<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>অপরাধ &#8211; skynews24.net</title>
	<atom:link href="https://skynews24.net/archives/category/%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A7/feed" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://skynews24.net</link>
	<description>স্কাইনিউজ২৪</description>
	<lastBuildDate>Sat, 17 Oct 2026 15:47:42 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.1.3</generator>
	<item>
		<title>নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠানের আড়ালে ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাই’ যেভাবে টেন্ডার ছাড়াই সমাজকল্যাণের ৩৪২ কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিলেন</title>
		<link>https://skynews24.net/archives/27490</link>
					<comments>https://skynews24.net/archives/27490#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 17 Oct 2026 15:47:42 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Leadnews]]></category>
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://skynews24.net/?p=27490</guid>

					<description><![CDATA[প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র বাতিল, আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অযোগ্যতার সনদ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গোপন নির্দেশনা উপেক্ষা করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সম্পন্ন হয়েছে ৩৪২ কোটি ৭০ লাখ টাকার দুটি বৃহৎ সরকারি কেনাকাটা। বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ‘ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড’ (ডিইডব্লিউ)- কে সামনে রেখে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতির (ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট) মাধ্যমে এই বিশাল কাজ হাসিল করা হয়েছে। তবে এ [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র বাতিল, আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অযোগ্যতার সনদ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গোপন নির্দেশনা উপেক্ষা করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সম্পন্ন হয়েছে ৩৪২ কোটি ৭০ লাখ টাকার দুটি বৃহৎ সরকারি কেনাকাটা। বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ‘ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড’ (ডিইডব্লিউ)- কে সামনে রেখে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতির (ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট) মাধ্যমে এই বিশাল কাজ হাসিল করা হয়েছে। তবে এ সংক্রান্ত কাগজপত্রে দেখা যাচ্ছে, সরকারি কাজের মূল অর্থনৈতিক সুবিধাভোগী নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠানটি নয়, বরং পুরো বিষয়টির পেছনে সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াৎ হোসেন বকুলের ছোট ভাই সরদার তোফাজ্জল হোসেন লিয়াকতের সরাসরি যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সরদার তোফাজ্জল হোসেন লিয়াকতের পরিবারের মালিকানাধীন একটি অজানা ও অভিজ্ঞতাহীন প্রতিষ্ঠান এই বিতর্কিত ক্রয় চুক্তির মূল সুবিধাভোগী।</p>
<p>সরকারি অর্থ লুটপাটের সুবিধার্থে এক্ষেত্রে নৌবাহনীর প্রতিষ্ঠানটি- ডিইডব্লিউ’র নাম ব্যবহার করা হয়েছে শুধুমাত্র। তবে এই প্রতিষ্ঠানটিও আর্থিক সুবিধার একটি অংশ পেয়েছে।</p>
<p>অবশ্য, এই অবৈধ ক্রয় চুক্তির সঙ্গে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফও জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। মালামাল সরবরাহ নেওয়া হয়েছে অত্যন্ত নিম্নমানের।</p>
<p>মালামালের মূল্য ধরা হয়েছে বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি। নথিপত্রে দেখা যাচ্ছে, ৩৪২ কোটি ৭০ লাখ টাকার কাজে মধ্যস্বত্বভোগীদের মুনাফা হয়েছে অন্ততঃ ১০০ কোটি টাকা। এ থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাই বা তার পরিবারের প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে ট্যাক্স-ভ্যাট বাদে প্রায় ৬৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। তবে সরকারের ক্রয়বিধি লঙ্ঘন করে প্রতারণার মাধ্যমে টেন্ডার ছাড়াই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাইয়ের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার বিনিময়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বা এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-সচিবের হিস্যাটা কত, তা অলিখিত।</p>
<p>তিন প্রতিষ্ঠানের অস্বাভাবিক চুক্তি<br />
গত আগস্ট মাসে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং ডিইডব্লিউ-এর মধ্যে ৩২০ কোটি ৭১ লাখ টাকার একটি চুক্তি হয়। এর আওতায় ৪৮,০০০ টাকা দরে ৬৬,৮১৫টি অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেট সরবরাহের কাজ পায় ডিইডব্লিউ। কিন্তু এই চুক্তি স্বাক্ষরের ঠিক পরদিনই, ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান ডিইডব্লিউ, ঢাকাভিত্তিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ‘স্যালস্ট্রা লিমিটেড’ এবং ‘বুরাক ব্রেক লিমিটেড’ নামক একটি অচেনা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬ পৃষ্ঠার একটি গোপন ত্রিপক্ষীয় যৌথ ব্যবসায়িক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।<br />
উক্ত চুক্তি অনুযায়ী নৌবাহিনীর পরিচালিত ডিইডব্লিউ কোনো প্রকার মূলধন বিনিয়োগ করবে না, কোনো পরিচালন ব্যয় বহন করবে না এবং ব্যবসার কোনো লাভ-ক্ষতির দায়ভারও নেবে না। কেবল সরকারি চুক্তি এনে দেওয়ার (যাকে নথিতে ‘গুডউইল’ বা সুনাম হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে) বিনিময়ে তারা নিশ্চিতভাবে পাবে মোট চুক্তিমূল্যের ৪ শতাংশ বা প্রায় ১২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। মোবাইল ফোন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান স্যালস্ট্রা লিমিটেড অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেট আমদানি ও সরবরাহ বাবদ পাবে ১৭৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা। সমস্ত কর, নির্দিষ্ট পেমেন্ট এবং ব্যাংক চার্জ কাটার পর অবশিষ্ট সমস্ত মুনাফা জমা হবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাইয়ের প্রতিষ্ঠান ‘বুরাক ব্রেক লিমিটেড’-এর দুটি পৃথক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। ২০ শতাংশ আনুমানিক কর হিসাব করে দেখা গেছে, বুরাক ব্রেক পাবে প্রায় ৬৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা- যা নৌবাহিনীর লভ্যাংশের প্রায় পাঁচ গুণ।</p>
<p>অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বুরাক ব্রেক লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর নিবন্ধিত হয়। এর ঠিকানা: অ্যাপার্টমেন্ট সি-২, বাড়ি ১-এ, রোড ৭৯, গুলশান-২, ঢাকা। নিবন্ধনের সময় এর প্রতিষ্ঠাতা দুই পরিচালক সরদার রাফিন এস এ হোসেন-এর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর এবং তাঁর বড় বোন অনিকা রাইদা লিয়ার বয়স ছিল ২৩ বছর। এই দুই ভাই-বোন নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাবো) আসনের চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের ভাতিজা ও ভাতিজি। তাদের বাবা সরদার তোফাজ্জল হোসেন লিয়াকত নরসিংদী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছোট ভাই।<br />
আইটি বা ট্যাবলেট সরবরাহের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা, নিজস্ব ওয়েবসাইট বা পূর্বের কাজের রেকর্ড না থাকা সত্ত্বেও কেবল রাজনৈতিক প্রভাবে এত বড় আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।</p>
<p>আমলা ও রাজনীতিবিদের গোপন মিটিং<br />
চুক্তি ও ক্রয়নথিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বকুল বা তাঁর ভাই লিয়াকতের নাম সরাসরি না থাকলেও, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ক্রয় প্রক্রিয়া চলাকালীন লিয়াকতের সরাসরি উপস্থিতির ছবি সামনে এসেছে। সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ এবং নৌবাহিনীর ডিজিটাল ক্যামোফ্লাজ পোশাক পরা কর্মকর্তাদের সঙ্গে লিয়াকতকে একই টেবিলে বসে আলোচনা করতে দেখা গেছে। লিয়াকত ক্রয়চুক্তিতে তাঁর সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও সরকারি দপ্তরে তাঁর উপস্থিতি নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বকুলও এই প্রক্রিয়ায় নিজের কোনো প্রত্যক্ষ প্রভাব বা সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। এদিকে চুক্তি সম্পাদনের আগে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গেও তার দপ্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাই লিয়াকতকে বৈঠক করতে দেখা গেছে। এ সংক্রান্ত ছবিও সামনে এসেছে।</p>
<p>প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা লঙ্ঘন<br />
২০২৬ সালের ২৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ থেকে ৪০টিরও বেশি মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থায় একটি গোপন চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, সশস্ত্র বাহিনী বা সামরিক বাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি কেনাকাটায় যুক্ত করতে হলে অবশ্যই আগে থেকে প্রধানমন্ত্রীর পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে। সমাজকল্যাণ সচিব এবং নৌবাহিনী প্রধানকে পাঠানো এই স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘স্ট্রেংদেনিং সোশ্যাল প্রোটেকশন ফর ইমপ্রুভড রেজিলিয়েন্স, ইনক্লুশন অ্যান্ড টার্গেটিং (SPIRIT)’ প্রকল্পের ৩২০.৭১ কোটি টাকার ট্যাবলেট চুক্তি এবং প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের ২১.৯৯ কোটি টাকার হুইলচেয়ার চুক্তির কোনোটিতেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পূর্বানুমোদনের নথিপত্র পাওয়া যায়নি।</p>
<p>বাজারমূল্যের তূলনায় আকাশপাতাল ব্যবধান<br />
সরকার প্রতিটি এক্সট্রা এক্সটি ওয়ান (Xtra XT1) ট্যাবলেটের (কীবোর্ড ও স্টাইলাসসহ) দর নির্ধারণ করেছে ৪৮,০০০ টাকা। অথচ যৌথ চুক্তিতে দেখা যায় স্যালস্ট্রা এই ট্যাবলেট সরবরাহ করছে মাত্র ২৬,৮২৮ টাকায়। অন্যদিকে বাজারে সমমানের স্যামসাং গ্যালাক্সি ট্যাব G9+ (Samsung Galaxy Tab A9+) কীবোর্ডসহ দর ৩৪,০০০ টাকা এবং লেনোভো ট্যাব Gg11 (Lenovo Tab M11) ২৬,৫০০ টাকা। এতে অতিরিক্ত ব্যয়ের ব্যবধান দাঁড়ায় প্রায় ৯৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।</p>
<p>অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকায় খুচরা বাজারে সাধারণ প্রাপ্তবয়স্কদের একটি ফোল্ডিং হুইলচেয়ার ৬,৫০০ থেকে ৭,৫০০ টাকায় কেনা সম্ভব। অন্যদিকে চীনের বিভিন্ন কারখানা থেকে ১০টির বেশি ফোল্ডিং হুইলচেয়ার অর্ডার দিলে প্রতিটির দাম পড়ে ৩,৫০০ থেকে ৪,৩০০ টাকা। অথচ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের মাধ্যমে মোট ২৬ হাজার হুইলচেয়ার (যার মধ্যে ২১ হাজার প্রাপ্তবয়স্কদের) সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতিটির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৮,১৭৫ টাকা।<br />
২,০০০টি পা-চালিত সেলাই মেশিন কেনা হয়েছে প্রতি পিস ১৪,৫০০ টাকায়, যার গতির বর্ণনায় প্রতি মিনিটে ২০০০-৩০০০ সেলাই দাবি করা হলেও মূল মডেল সিঙ্গার ১৫সিএইচ১-এর গতি সর্বোচ্চ ১,০০০। গত ২৪ মার্চ আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনের নির্দেশনা পাশ কাটিয়ে কাজটি প্রক্রিয়া করা হয় অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে। ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড ৪ জুন অফার জমা দেয় এবং মাত্র ছয় দিনের মাথায়, অর্থাৎ ১০ জুন তারা হুইলচেয়ার ও সেলাই মেশিন সরবরাহের কার্যাদেশ পেয়ে যায়।</p>
<p>কোয়ালিটি টেস্টে ফেল, তবুও আমদানি<br />
আন্তর্জাতিক মান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান এসজিএস (SGS) সেপ্টেম্বর মাসের ২১ ও ২২ তারিখে ১,৫৪৮টি হুইলচেয়ারের চালান থেকে দৈবচয়ন বা র‌্যান্ডম ভিত্তিতে ১২৫টি হুইলচেয়ার পরীক্ষা করে। পরীক্ষা শেষে দেওয়া প্রতিবেদনে তারা জানায়, ১২৫টির মধ্যে ৩০টিতেই রয়েছে মারাত্মক ত্রুটি- যেমন অনিরাপদ চাকা ও অনিরাপদ ব্রেক। এছাড়া পরিদর্শনের সময় ৬৮% হুইলচেয়ারের বসার আসন ও ব্যাকরেস্টে লোহার তারের উন্মুক্ত অংশ পাওয়া যায়। উন্মুক্ত লোহার তার এবং সিটের ধারে ধারালো ও বিপজ্জনক মেটাল এজ ছিল, যা প্রতিবন্ধী ব্যবহারকারীদের জখম করতে পারে। চাকার মান পরীক্ষা করতে কারখানা কর্তৃপক্ষ বাধা দেয় এবং ডিইডব্লিউ পণ্যের স্পেসিফিকেশন পরিদর্শককে সরবরাহ করেনি। উল্লেখ্য, নিয়ম অনুযায়ী এই ১২৫টির মধ্যে ৭টির বেশি ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া গেলে চালান বাতিল করার কথা।<br />
এসজিএস কর্মকর্তা তাঁর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, স্যাম্পলের সব হুইলচেয়ারে উন্মুক্ত মেটাল এজ ছিল। ডকইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ চাকার মান পরীক্ষা করতে দেয়নি, এমনকি মূল্যায়নের জন্য কোনো ‘প্রোডাক্ট স্পেসিফিকেশন’ বা বিবরণও জমা দেয়নি। ফলে ১,৫৪৮টি হুইলচেয়ারের ওই চালানটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে &#8216;Not-Conform&#8217; বা মানদণ্ডবহির্ভূত হিসেবে চিহ্নিত করে এসজিএস। পরবর্তীতে ইমেইলের মাধ্যমে এই রিপোর্টের সত্যতা নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি। এসজিএসের ছাড়পত্র না থাকা সত্ত্বেও এই ত্রুটিপূর্ণ হুইলচেয়ারের একটি চালান ইতোমধ্যে বাংলাদেশে এনে শাহীনবাগে নৌবাহিনীর একটি ভবনের নিচে রাখা হয়েছে।</p>
<p>ভুয়া আইনি ধারা, তড়িঘড়ি প্রক্রিয়া এবং রহস্যজনক ব্যাংক গ্যারান্টি<br />
গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে চুক্তিতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস ২০০৮’-এর ৫৪ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে, অথচ ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস ২০২৫ কার্যকর হওয়ায় ২০০৮ সালের বিধিমালা ইতিমধ্যে বাতিল হয়ে গিয়েছিল। অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে, এসব কেনাকাটার জন্য গত ১০ আগস্ট সকাল ১১টায় মূল্যায়ন কমিটি গঠিত হয় এবং একদিনের মধ্যেই একক উৎস থেকে দরপ্রস্তাব খোলা, মূল্যায়ন এবং ৪৯,০০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৪৮,০০০ টাকা নির্ধারণ করে চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়। প্রস্তাবিত দরের চেয়ে ১,০০০ টাকা কমানোর বিষয়টি ছিল আদতে আইওয়াশ।</p>
<p>জানা গেছে, সরকারি টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস) ৯ জুলাই সরাসরি ট্যাবলেট সরবরাহের প্রস্তাব দিলেও তা বাতিল করে ডিইডব্লিউ এবং তাদের অনভিজ্ঞ বেসরকারি অংশীদারকে সুযোগ দেওয়া হয়। এদিকে সরকারি চুক্তিতে ডিইডব্লিউ সরবরাহকারী হলেও চুক্তি স্বাক্ষরের ৪ দিন আগে (১৯ আগস্ট) স্যালস্ট্রার অনুরোধে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ৩২.৭ কোটি টাকার পারফরম্যান্স গ্যারান্টি দেয়। হুইলচেয়ার চুক্তিতেও বাংলামার্ক লিমিটেড নামক একটি বেসরকারি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নৌবাহিনীর পক্ষ হয়ে ২.২ কোটি টাকার গ্যারান্টি দেয়- যা মূলতঃ সরকারি নিয়মকানুনের মধ্যে পড়ে না। নতুন প্রকিউরমেন্ট নীতি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত মালিকের (Beneficial Ownership) নাম প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক হলেও ডিইডব্লিউ সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ছাড় পাওয়ায় বুরাক ব্রেকের দুই মালিকের নাম সরকারি নথি থেকে পুরোপুরি আড়াল রাখা হয়।<br />
রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার তহবিল ও সামাজিক কল্যাণ প্রকল্পের অর্থ লোপাটের এই ঘটনায় নৌবাহিনীর মতো সুশৃঙ্খল বাহিনীর যুক্ত হওয়া এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দরপত্র ছাড়াই স্বজনদের ব্যবসায়িক সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি এখন তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে শাহীনবাগের বেসমেন্টে প্রস্তুত রাখা হয়েছে হুইলচেয়ার। অন্যদিকে, ৬৬,৮১৫টি ট্যাবলেটের মধ্যে মাত্র ৯,০০০টি ট্যাবলেট সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতি ট্যাবলেটে সিম কার্টিজ, জিও-ট্যাগিং, গ্রামীণফোনের স্টিকার এবং প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার লোড করতে প্রায় ২২ মিনিট সময় লাগায় সরবরাহ বিলম্বের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে ডিইডব্লিউ।<br />
টাকা লেনদেনের বিশাল এই নথিপত্র এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত এসপিআইআরআইটি (SPIRIT) প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বজনপ্রীতি, দরপত্রহীন কেনাকাটা এবং বিপুল অর্থ তছরুপের এই গুরুতর অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়ার উচিত বলে মনে করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://skynews24.net/archives/27490/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ঢাকার দুই জায়গায় গদি-ঘাট- আড়তে পাপেল চক্রের চাঁদাবাজি, মাসে আদায় হয় ‘কোটি টাকার’ বেশি</title>
		<link>https://skynews24.net/archives/27487</link>
					<comments>https://skynews24.net/archives/27487#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 16 Oct 2026 06:18:39 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://skynews24.net/?p=27487</guid>

					<description><![CDATA[পাপেলের নেতৃত্বে লেলিন, হানিফ ও শুভ্রের বিরুদ্ধে চক্র গড়ার অভিযোগ; গদি, ঘাট, আড়ত ও পরিবহনে টাকা আদায়। ঢাকা: রাজধানীর গাবতলী-সদরঘাট বেড়িবাঁধ সড়কের দুই পাশে সারি সারি ইট, বালু ও পাথরের গদি। এসব গদি বা আড়ত চালাতে প্রতিটিকে মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। সেখানে পণ্য নিয়ে আসা ট্রাককে চাঁদা দিতে হয় [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>পাপেলের নেতৃত্বে লেলিন, হানিফ ও শুভ্রের বিরুদ্ধে চক্র গড়ার অভিযোগ; গদি, ঘাট, আড়ত ও পরিবহনে টাকা আদায়।<br />
ঢাকা: রাজধানীর গাবতলী-সদরঘাট বেড়িবাঁধ সড়কের দুই পাশে সারি সারি ইট, বালু ও পাথরের গদি। এসব গদি বা আড়ত চালাতে প্রতিটিকে মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। সেখানে পণ্য নিয়ে আসা ট্রাককে চাঁদা দিতে হয় ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা করে। নদীপথেও রেহাই নেই—চলন্ত নৌযানের কাছে ট্রলার নিয়ে গিয়ে টাকা তোলা হয়।</p>
<p>রাজধানীর গাবতলী ও মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় গদি, ঘাট, আড়ত, পরিবহন ও দোকান ঘিরে মাসে এক কোটি টাকার বেশি চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।</p>
<p>স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিএনপির নেতাদের ভাষ্য, এসবের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন যুবদলের সাবেক নেতা মোস্তফা জগলুল পাশা ওরফে পাপেল ও তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা।</p>
<p>ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হিসাব করলে, শুধু গদি, পণ্যবাহী ট্রাক ও গাবতলী পশুর হাটের সামনের দোকান থেকে মাসে আদায় হয় প্রায় সাড়ে ৩৫ লাখ টাকা। শাহ আলী মাজারের আড়ত কমপ্লেক্স ও বাইরের জায়গা থেকে ওঠে আরও ৩০ লাখ টাকার বেশি। এর বাইরে নৌপথে শুল্কের নামে এবং বাস টার্মিনাল ও অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড ঘিরেও টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।</p>
<p>    রাজধানীর গাবতলী ও মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় গদি, ঘাট, আড়ত, পরিবহন ও দোকান ঘিরে মাসে এক কোটি টাকার বেশি চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।</p>
<p>স্থানীয় বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা ও ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব পাপেলের এই চক্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে রয়েছেন শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ওরফে লেলিন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়া ও হাফিজুল হাসান ওরফে শুভ্র। তাঁদের অনুসারীদের মাধ্যমে পশুর হাট, কাঁচাবাজার, ঘাট, গদি ও পরিবহন স্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং চাঁদা আদায় করা হয়।</p>
<p>গত মাসে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটেও এই চারজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হানিফ। দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে শুভ্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, কোনো কমিটিতে না থাকায় পাপেল ও লেলিনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে পুলিশ তাঁদের খুঁজছে।</p>
<p>শুভ্রর দাবি, তিনি ব্যবসা করেন; দখল বা চাঁদাবাজিতে যুক্ত নন। রাড্ডার ঘটনায় তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ভুল হয়েছে বলে তিনি দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।</p>
<p>অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাপেল, লেলিন ও হানিফের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে বন্ধ পাওয়া যায়। হোয়াটসঅ্যাপেও প্রথম দুজনকে পাওয়া যায়নি; হানিফ ফোন ধরেননি। পুলিশ বলছে, তাঁরা পলাতক, গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।</p>
<p>শ্যামলের হয়ে গদিঘরগুলো থেকে টাকা তোলার কাজটি করেন কোটবাড়ী ইউনিট আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ইসমাইল মোল্লা ও আন্তজেলা ট্রাকচালক ইউনিয়নের সহসভাপতি মোহাম্মদ সালেক।</p>
<p>গদি, ট্রাক ও দোকান থেকে মাসে ৩৫ লাখ টাকা</p>
<p>গাবতলী থেকে কল্যাণপুর পানির পাম্প বা স্লুইসগেট পর্যন্ত সোয়া কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সড়কের দুই পাশে শতাধিক অবৈধ গদি রয়েছে বলে গাবতলী ইট, পাথর, বালু আড়তদার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি জানিয়েছে। এগুলো ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে।</p>
<p>নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইট-বালুর পাঁচ ব্যবসায়ী ও তিন কর্মচারী জানান, ওই এলাকায় শতাধিক গদিঘর রয়েছে। গদিপ্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা দিতে হয়। এই হিসাবে মাসে অন্তত ২০ লাখ টাকা আদায় হয় সেখান থেকে।</p>
<p>স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, টাকা আদায়ের এই কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করেন দারুস সালাম থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শ্যামল আহমেদ ওরফে রাসেল। তিনি পাপেল চক্রের সঙ্গে সমঝোতা করেই এই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন।</p>
<p>শ্যামলের হয়ে গদিঘরগুলো থেকে টাকা তোলার কাজটি করেন কোটবাড়ী ইউনিট আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ইসমাইল মোল্লা ও আন্তজেলা ট্রাকচালক ইউনিয়নের সহসভাপতি মোহাম্মদ সালেক।</p>
<p>তবে শ্যামল আহমেদ প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, তিনি কোনো দখল বা চাঁদাবাজিতে যুক্ত নন। আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিকল্পনা করছেন, তাই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।</p>
<p>সেখানকার ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও গদিগুলো থেকে চাঁদা তোলার কাজটি করতেন এই ইসমাইল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাঁর ভাই আইয়ুব আলী দারুস সালাম থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হন। ফলে ইসমাইলের প্রভাবও বহাল রয়েছে।</p>
<p>ইসমাইল প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, তিনি ছোটবেলা থেকে ইট-বালুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কোনো চাঁদাবাজিতে জড়িত নন। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতেন, তবে কোনো পদে নেই।</p>
<p>    ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সাবেক ছাত্রদল নেতা শ্যামল আহমেদের কর্মী কমল, মাহফুজ, শফিক ও আজহারুল এবং আরও চার-পাঁচজন ট্রাক থেকে টাকা তোলেন। দৈনিক অন্তত ১৫০ ট্রাকে মালামাল আসে। গড়ে ৩০০ টাকা হিসাবে মাসে এই খাত থেকে চাঁদা আদায় হয় প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা।</p>
<p>এর বাইরে ডিএনসিসি ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) জমিতে প্রায় ৩০০ প্লট রয়েছে, সেখানে গদিঘর রয়েছে। গাবতলী ইট, পাথর, বালু আড়তদার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির নেতারা জানান, বিআইডব্লিউটিএ প্রতি দেড় হাজার বর্গফুটের জন্য বছরে ২০ হাজার টাকা শুল্ক নেয়। ডিএনসিসির প্লটের ইজারা চেয়ে আবেদন হলেও সমাধান হয়নি।</p>
<p>ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান প্রথম আলোকে বলেন, গাবতলীতে করপোরেশনের জমিতে অবৈধ ইট-বালুর ব্যবসার বিষয়ে দুই মাস আগে প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কারা ব্যবসা করছেন, কত দোকান ও কী কার্যক্রম চলছে, তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগ তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।</p>
<p>এদিকে ইট-বালু ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, অবৈধ গদির পাশাপাশি ওই ৩০০ প্লটের গদিতে পণ্য আনা ট্রাক থেকেও টাকা তোলা হয়। ছয় চাকার ট্রাক থেকে ২৫০ এবং ১০ চাকার ট্রাক থেকে ৩৫০ টাকা নেওয়া হয়।</p>
<p>ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সাবেক ছাত্রদল নেতা শ্যামল আহমেদের কর্মী কমল, মাহফুজ, শফিক ও আজহারুল এবং আরও চার-পাঁচজন ট্রাক থেকে টাকা তোলেন। দৈনিক অন্তত ১৫০ ট্রাকে মালামাল আসে। গড়ে ৩০০ টাকা হিসাবে মাসে এই খাত থেকে চাঁদা আদায় হয় প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা।</p>
<p>ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়কারী চার কর্মীর একজন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা ‘ইজারাদার মালিকের’ হয়ে টাকা তোলেন। মালিক কারা, জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ‘অনেকেই আছে। শ্যামল আহমেদ রাসেল আছে, ইসমাইল আছে; আরও অনেকে আছে সবাইকে চিনিও না।’</p>
<p>একই এলাকায় অবস্থিত গাবতলী পশুর হাট। হাটের সামনের অর্ধশতাধিক অবৈধ দোকান রয়েছে। দোকানগুলো থেকে মাসে তিন থেকে চার হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এখান থেকে মাসে প্রায় দুই লাখ টাকা আদায় করে একই চক্র।</p>
<p>    ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়কারী চার কর্মীর একজন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা ‘ইজারাদার মালিকের’ হয়ে টাকা তোলেন। মালিক কারা, জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ‘অনেকেই আছে। শ্যামল আহমেদ রাসেল আছে, ইসমাইল আছে; আরও অনেকে আছে সবাইকে চিনিও না।’</p>
<p>নৌপথে ‘শুল্কের’ নামে টাকা আদায়</p>
<p>গাবতলী ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে সিন্নিরটেক হয়ে আশুলিয়া নৌপথে চলন্ত পণ্যবাহী নৌযানের কাছে ট্রলার নিয়ে টাকা আদায় করা হয়।</p>
<p>স্থানীয় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পাপেল ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের নিয়ন্ত্রণে এই টাকা আদায় তদারক করেন ইব্রাহিম খলিল, ইসমাইল হোসেন ও জহুরাবাদের বাবুল। ইসমাইল ও বাবুল আওয়ামী লীগ আমলেও টাকা তুলতেন। এখন বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দুই পক্ষ মিলে এই চাঁদা আদায় করছে। তাঁরা এই ব্যবস্থাকে ‘প্যাকেজ’ বলেন।</p>
<p>ইসমাইল ও বাবুল গত অর্থবছরে এখানকার বৈধ শুল্ক ইজারাদার বলে দাবি করে থাকেন। তাহলে এখন কীভাবে টাকা তুলছেন—সে বিষয়ে এই দুজনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।</p>
<p>ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, আগের ইজারাদার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি জানিয়ে মামলা করায় চলতি অর্থবছরে নতুন দরপত্র আহ্বান ও ইজারাদার নিয়োগ হয়নি। তবে আগের দর অনুযায়ী প্রতি মাসে আদায় করা টাকা ইব্রাহিম ও বাবুলরা পরিশোধ করছেন বলে দাবি করেন তিনি।</p>
<p>    আদায়কারী ও চালকদের হিসাবে, দৈনিক ১০০-১৫০টি নৌযান চলে। ১০০টি থেকে দেড় হাজার টাকা করে ধরলেও মাসে আদায় হয় ৪৫ লাখ টাকা। এটি তাঁদের তথ্যের ভিত্তিতে করা আনুমানিক হিসাব; প্রকৃত আদায় যাচাই করা যায়নি।</p>
<p>তবে নিয়ম হচ্ছে পণ্য খালাসের জায়গায় থেকে ইজারাদার হিসেবে শুল্ক তুলবে। চলন্ত নৌযান থেকে এভাবে শুল্ক আদায়ের সুযোগ নেই বলেও জানান এই কর্মকর্তা।</p>
<p>বর্তমানে কাগজপত্রে কোনো ইজারাদার না থাকলেও সিন্নিরটেক ঘাটে ‘শুল্ক’ আদায়কারী কর্মী আম্বর আলী গত মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, নৌযানের আকার অনুযায়ী এক-দেড় হাজার টাকা নেওয়া হয়। তিনি ইজারাদার হিসেবে পাপেল, রাসেল ও পারভেজের নাম বলেছেন।</p>
<p>তবে তীরে পণ্য খালাস করা নৌযানের চালক ও কর্মীরা বলেন, বাস্তবে একেকটি পণ্যবাহী নৌযান থেকে নেওয়া হচ্ছে দুই-আড়াই হাজার টাকা।</p>
<p>আদায়কারী ও চালকদের হিসাবে, দৈনিক ১০০-১৫০টি নৌযান চলে। ১০০টি থেকে দেড় হাজার টাকা করে ধরলেও মাসে আদায় হয় ৪৫ লাখ টাকা। এটি তাঁদের তথ্যের ভিত্তিতে করা আনুমানিক হিসাব; প্রকৃত আদায় যাচাই করা যায়নি।</p>
<p>বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক সমিতির সহসভাপতি আহমাদুল কবির মোল্লা বলেন, বিক্রয়মূল্যে তফাত থাকলেও পাথর, কয়লা ও বালুতে প্রতি ঘনফুটে সমান ৬০ পয়সা শুল্ক নির্ধারণ করেছে বিআইডব্লিউটিএ। এতে মালিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, সুযোগ নিচ্ছেন ইজারাদারেরা। তাঁর অভিযোগ, সাধারণত তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়; যেসব নৌযানের মালিক প্রভাবশালী, তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া হয় এক-দুই হাজার টাকা।</p>
