শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রবল শীতকালীন ঝড়, বন্যা, ভূমিধস ও উপকূলীয় প্লাবনের আশঙ্কায় আগাম প্রস্তুতি নিতে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এ ঘোষণা দেন রাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
এবারের এল নিনোকে আবহাওয়াবিদরা সুপার এল নিনো হিসেবে বর্ণনা করছেন। এরই মধ্যে এ জলবায়ু পরিস্থিতি তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙছে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ায় এল নিনোর প্রভাবে সাধারণত শীতকালে ঝড় ও বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বেড়ে যায় এবং বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়।
সম্প্রতি হারিকেন মেরি ও এল নিনোর প্রভাবে ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি উপকূলীয় শহরে বড় ঢেউ, বন্যা ও উপকূল ক্ষয়ের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ঘটনা আসন্ন শীতের সম্ভাব্য পরিস্থিতির একটি আভাস দিয়েছে।
গভর্নর নিউসমের জরুরি ঘোষণার আওতায় চরম আবহাওয়ার আগে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বন্যা মোকাবিলা, উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ন্যাশনাল গার্ডকেও প্রস্তুত রাখা হবে।
এ ছাড়া সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক বিবৃতিতে নিউসম বলেন, আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়ার লক্ষ্য হলো স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া, জরুরি সেবাকর্মীদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা এবং পরিবারগুলোকে আশ্বস্ত করা যে চরম আবহাওয়ার জন্য রাজ্য প্রস্তুত।
তিনি বলেন, এই এল নিনোর জন্য আমরা আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। কারণ প্রত্যেক ক্যালিফোর্নিয়াবাসীর নিজের ঘরে নিরাপদ থাকা, সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং চরম আবহাওয়ার সময় সুরক্ষিত থাকার অধিকার রয়েছে।
এল নিনো একটি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিস্থিতি, যা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলের পানির স্বাভাবিকের তুলনায় উষ্ণ হয়ে ওঠার ফলে তৈরি হয়। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার ধরন বদলে যায়। কোথাও খরা বাড়তে পারে, আবার কোথাও প্রবল বৃষ্টিপাত ও ঝড়ের ঝুঁকি বেড়ে যায়। একই সঙ্গে বৈশ্বিক তাপমাত্রাও বাড়তে পারে।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।
গভর্নরের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনো হওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশের বেশি। ঐতিহাসিক মাত্রার শক্তিশালী এল নিনো হওয়ার সম্ভাবনাও ৭৫ শতাংশ বলে জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যাশিত সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছানোর কয়েক মাস আগেই এল নিনো এ সপ্তাহে এ ঘটনার সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে।
এ ধরনের শক্তিশালী এল নিনো ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রবল বৃষ্টিপাত, বন্যা, ভূমিধস ও উপকূলীয় প্লাবন ঘটাতে পারে। এতে বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, অবকাঠামোর ক্ষতি এবং ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কা রয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদবিষয়ক সচিব ওয়েড ক্রফুট বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে তারা জানেন বলেই সম্ভাব্য ঐতিহাসিক মাত্রার এল নিনোর আগেই জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মুখে পড়া ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি কাউন্টির জন্যও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন গভর্নর নিউসম।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান