সোনার পদকের আশা আগেই শেষ হয়েছিল ভারতের কাছে হেরে। এরপর লক্ষ্য ছিল অন্তত ব্রোঞ্জ জেতা। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩১ রানের বড় ব্যবধানে হেরে সেই আশাও শেষ হয়েছে। ফলে প্রতিযোগিতা থেকে কোনো পদক ছাড়াই ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলকে।
মঙ্গলবার নিশ্শিনে ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪৫ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। জবাবে ৭ উইকেটে ১১৪ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সাফল্য থাকায় ম্যাচটিতে ব্রোঞ্জ জয়ের প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশের। ২০২৩ সালের এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জ ফাইনালেও পাকিস্তানকে হারিয়ে পদক জিতেছিল নিগার সুলতানার দল।
এরপর দুই দলের পরের চার দেখায় তিনটিতেই জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। সবশেষ নারী বিশ্বকাপেও পাকিস্তানকে হারিয়েছিল তারা।
তবে আজকের ম্যাচে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। পাকিস্তানের ইনিংসে অধিনায়ক ফাতিমা সানা ৩০ বলে ৪৫ রান করেন।
২৩ বলে ৩১ রান করেন গুল ফেরোজা। আলিয়া রিয়াজের ব্যাট থেকে আসে ২২ বলে ২৫ রান। শাওয়াল জুলফিকার করেন ২৭ বলে ১৭ রান।
ফাতিমা সানা ১ রানে থাকার সময় তাকে ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। সানজিদা আক্তার মেঘলার বলে তার ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন দিলারা আক্তার। শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে পাকিস্তানের অধিনায়ক গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাহিদা আক্তার, স্বর্ণা আক্তার ও রিতু মনি দুটি করে উইকেট নেন। সানজিদা আক্তার মেঘলা নেন একটি উইকেট।
১৪৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। চার ওভারের মধ্যেই দিলারা আক্তার, জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও সোবহানা মোস্তারি ফিরে যান। পরে অধিনায়ক নিগার সুলতানা ৩০ বলে ২৫ রান করে আউট হন।
এক প্রান্তে লড়াই চালিয়ে যান শারমিন আক্তার। ৪৫ বলে অপরাজিত ৪৬ রান করেন তিনি। তবে অন্য প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকায় জয়ের কাছাকাছি যেতে পারেনি বাংলাদেশ। স্বর্ণা আক্তার, রিতু মনি ও রাবেয়া খানও দ্রুত ফিরে যান।
পাকিস্তানের হয়ে উম্মে হানি ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বড় ধাক্কা দেন। এছাড়া তাসমিয়া রুবাব, ফাতিমা সানা, নাশরা সান্ধু ও আয়েশা জাফর একটি করে উইকেট নেন।
শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১১৪ রান করে বাংলাদেশ। ৩১ রানের জয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে পাকিস্তান।