সৌদী আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পোস্টাল ভোট সংগ্রহকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ও সংশ্লিষ্ট অডিও কথোপকথনের ভিত্তিতে অভিযোগ উঠেছে, জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রবাসীদের বিপুল সংখ্যক পোস্টাল ব্যালট সংগ্রহ করেছেন।
ভাইরাল হওয়া কথোপকথনে বলা হয়, একজন প্রবাসী ভোটার তাঁর পোস্টাল ব্যালট ফেরত চাইলে জনৈক লিয়াকত নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ভোটারের সম্মতি ছাড়াই ব্যালটটি সংগ্রহ করা হয়েছিল। ওই ঘটনার ভিডিও ও পরবর্তী ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে থাকা মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, অডিও কথোপকথনে লিয়াকত ভিডিওতে প্রদর্শিত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন বলে দাবি করা হয়েছে।
অডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, তিনি নিজে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টির মতো পোস্টাল ব্যালট সংগ্রহ করেছেন। যাচাইয়ের সুবিধার্থে কথোপকথনের অডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, সৌদি আরবের পাশাপাশি বাহরাইন ও কুয়েতেও একই পদ্ধতিতে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রবাসীদের পোস্টাল ভোট সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে প্রবাসী ভোটারদের স্বাধীন ভোটাধিকার ও নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে নির্বাচন কমিশন কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এ ঘটনায় কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সচেতন মহলের মতে, প্রবাসী ভোট ব্যবস্থায় পোস্টাল ব্যালট সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি। অন্যথায় প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।