<p> পরিচয়–নির্বিশেষে চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মিরপুরে কেউ অশান্তি সৃষ্টি করলে কিংবা আগে অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।</p>
<p>পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার</p>
<p>টার্মিনাল ও ট্রাকস্ট্যান্ডেও আদায়</p>
<p>গাবতলী বাস টার্মিনাল এখন গোলাম রসুল পারভেজের নিয়ন্ত্রণে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে। গোলাম রসুল পারভেজ দারুস সালাম থানা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক। রাড্ডার ঘটনার পর সংগঠন থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়।</p>
<p>বাস টার্মিনালে বৈধ কাউন্টার ও দোকান বাদে হকার ও ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে পারভেজের লোকজন টাকা তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন দারুস সালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মির্জা মাসুদ এবং থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন ওরফে রিপন। সম্প্রতি তাঁরা সাতটি টিকিট কাউন্টার নির্মাণ করেছেন বলেও জানা গেছে।</p>
<p>ডিএনসিসির পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, খালি কাউন্টার না থাকায় আবেদনকারীদের নিজ খরচে নির্মাণের অনুমতি দিয়ে পরে অনুমোদন করা হয়।</p>
<p>এই অনুমোদনের সুযোগে এই নেতারা কিছু কাউন্টার নিজেদের পরিবহনের নামে নির্মাণ করেছেন। অন্যগুলো এককালীন টাকায় অন্য পরিবহনকে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।</p>
<p>এ বিষয়ে মুঠোফোনে চেষ্টা করেও গোলাম রসুল পারভেজের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মির্জা মাসুদের ভাষ্য, নিজের পরিবহন প্রতিষ্ঠান মির্জা এন্টারপ্রাইজের জন্য করপোরেশনের অনুমতি নিয়ে নিজ অর্থে কাউন্টার নির্মাণ করেছেন। ইকবাল হোসেনের প্রতিষ্ঠান ঢাকা নাগরপুর লিংক লিমিটেডের নামেও কাউন্টার বরাদ্দ হয়েছে।</p>
<p>টার্মিনালের কাছে সিটি করপোরেশনের বর্জ্যবাহী গাড়ি রাখার স্থান বা যান্ত্রিক শাখার পেছনে করপোরেশনের জমিতে অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড রয়েছে। এটি পরিচালনা করেন আন্তজেলা ট্রাকচালক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও সহসভাপতি সালেক।</p>
<p>সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হিসাবে, দিন-রাতে পালা করে ১৬০-১৭০টি ট্রাক রাখা হয়। প্রতিটি থেকে মাসে দেড় হাজার টাকা নেওয়া হয়। ১৬০টি ধরলে মাসিক আদায় অন্তত ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।</p>
<p>তবে এ বিষয়ে মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও সালেকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।</p>
<p>অভিযোগ আছে, পাপেল, লেলিন, হানিফ ও শুভ্র—এই চক্র সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ ওরফে মিষ্টির অনুসারী হিসেবে পরিচিত। রাড্ডার ঘটনার জেরে দলীয় প্রধানের নির্দেশে ফেরদৌসী আহমেদ সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর পাপেলরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান। কিন্তু চাঁদাবাজি, দখল এখনো বহাল আছে।</p>
<p>যেভাবে প্রভাব বাড়ে</p>
<p>স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ আমলে এসব এলাকায় দখল ও চাঁদা আদায়ের নিয়ন্ত্রণ ছিল ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হক ও তাঁর অনুসারীদের হাতে। ২০২১ সালে আসলামুল হক মারা যান। এরপর নিয়ন্ত্রণ করতেন যুবলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান ওরফে নিখিলের লোকজন।</p>
<p>গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একশ্রেণির নেতা-কর্মী। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় সাবেক সংসদ সদস্য এস এ খালেকের ছেলে এস এ সিদ্দিক সাজু দল থেকে বহিষ্কৃত হন। এরপর তাঁর অনুসারীদের প্রভাব কমে যায়। এলাকায় ক্রমে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন পাপেল, লেলিন, হানিফ ও শুভ্র। তাঁরা এলাকার অবৈধ উপার্জনের খাতগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।</p>
<p>অভিযোগ আছে, পাপেল, লেলিন, হানিফ ও শুভ্র—এই চক্র সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ ওরফে মিষ্টির অনুসারী হিসেবে পরিচিত। রাড্ডার ঘটনার জেরে দলীয় প্রধানের নির্দেশে ফেরদৌসী আহমেদ সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর পাপেলরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান। কিন্তু চাঁদাবাজি, দখল এখনো বহাল আছে।</p>
<p>এ বিষয়ে পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার প্রথম আলোকে বলেন, পরিচয়–নির্বিশেষে চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মিরপুরে কেউ অশান্তি সৃষ্টি করলে কিংবা আগে অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://skynews24.net/archives/27487/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মেঘনা পেট্রোলিয়াম লুটেপুটে খাচ্ছে দুর্নীতিবাজ মোঃ রাশেদুল হক</title>
		<link>https://skynews24.net/archives/26963</link>
					<comments>https://skynews24.net/archives/26963#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 22 Sep 2026 15:51:51 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[2ndlead]]></category>
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://skynews24.net/?p=26963</guid>

					<description><![CDATA[রাষ্ট্রায়ত্ব জ্বালানি বিপণন প্রতিষ্ঠান মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে (এমপিএল) তীব্র প্রশাসনিক অরাজকতা, পদোন্নতি ও বদলিতে অনিয়ম, আধুনিকায়নে স্থবিরতা এবং জ্বালানি তেল চুরির সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মেঘনা পেট্রোলিয়াম পিএলসি-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (এমআই) মোঃ রাশেদুল হকের বিরুদ্ধে। মো. রাশেদুল হক প্রায় ১৫ বছর ধরে একই স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন। রাশেদুল হক ১-১১-২০১২ তারিখে যোগদান [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>রাষ্ট্রায়ত্ব জ্বালানি বিপণন প্রতিষ্ঠান মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে (এমপিএল) তীব্র প্রশাসনিক অরাজকতা, পদোন্নতি ও বদলিতে অনিয়ম, আধুনিকায়নে স্থবিরতা এবং জ্বালানি তেল চুরির সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মেঘনা পেট্রোলিয়াম পিএলসি-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (এমআই) মোঃ রাশেদুল হকের বিরুদ্ধে।</p>
<p>মো. রাশেদুল হক প্রায় ১৫ বছর ধরে একই স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন।</p>
<p>রাশেদুল হক ১-১১-২০১২ তারিখে যোগদান করেন। কোম্পানির সার্ভিস নীতিমালা অনুযায়ী সাধারণ শাখার সপ্তম গ্রেড অফিসার পদের জন্য প্রথম বিভাগে মাস্টার্স ও তিন বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হলেও ক্যাটাগরি শাখায় দুই গ্রেড উপরে পঞ্চম গ্রেডে বিএসসি পাস পদের জন্য ভুয়া সনদের মাধ্যমে ছাড় দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এতে কাজের গতিশীলতা ব্যাহত হয়েছে। শুধু তাই নয়, ২৫-১১-২০২১ তারিখে কোম্পানির পদোন্নতি নীতিমালার ১৪.১ এবং ১৪.৩ ধারা লঙ্ঘন করে, বিভাগীয় শূন্য পদ না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রভাব ও অনৈতিক অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে চারজন কর্মকর্তাকে সরাসরি ম্যানেজার পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। ফ্যাসিবাদের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে ও অনৈতিক অর্থ লেনদেনে ৪ জন কর্মকর্তাকে সরাসরি ম্যানেজার বানায় তৎকালীন প্রশাসন। এই অভিযোগগুলোর সঠিকতা ও নথিপত্র যাচাই করে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে।</p>
<p>একই কর্মস্থলে এত দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান বদলি নীতিমালার পরিপন্থী এবং এটি প্রশাসনের ভেতরে একচেটিয়া প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দিয়েছে।</p>
<p>অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে বাণিজ্য, ডিপো থেকে মাসিক চাঁদা আদায়, মামলা পরিচালনায় অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া বিল তৈরি করে টাকা আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি কোম্পানির গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ভাড়ায় ব্যবহার করে মোটা অঙ্কের অর্থ আয় করার অভিযোগও রয়েছে।</p>
<p>নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্য, ডিপো থেকে মাসিক লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায়, মামলা পরিচালনা থেকে অর্থ আত্মসাৎ, ভূয়া বিল তৈরি করে টাকা আত্মসাৎ, ও কোম্পানির গাড়ি বিভিন্ন জায়গায় ভাড়ায় খাটিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় ও প্রতি মাসে ডিপোগুলো থেকে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযো ওঠেছে মোঃ রাশেদুল হকের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিজেকে ছাত্রলীগের বড় নেতার পরিচয় দিত। ফলে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে অনেকেই তার বিরুদ্ধে মুখ খোলা শুরু করেছে। তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে অফিসে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করছেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শতশত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গড়ে তুলেছেন টাকার পাহাড়। অবৈধ টাকায় নিজ এলাকা হাটহাজারিতে গড়েছেন বিলাসবহুল বাড়ি, কিনেছেন দামি গাড়ি, । এছাড়া স্ত্রী এবং সন্তানদের নামে রয়েছে মোটা অংকের এফডিআর ও সঞ্চয়পত্র।মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের (এমপিএল) অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম/অপা.) মুজিবুর রহমান চৌধুরীর সাথে ভাগবাটোয়ারা করে সেই টাকার ভাগ সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ থেকে শুরু করে কোম্পানির সিবিএ নেতাদেরকেও পৌঁছে দেয়া হতো।</p>
<p>ওসি অর্থাৎ বাল্ক ইনচার্জ থাকার সময় তিনি কোটি কোটি টাকার তেল চুরি করে গড়ে তুলছেন সম্পদের পাহাড়।</p>
<p>নিয়োগ দুর্নীতি ও ভুয়া সনদের অভিযোগ: রাশেদুল হকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগটি হলো তাঁর নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া নিয়ে।২০১২ সালের ১ নভেম্বর ওনার যোগদানের সময় কোম্পানির সাধারণ শাখার ৭ম গ্রেড (অফিসার) পদের জন্য ১ম বিভাগে মাস্টার্সসহ ৩ বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে, তিনি কারিগরি শাখার ২ গ্রেড ওপরে (৫ম গ্রেড) ভুয়া সনদে বিএসসি পাস দেখিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পান। এছাড়া ২০২১ সালের নভেম্বরের কোম্পানির পদোন্নতি নীতিমালার ১৪.১ এবং ১৪.৩ নম্বর ধারা চরমভাবে লঙ্ঘন করে রাশেদুল হককে পদোন্নতি দেওয়া হয় বলেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। </p>
<p>তেল চুরি ও অপচয় সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার অভিযোগ: চট্টগ্রামের পতেঙ্গা প্রধান স্থাপনা (Main Installation) হচ্ছে তেল সংরক্ষণ ও বিতরণের মূল কেন্দ্র। তথ্যমতে, মেঘনা পেট্রোলিয়ামের উপ-মহাব্যবস্থাপক (পরিচালন) মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং মেইন ইনস্টলেশনের ব্যবস্থাপক হিসেবে মোঃ রাশেদুল হকের নাম একটি দুর্নীতিগ্রস্ত চক্রের মূল হোতা । অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের প্রত্যক্ষ ছত্রছায়ায় ও সহায়তায় পতেঙ্গা প্রধান স্থাপনা থেকে দীর্ঘদিন ধরে তেল চুরি, অবৈধ তেল পাচার ও তেলের অপচয়ের মতো প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম চলে আসছে।<br />
