শিরোনাম

টানা বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত ২০ গ্রাম

স্কাই নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

ময়মনসিংহ: টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদীর বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় তলিয়ে গেছে পাকা বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।

বুধবার (১৩ মে) রাত ১০টা পর্যন্ত হালুয়াঘাট উপজেলার মাজরাকুড়া, কুমারগাতী, আচকীপাড়া, তেলীখালী, কড়ইতলী, মহিষলেটি, গোবরাকুড়া, কালিয়ানিকান্দা, মনিকুড়া, রাংরাপাড়া, বুড়াঘাট, বোয়ালমারা, ডুমনীকুড়া, কাতলমারী, সূর্যপুর, সুমনিয়াপাড়া ও মহাজনীকান্দাসহ অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

এ ছাড়া পাশের ধোবাউড়া উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া ও গামারীতলা ইউনিয়নের কামালপুর, রায়পুর এবং বাঘবেড় ইউনিয়নের মেকিয়ারকান্দা ও দক্ষিণ ডোমঘাটাসহ কয়েকটি এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা এ অঞ্চলে মঙ্গলবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। অতিরিক্ত পানির চাপে বুধবার সকালে হালুয়াঘাট উপজেলার ভূবনকুড়া ইউনিয়নের মাজরাকুড়া এলাকায় মেনংছড়া নদীর বাঁধ এবং গাজীরভিটা ইউনিয়নের মধ্য বোয়ালমারা এলাকায় বুড়াঘাট নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। এতে আশপাশের নিম্নাঞ্চলে দ্রুত পানি ঢুকে পড়ে। একই দিন বিকেলে ধোবাউড়া উপজেলার গামারীতলা ইউনিয়নের দক্ষিণ গৌরিপুর এলাকায় নেতাই নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে সেখানেও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়।

হালুয়াঘাট উপজেলার বোয়ালমারা গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ভারী বৃষ্টির সময় থেকেই তারা শঙ্কায় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত নদীর বাঁধ ভেঙে ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। দ্রুত পানি না নামলে ধান পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ধোবাউড়া উপজেলার কামালপুর গ্রামের কৃষক আসাদ মিয়া বলেন, তিন কাটা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। বাঁধ ভেঙে সেই জমিও পানির নিচে চলে গেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পানি লোকালয়ের দিকে এগোচ্ছে বলে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

দুই উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, হালুয়াঘাটে সবচেয়ে বেশি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলাটিতে ২২ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৭০ হেক্টর জমির ধান ইতিমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। ধোবাউড়ার কয়েকটি গ্রামের ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে দুটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে এবং দুটি কাঁচা রাস্তা ভেঙে গেছে। বৃষ্টি না হলে দ্রুত পানি নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, গামারীতলা, ঘোষগাঁও ও দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. এনামুল হক বলেন, কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে এখনো ব্যাপক ফসলহানির খবর পাওয়া যায়নি। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে কৃষকের ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2021 Skynews24.net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com