শিরোনাম
এমবাপে-ভিনিসিয়ুসের নৈপুণ্যে মোনাকোর জালে রিয়ালের ৬ গোল চানখারপুলে ৬ জনকে হত্যার রায় পেছানো হয়েছে, পরবর্তী তারিখ ২৬ জানুয়ারি গাজায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ভয়াবহ ভাইরাস, নজিরবিহীন স্বাস্থ্য বিপর্যয় দক্ষিণ আফ্রিকায় স্কুলবাস-ট্রাক সংঘর্ষ, ১৩ শিশু নিহত পবিত্র শবেবরাত ৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত: ৩ জন জিম্মি ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট: প্রধান উপদেষ্টা শুধু মিছিল-মিটিং নয়, রাজনীতি করতে হবে মানুষের কল্যাণে: তারেক রহমান বাংলাদেশিদের জন্য ভিসায় বন্ড বাধ্যতামূলক করল যুক্তরাষ্ট্র কম্বল দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে ডেকে বিধবাকে ধর্ষণ জামায়াত কর্মীর

মহৎ চরিত্র গঠনে শহীদ জিয়া হচ্ছেন এক আদর্শ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত

স্কাই নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় রবিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬

আগামীকাল সোমবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে রোববার দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বাণী দিয়েছেন।

বাণীতে তিনি শহীদ জিয়াকে একজন স্বপ্নদ্রষ্টা রাষ্ট্রনায়ক বলে অভিহিত করে বলেছেন, দেশপ্রেম, সাহস, সততা, সহজ-সরল-অনাড়ম্বর জীবন-যাপনের প্রতীক জিয়াউর রহমানের অবদান দেশের জন্য অসামান্য। সমাজে যেকোন ব্যক্তির মহৎ চরিত্র গঠনে শহীদ জিয়া হচ্ছেন এক আদর্শ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। শহীদ জিয়ার বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনেই আমাদের জাতিসত্ত্বার সঠিক স্বরূপটি ফুটে ওঠে- যা আমাদের ভৌগলিক জাতিসত্ত্বার সুনির্দিষ্ট পরিচয় দান করে।

তিনি বলেন, শহীদ জিয়া ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা রাষ্ট্রনায়ক। মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অধিনায়ক, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনের প্রবক্তা ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য জিয়াউর রহমানকে বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তিনি ছিলেন তাঁর জীবদ্দশায় সকল ক্রান্তিকাল উত্তরণে অন্যতম দিশারী। রণনায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমান ছিলেন দেশাবাসীর কাছে সমাদৃত ও সম্মানিত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যার বিরুদ্ধে তিনি সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দীর্ঘ ৯ মাস অসীম বীরত্বে দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য লড়াই চালিয়ে যান। স্বাধীনতাত্তোর ক্ষমতাসীন মহল যখন মানুষের বাক-ব্যক্তি ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে হরণ করে গণতন্ত্রকে মাটিচাপা দিয়েছিল, দেশকে ঠেলে দিয়েছিলো দুর্ভিক্ষের করালগ্রাসে, বাংলাদেশ পরিচিতি লাভ করে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে, জাতির এরকম এক মহাসংকটকালে ৭ই নভেম্বর সৈনিক জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে শহীদ জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন। একজন সৈনিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও তাঁর জীবনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দেশের সকল সংকটে তিনি ত্রাণকর্তা হিসেবে বারবার অবতীর্ণ হয়েছেন। ক্ষমতায় এসেই তিনি অর্থনৈতিক, সামাজিক ন্যায়বিচার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন। উৎপাদনের রাজনীতি, দেশকে স্বনির্ভর করে গড়ে তুলতে তিনি কৃষি বিপ্লব, গণশিক্ষা বিপ্লব ও শিল্প উৎপাদনে বিপ্লব, সেচ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে স্বেচ্ছাশ্রম ও সরকারি সহায়তার সমন্বয় ঘটিয়ে ১৪০০ খাল খনন ও পুনঃখনন করেন। গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রবর্তন করে অতি অল্প সময়ে ৪০ লাখ মানুষকে অক্ষর দান করেন।
এছাড়া গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন করে গ্রামাঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থা করেন। তিনি পল্লী চিকিৎসক ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন, ফলে তাঁর আমলে ২৭৫০০ পল্লী চিকিৎসক নিয়োগপ্রাপ্ত হয় এবং তাতে গ্রামীণ জনগণের আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধি হয়। তিনি যেমন ছিলেন গণতান্ত্রিক তেমনি ছিলেন দেশপ্রেমিক, শহীদ জিয়া যেকোন আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে ছিলেন আপোসহীন নির্ভিক যোদ্ধা। যে কারণে তিনি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন করে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক জোট ‘সার্ক’ গঠন করেন। এভাবেই তিনি স্বীয় জাতির মর্যাদাকে উর্দ্ধে তুলে ধরেন। তাই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা নিজেদের নীলনক্শা বাস্তবায়নের কাঁটা ভেবে জিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করে। কিন্তু তাঁর এই আত্মত্যাগে জনগণের মধ্যে গড়ে উঠে দেশবিরোধী চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে এক ইস্পাতকঠিন গণঐক্য।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশপ্রেম, সাহস, সততা, সহজ-সরল-অনাড়ম্বর জীবন-যাপনের প্রতীক জিয়াউর রহমানের অবদান দেশের জন্য অসামান্য। সমাজে যেকোন ব্যক্তির মহৎ চরিত্র গঠনে শহীদ জিয়া হচ্ছেন এক আদর্শ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। শহীদ জিয়ার বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনেই আমাদের জাতিসত্ত্বার সঠিক স্বরূপটি ফুটে ওঠে-যা আমাদের ভৌগলিক জাতিসত্ত্বার সুনির্দিষ্ট পরিচয় দান করে। ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’আমাদের দৈশিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখারও অবিণাশী দর্শন। আমি এই মহান রাষ্ট্রনায়কের জন্মবার্ষিকীতে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা; গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার, মানবিক সাম্য, ন্যায়-বিচার ফিরিয়ে আনা এবং মানুষের হারানো মৌলিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানাই। আল্লাহ হাফেজ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।”

এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2021 Skynews24.net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com