাকপোর দুর্দান্ত গোলে জয় হাতছাড়া করেছে তারা। অন্য ম্যাচে অবশ্য গোলের উৎসবে মেতেছে নরওয়ে। দুইবার এগিয়ে গিয়ে ডেনমার্ক সমতা ফেরালেও শেষ পর্যন্ত আর্লিং হলান্ডের জোড়া গোলে ৩–২ ব্যবধানে জয় পেয়েছে নরওয়ে।
জার্মানি ১–১ নেদারল্যান্ডস
উয়েফা নেশনস লিগে বৃহস্পতিবার আমস্টারডামের ইয়োহান ক্রুইফ অ্যারেনায় ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনা। ১৩ মিনিটেই গোল পেয়েছিল নেদারল্যান্ডস। কর্নার থেকে ভার্জিল ফান ডাইকের হেডে বল জালে গেলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর সেটি বাতিল হয়। জার্মান গোলরক্ষক মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেনকে ব্রায়ান ব্রোবি বাধা দিয়েছেন বলে সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।
এরপর ৩২ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় জার্মানি। নেদারল্যান্ডসের ব্রোবি চোট নিয়ে মাঠে পড়ে থাকলেও খেলা চালিয়ে যায় জার্মানরা। জশুয়া কিমিখের পাস ধরে ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠেন জোশা ট্রয়। তার নিচু ক্রস থেকে কারিম আদেয়েমি গোল করতে না পারলেও ফিরতি বল পেয়ে যান ফেলিক্স ন্মেখা। কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে জার্মানিকে এগিয়ে দেন তিনি।
গোলটি নিয়ে নেদারল্যান্ডসের খেলোয়াড়েরা আপত্তি জানালেও সিদ্ধান্ত বদলায়নি। বিরতির পর ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে স্বাগতিকরা। একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে তারা। জার্মানির রক্ষণও বেশ দৃঢ়ভাবে সামাল দিচ্ছিল চাপ। এর মধ্যে মেক্স মিয়ারডিঙ্কের সামনে আসে সহজ সুযোগ, ফাঁকা পোস্টে বল পাঠাতে পারলেই সমতা। কিন্তু তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও জার্মানির জয়টা প্রায় নিশ্চিতই মনে হচ্ছিল। কিন্তু যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বদলে যায় দৃশ্যপট। অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা রুবেন ফান বোমেল বাঁ দিক থেকে বল বাড়ান বক্সের দিকে। দারুণ টাইমিংয়ে ভলিতে সেই বল জালে পাঠান গাকপো। মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে আমস্টারডাম। ১–১ সমতায় ফেরে নেদারল্যান্ডস।
শেষ মুহূর্তে জয়ের সুযোগও পেয়েছিল স্বাগতিকেরা। জোয়ি ফেইরমানের ক্রস থেকে গুয়ুস টিলের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফলে ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় দুই দলকে। নতুন কোচ হিসেবে জাভি হার্নান্দেজের নেদারল্যান্ডস ও ইয়ুর্গেন ক্লপের জার্মানির এটিই ছিল প্রথম ম্যাচ। দুজনেরই আন্তর্জাতিক কোচিং অভিষেক শেষ হলো ড্র দিয়ে।
নরওয়ে ৩–২ ডেনমার্ক
আরেক ম্যাচে অসলোতে শুরু থেকেই ডেনমার্ককে চাপে রাখে নরওয়ে। মাত্র ১৪ মিনিটেই আসে প্রথম গোল। মার্টিন ওডেগার্ডের নিখুঁত পাস পেয়ে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁকানো শটে দূরের পোস্টের কোণ খুঁজে নেন অস্কার বব।
চার মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে নরওয়ে। আন্তোনিও নুসার বাড়ানো পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরালো শটে গোল করেন হলান্ড। ডেনমার্কের গোলরক্ষক ফিলিপ ইয়র্গেনসেনকে কোনো সুযোগই দেননি ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা।
দুই গোল খেয়ে অবশ্য ভেঙে পড়েনি ডেনমার্ক। ২৫ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে ব্যবধান কমান মিকেল দামসগার্ড। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে সমতা ফেরানোর সুযোগও তৈরি করেছিল তারা। তবে প্যাট্রিক বার্গের শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ইয়র্গেনসেন।
দ্বিতীয়ার্ধে সেই প্রতিরোধ আর টেকেনি। কর্নার থেকে আসা বল প্রথমে ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ন নাইল্যান্ড। কিন্তু ফিরতি বলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে হেডে গোল করেন রাসমুস হইলুন্দ। ম্যাচ তখন ২–২।
এরপর দুই দলই জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেন হলান্ডই। কর্নার থেকে নুসার ছোট পাস পেয়ে ওডেগার্ড বল বাড়ান বক্সের দিকে। সেখান থেকে কাটব্যাক পেয়ে কাছের পোস্টে দুর্দান্ত গতির শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন হলান্ড। নরওয়ে আবার এগিয়ে যায় ৩–২।
শেষদিকে নরওয়ের জন্য বিপদ তৈরি হয়। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে ডেভিড মোলার উলফ মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় নরওয়ে। এরপর শেষ চেষ্টা চালালেও সমতাসূচক গোল পায়নি ডেনমার্ক।
ফলে হলান্ডের জোড়া গোলে ৩–২ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।