টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর ওয়ানডেতেও ইংল্যান্ডের দাপট দেখার আশঙ্কা ছিল। প্রথম ম্যাচে অবশ্য সেই গল্পটা পুরোপুরি সহজ হতে দেয়নি শ্রীলঙ্কা। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ইংল্যান্ডকে একসময় চাপে ফেলেছিল সফরকারীরা। কিন্তু নিজেদের ইনিংসে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সেই লড়াই আর শেষ পর্যন্ত জমাতে পারেনি তারা। চেস্টার-লি-স্ট্রিটে প্রথম ওয়ানডেতে ৮৯ রানের জয় তুলে নিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রিভারসাইড গ্রাউন্ডে টস জিতে আগে ব্যাট করে ৪৮.১ ওভারে ২৬৫ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। জবাবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো শ্রীলঙ্কার ইনিংস থামে ১৭৬ রানে। দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন ইংলিশ অলরাউন্ডার উইল জ্যাকস। ফাইফার নিয়ে ক্যারিয়ারে প্রথমবার ওয়ানডে ও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে পাঁচ উইকেটের স্বাদ পান ২৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
ইংল্যান্ডের শুরুটা অবশ্য ছিল বেশ ভালো। টম ব্যান্টন ১০ রানে ফিরে গেলেও পাওয়ারপ্লের ১০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৬৪ রান তুলে স্বাগতিকরা। এরপর বেন ডাকেট ২৯ বলে ৩২ রান করে আউট হন।
জো রুট ও হ্যারি ব্রুকের ব্যাটে ইনিংসের ভিত শক্ত হচ্ছিল। ওয়ানডেতে টানা সপ্তম হাফসেঞ্চুরির পথে থাকা রুটকে ৪৪ রানে বোল্ড করেন অভিষিক্ত সাচিন্দু। পরে অধিনায়ক ব্রুক ৬৯ বলে ৭টি বাউন্ডারিতে করেন ৬৭ রান।
একপর্যায়ে ৩ উইকেটে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ১৮২ রান। সেখান থেকেই ম্যাচে ফিরে আসে শ্রীলঙ্কা। মাত্র ২৯ রানের মধ্যে চার উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের বড় সংগ্রহের পথে বাধা তৈরি করে তারা। জস বাটলার ৩৩ বলে ৩১ রান করেন। শেষদিকে উইল জ্যাকস ৪৭ বলে ৪৬ রানের কার্যকর ইনিংস খেললে কোনোমতে লড়াইয়ের মতো স্কোর পায় ইংল্যান্ড।
২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ছন্দ হারায় শ্রীলঙ্কা। ২৭ রানে কামিন্দু মেন্ডিসের বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। জ্যাকসের স্পিনে একপর্যায়ে ১০৫ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা।
তবে একপ্রান্ত আগলে লড়াই চালিয়ে যান ওয়েলালাগে। ৩৬ বলে ৪৫ রানের ইনিংসে তিনি দলের পরাজয়ের ব্যবধান কিছুটা কমান। শেষ পর্যন্ত ১৭৬ রানে ৭ উইকেট থেকে একই ওভারে চার বলের মধ্যে তিন ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কার ইনিংসের ইতি টানেন জ্যাকস। তাতেই পূর্ণ হয় তার পাঁচ উইকেট।
ওয়ানডে তো বটেই, লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেও এই প্রথম পাঁচ উইকেট পেলেন ইংল্যান্ডের ২৭ বছর বয়সী অলরাউন্ডার। তিন ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে হবে আগামী বৃহস্পতিবার হেডিংলিতে।