যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব শর্ত মেনে নিলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। তবে ওয়াশিংটন সব শর্ত মেনে নিলেও পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না বলে জানিয়েছে ইরান।
শুক্রবার রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আগে সাত দিনের মধ্যে লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। একই সময়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, দেশটির জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ প্রস্তাবের কথা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় হরমুজ প্রণালি এখন গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির বিষয় হয়ে উঠেছে।
ইরান মার্কিন অবরোধ থেকে মুক্তি চায়। অন্যদিকে ওয়াশিংটন বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে চাইছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তির আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই চুক্তি হতে পারে বলে আশা জানান।
তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্ত মেনে নিলে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বসতে প্রস্তুত তারা। তবে ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার কিংবা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর মতো বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না ইরান। উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দাবি।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলসহ পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার বিষয়টি তারা তুলে ধরে আসছে। তবে তেহরান বরাবরই পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ।
এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চললেও দুই পক্ষের অবস্থানে এখনও গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।