ইতালির ডাগআউটে রবার্তো মানচিনির ফেরাটা রাঙাতে পারল না আজ্জুরিরা। ঘরের মাঠে বেলজিয়ামের বিপক্ষে শুরু থেকেই একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করেছে ইতালি। শেষ পর্যন্ত মিকা গোডটস ও দোদি লুকেবাকিওর গোলে ২–০ ব্যবধানে হেরে নেশনস লিগের নতুন অধ্যায় শুরু করেছে তারা।
২০২৩ সালে ইতালির দায়িত্ব ছাড়ার পর আবারও জাতীয় দলের কোচ হিসেবে ফিরেছেন মানচিনি। কিন্তু দ্বিতীয় অধ্যায়ের শুরুটাই হলো হতাশায়। ফ্রান্স ও তুরস্কের মতো কঠিন প্রতিপক্ষ থাকা গ্রুপে প্রথম ম্যাচেই পয়েন্ট হারিয়ে চাপে পড়ে গেল ইতালি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ধার দেখায় বেলজিয়াম। সপ্তম মিনিটে শার্ল দে কেতেলারের শট এক হাতে ঠেকিয়ে দেন ইতালির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। কিছুক্ষণ পর অবশ্য ইতালিও গোলের কাছাকাছি যায়। নিকোলো বারেল্লার পাস থেকে ফ্রাঞ্চেস্কো পিও এস্পোসিতোর শট পোস্টে লেগে ফেরে। পরে অবশ্য অফসাইডের বাঁশি বাজে।
এরপর মোইজে কিনের দূরপাল্লার শটও সামলে নেন বেলজিয়ান গোলরক্ষক সেন লামেন্স। তবে ইতালির আক্রমণের মাঝেই এগিয়ে যায় সফরকারীরা।
৩১ মিনিটে রিকার্দো রোমানোর ভুল পাস থেকে বল পেয়ে যান কেভিন ডি ব্রুইনা। তার কাছ থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সে ঢুকে জিয়ানলুকা মানচিনিকে কাটিয়ে কাছের পোস্ট দিয়ে জালে পাঠান গোডটস। এগিয়ে যায় বেলজিয়াম।
এরপর দোন্নারুম্মার ওপর চাপ আরও বাড়তে থাকে। দে কেতেলারে ও নিকোলাস রাসকিনের পরপর দুটি শট ঠেকানোর পর গোডটসের হেডও দুর্দান্তভাবে রুখে দেন ইতালির গোলরক্ষক। প্রথমার্ধের শেষ দিকে তাঁর আরেকটি বাঁকানো শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।
বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ইতালি। কামবিয়াগির ক্রস থেকে কিনের ভলি দুর্দান্তভাবে ঠেকান লামেন্স। পরে পিও এস্পোসিতোর শটও আটকে দেন বেলজিয়ান গোলরক্ষক।
কিন্তু ইতালির সেই চাপকে কাজে লাগিয়ে উল্টো ব্যবধান দ্বিগুণ করে বেলজিয়াম। নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যান দোদি লুকেবাকিও। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল পাঠান দূরের নিচের কোণায়। ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম।
এরপর একাধিক বদলি খেলোয়াড় নামিয়েও ম্যাচের চিত্র বদলাতে পারেননি মানচিনি। অভিষেক হয় মোমো জোমা ও ইসা দৌম্বিয়ার। দাভিদে ফ্রাত্তেসির শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়, কালাফিওরিও গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন।
শেষ দিকে অবশ্য সবচেয়ে বড় সুযোগটি পেয়েছিল ইতালি। জর্জিও স্কালভিনির কাছ থেকে নেওয়া শট ক্রসবারের নিচের অংশে লেগে ফিরে আসে। ফলে গোলের দেখা না পেয়েই ২–০ ব্যবধানে হারতে হয় স্বাগতিকদের।
ম্যাচ শেষে উত্তেজনাও ছড়ায়। জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা ও রোমেলু লুকাকুর মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। সব মিলিয়ে মানচিনির প্রত্যাবর্তনের রাতটি ইতালির জন্য হয়ে থাকল হতাশারই।