গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, বেসামরিক মানুষের মৃত্যু এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের বক্তব্যে ব্যাপক উদ্বেগ উঠে এসেছে। পাশাপাশি ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন অনেক নেতা।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় বিভিন্ন দেশের কয়েক ডজন কূটনীতিক হল থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় কেউ কেউ প্রতিবাদ জানান।
ঘটনাটি গাজা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলকে ঘিরে মতবিরোধের দৃশ্যমান প্রকাশ হিসেবে উঠে আসে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জাতিসংঘের অধিবেশনে আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রতি আরও দৃঢ় অঙ্গীকারের আহ্বান জানান। গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ফিলিস্তিন ও ইরান ইস্যুতে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিরোধিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জাতিসংঘে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এর নিন্দা জানান। এটি সানচেজের বক্তব্য হিসেবে উদ্ধৃত করা হয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তার ভাষণের সময় জাতিসংঘে ইসরায়েলি প্রতিনিধিদল হল থেকে বেরিয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিরা তাকে করতালি দিয়ে সমর্থন জানান।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থনকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেন, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজার বর্তমান পরিস্থিতি দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।
এদিকে গাজায় ইসরায়েলি দুই রিজার্ভ সেনা নিহত হওয়ার খবরও এসেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, উত্তর গাজায় তাদের পরিচালিত একটি বিস্ফোরক ড্রোন বিধ্বস্ত হয়ে বিস্ফোরিত হলে মাস্টার সার্জেন্ট (রিজার্ভ) নাদাভ কালি ও মাস্টার সার্জেন্ট (রিজার্ভ) অফেক মোয়ালেম নিহত হন। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ড্রোনটি একটি সামরিক পোস্টের ভেতরে বিধ্বস্ত হওয়ার পর সেটি পরীক্ষা করতে গেলে বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাটি তদন্ত করছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।