ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পথে’ থাকার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান নিজেদের আচরণে পরিবর্তন না আনলে সামনে বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে তিনি এখন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছেন। সাক্ষাৎকারে যুদ্ধ নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো, ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়ার সিদ্ধান্ত আমি নেব কি না, আর নিলে কখন নেব? তাদের বরং নিজেদের আচরণ ঠিক করা উচিত।’
ইরানকে নিয়ে তার সামনে তিনটি পথ রয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প। এর মধ্যে রয়েছে দেশটিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া, অর্থনৈতিকভাবে ধুঁকতে দেয়া অথবা একটি সমঝোতায় পৌঁছানো। তিনি বলেন, ‘অদূর ভবিষ্যতে বড় ধরনের কিছু ঘটতে যাচ্ছে।’
এদিকে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি কূটনৈতিকভাবে আলোচনায় বসার আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসার বিষয়ে তিনি ‘সম্ভবত আগ্রহী’।
অবশ্য সম্ভাব্য ওই বৈঠক নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তেহরান বা পেজেশকিয়ানের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের মূল পর্ব ১৮ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মূল সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।
আঞ্চলিক সংঘাতের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুতিদের সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরও ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে না জড়ানোর বিষয়ে হুতিরা সম্মত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অবশ্য সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ‘শেষ হয়ে যাবে’। এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার কথা উল্লেখ করে রোববার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে।
পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করে বলেছে, ইরান ও দেশটির সমর্থক গোষ্ঠীগুলো বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।