মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন বলেছেন, সরকারের অংশ হওয়ায় অনেক বিষয় প্রকাশ্যে বলা বা করা সম্ভব হয় না। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক পক্ষ ভিত্তিহীন বক্তব্য ও বড় বড় দাবি করে বেড়াচ্ছে। অথচ গত বছর সংকটের সময় তারা কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও লেখেন, ঢাকার জনগণ যখন যমুনা ঘেরাও করেছিল, তখন সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ‘প্রিয় অভিভাবক’ চাপের মুখে পদত্যাগের কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু সে সময় সমালোচকদের কাউকেই মাঠে দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে প্রতিমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, জনগণ বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে কিছু রাজনৈতিক শক্তিকে সুযোগ দিলেও পরবর্তীতে টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি, লুটপাট, মব কালচার এবং জুলাইয়ের চেতনা বিক্রির মতো কর্মকাণ্ডের কারণে মানুষের সেই আশা ভেঙে গেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাবশালীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ইশরাক হোসেন দাবি করেন, নির্বাহী আদেশে মামলা প্রত্যাহার, ব্যবসার লাইসেন্স প্রদান, ট্যাক্স মওকুফসহ নানা সুবিধা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশকে চরমপন্থী ধর্মীয় উগ্রবাদের দিকে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যারা একসময় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, তাদের এখন রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ‘জুলাইয়ের চেতনা’ ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ারও অভিযোগ তোলেন তিনি।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন লেখেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এলেও বর্তমানে প্রতিমন্ত্রী হওয়ার কারণে অনেক বিষয়ে প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
পোস্টের শেষাংশে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যদি সরকারের অংশ না থাকতেন, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিপক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিতেন।