দিনভর কাজের ব্যস্ততা, পড়াশোনা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা নিজের জন্য একটু সময় বের করতে গিয়ে অনেকেই রাতে দেরি করে ঘুমান। কখনো আবার কাজের চাপ বা দুশ্চিন্তায় ঘুম কম হয়। এক-দুই দিন এমন হলে বড় সমস্যা নাও হতে পারে। কিন্তু নিয়মিত কম ঘুমানোর অভ্যাস শরীরের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। শুধু পরদিন সকালে ঘুমঘুম ভাব বা ক্লান্তি নয়, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে প্রভাব পড়তে পারে হৃদযন্ত্রের বা হার্টের ওপরও। তাই প্রতিদিনের ঘুমের অভ্যাসে কয়েকটি পরিবর্তন আনা জরুরি।
ঘুমের সময় শরীরে যা ঘটে
ঘুমের সময় শরীর বিশ্রাম নেয়ার পাশাপাশি নিজেকে মেরামত ও পুনরুদ্ধারের কাজ করে। এ সময় হৃদ্যন্ত্র, রক্তনালি এবং শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। ভারতের রাজকোটের স্টার্লিং হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট চিকিৎসক মৃদুল শর্মার মতে, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ঘুমের সময় সাধারণত রক্তচাপ কিছুটা কমে আসে। কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম না হলে দীর্ঘ সময় রক্তচাপ বেশি থাকতে পারে। একই সঙ্গে ঘুমের ঘাটতিতে শরীরে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল বেড়ে যেতে পারে। রক্তচাপ বৃদ্ধি ও কর্টিসলের এই প্রভাব হৃদ্যন্ত্র এবং রক্তনালির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
দীর্ঘদিনের ঘুমের ঘাটতি নিয়ে বিভিন্ন গবেষণাতেও হৃদযন্ত্রের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি। কিছু গবেষণায় রাতে ছয় ঘণ্টার কম ঘুমের সঙ্গে ধমনিতে প্লাক জমার বা অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসের ঝুঁকির সম্পর্কও দেখা গেছে।
প্রতিদিন কত ঘণ্টা ঘুমাবেন
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণভাবে প্রতি রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। তবে শুধু কত ঘণ্টা ঘুমাচ্ছেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জাগা, সঠিক সময়ে ঘুমানো এবং ঘুমের মানও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে ঘুমের ৫ অভ্যাস
১. নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমান ও জাগুন।
২. দিনের শেষভাগে ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন
৩. ঘুমানোর আগে স্ক্রিনের ব্যবহার কমান
৪. ঘর রাখুন ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত
৫. নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
ব্যস্ত জীবনে ঘুমের সময় কমিয়ে কাজ বা বিনোদনের সময় বাড়ানো সহজ মনে হতে পারে। কিন্তু নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুমকেও গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস