শিরোনাম
নারায়ণগঞ্জে শর্ট সার্কিটে মাদ্রাসার ছাদে আগুন, দগ্ধ ৫ ছাত্রী সারা দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী বিদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা পরমাণু শক্তির বেসামরিক ব্যবহার নিয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি স্বাক্ষর পুলিশের নতুন ইউনিট গঠনের ঘোষণা মিরপুরে রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা-লুটপাটের মামলায় গ্রেপ্তার ৪ শেখ হাসিনার বিচার ও আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে অবস্থান জানাল যুক্তরাষ্ট্র ফ্যাসিবাদের দোসরদের গ্রেপ্তার করলে পুরস্কার পাবে পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের দেশের বাজারে আবারও কমল স্বর্ণ ও রুপার দাম

মেঘনায় ট্রলারডুবি: একই পরিবারের ৩ জনের লাশ উদ্ধার

স্কাই নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ একই পরিবারের চারজনের মধ্যে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দুদিন ধরে উদ্ধার অভিযানের পর শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন তাদের বাবা হেলাল উদ্দিন (৫৫)।

নিহতরা হলেন—হেলাল উদ্দিনের ছেলে সজীব (২৪), মেয়ে সামিয়া (১৭) ও পাঁচ বছর বয়সী ছেলে সামিন।

শনিবার সকাল ৮টার দিকে বৈদ্যেরবাজার এলাকার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে স্বজনরা মরদেহগুলো শনাক্ত করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি থেকে আত্মীয়ের বিয়েতে যোগ দিতে সোনারগাঁয়ের মায়াময়ী গ্রামের উদ্দেশে ট্রলারে করে রওনা দেন হেলাল উদ্দিনের পরিবারসহ অন্যরা। ট্রলারে গরু-ছাগলসহ মোট ১৩ জন যাত্রী ছিলেন।

বৈদ্যেরবাজারের দিকে যাওয়ার পথে বিকেল আনুমানিক ২টার দিকে সোনাময়ী এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি উল্টে মেঘনা নদীতে ডুবে যায়।

ট্রলারডুবির পর আটজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। পরে কাছাকাছি থাকা আমান কোম্পানির একটি ট্রলার ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালায়। এ সময় রায়েসা বেগম (৪০) নামে এক নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে হেলাল উদ্দিন, তার ছেলে সজীব, মেয়ে সামিয়া ও শিশু ছেলে সামিন নিখোঁজ থাকেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় প্রথম দিনের অভিযান বন্ধ করা হয়।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত ডুবুরি দল মেঘনা নদীতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। তবে ওই দিন নিখোঁজ চারজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ সময় ডুবে যাওয়া ট্রলার এবং গরু-ছাগল উদ্ধার করা হয়।

এরপর শনিবার সকালে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। ভোরে মেঘনা নদীতে সামিয়ার মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল অভিযান চালিয়ে সজীব ও শিশু সামিনের মরদেহ উদ্ধার করে। সকাল ৮টার দিকে বৈদ্যেরবাজার এলাকার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে তাদের মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো হেলাল উদ্দিন নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে।

সামিয়ার মামা হায়াত মিয়া বলেন, শনিবার ভোরে মেঘনা নদীতে সামিয়ার মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সজীব ও শিশু সামিনের মরদেহ উদ্ধার করেন। স্বজনরা মরদেহগুলো শনাক্ত করার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে কুমিল্লার শ্রীমদ্দি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2021 Skynews24.net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com