অর্থ আত্মসাৎ ও সিন্ডিকেট গঠন: মেঘনা পেট্রোলিয়ামের তেল বিপণন ও বিভিন্ন ডিপোর কার্যক্রমে প্রভাব খাটিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ কুক্ষিগত করার অভিযোগও ওনার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।</p>
<p>প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডিপো থেকে নিয়মিত মাসিক চাঁদা আদায় হতো এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেটি রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে গোপনে করা হতো। তবে তারা নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছা জানিয়েছেন।</p>
<p>তার নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট তেল চুরির অবৈধ কারবারের সাথে যুক্ত বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি এখনো আছেন বহাল তবিয়তে। তিনি এলাকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকর্মী , আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয় চোরা কারবারিদের সাথে মিশে জ্বালানি সংকটকালে শত শত কোটি টাকা লুটপাট করেছেন। </p>
<p>চাকরির অন্তরালে তেল চুরি তেল পাচার ও তেলে ভেজাল দেওয়াই হচ্ছে তার প্রধান কাজ বলে মন্তব্য করেন নাম প্রকাশ করতে না চাওয়া মেঘনা পেট্রোলিয়ামের এক কর্মকর্তা।</p>
<p>কোম্পানির ভেতরে অভিযোগ উঠলেও অতীতে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব ব্যবহার করে বেশ কয়েকবার তদন্ত প্রক্রিয়া থামিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।</p>
<p>জরুরি হস্তক্ষেপ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি<br />
মেঘনা পেট্রোলিয়ামের টেকসই উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) সকল গুরুত্বপূর্ণ পদে মেধা, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদায়নের দাবি উঠেছে।</p>
<p>আন্দোলনরত ও ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন:</p>
<p>&#8220;উত্থাপিত অভিযোগগুলোর পেছনে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে প্রচলিত আইন ও সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। মেঘনা পেট্রোলিয়ামের মতো একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে বাঁচাতে সরকারের অবিলম্বে জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।&#8221;</p>
<p>এ বিষয়ে দুদকের এক উপ-পরিচালক বলেন, “যদি কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায় বা পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক প্রমাণ মেলে, তাহলে আইন অনুযায়ী তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”</p>
<p>এদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন,“একজন সরকারি কর্মকর্তার বৈধ আয়ের সঙ্গে যদি তার সম্পদের পরিমাণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহলে সেটি দুর্নীতির ইঙ্গিত বহন করে। এ ধরনের ক্ষেত্রে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।”</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://skynews24.net/archives/26963/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালকের সম্পত্তি ক্রোক-পরোয়ানা, তারপরও বহাল তবিয়তে</title>
		<link>https://skynews24.net/archives/26957</link>
					<comments>https://skynews24.net/archives/26957#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 22 Sep 2026 11:57:30 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[2ndlead]]></category>
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<category><![CDATA[তারপরও বহাল তবিয়তে]]></category>
		<category><![CDATA[বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালকের সম্পত্তি ক্রোক-পরোয়ানা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://skynews24.net/?p=26957</guid>

					<description><![CDATA[নিয়মিত অফিস করছেন, কিন্তু পুলিশ খুঁজে পাচ্ছে না বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) একজন সহকারী পরিচালকমাত্র তিনি। কিন্তু এই সহকারী পরিচালকেরই এতো ক্যারিশমা! নানা অবৈধ পথে কামিয়েছেন অন্ততঃ শত কোটি টাকা। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে তুলেছেন নামে-বেনামে বাড়ি ও প্লট। গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে বিশাল ভূসম্পত্তি। বিদেশেও বিপুল পরিমাণে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>নিয়মিত অফিস করছেন, কিন্তু পুলিশ খুঁজে পাচ্ছে না<br />
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) একজন সহকারী পরিচালকমাত্র তিনি। কিন্তু এই সহকারী পরিচালকেরই এতো ক্যারিশমা! নানা অবৈধ পথে কামিয়েছেন অন্ততঃ শত কোটি টাকা। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে তুলেছেন নামে-বেনামে বাড়ি ও প্লট। গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে বিশাল ভূসম্পত্তি।</p>
<p>বিদেশেও বিপুল পরিমাণে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নগদ অর্থ তো রয়েছেই।</p>
<p>এই আলতাব হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান শুরু করে প্রায় চার বছর আগে। অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া যায়।</p>
<p>প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জন ও পৌনে তিন কোটি টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে সহকারী পরিচালক মো. আলতাব হোসেন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর এই মামলা করে দুদক। এরপরে মামলায় চার্জশিট হয়। আলতাব হোসেন এবং তার স্ত্রীর সম্পত্তিও ক্রোক হয়।</p>
<p>কিন্তু এতো কিছুর পরও আলতাব হোসেন চাকরিতে বহাল-তবিয়তেই থেকে যান। সড়ক মন্ত্রণালয় বা সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) তার বিরুদ্ধে কোনোই ব্যবস্থা নেয়নি। যদিও সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দুদকের মামলা দায়েরের পর পরই তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত অথবা প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করার নিয়ম রয়েছে।</p>
<p>শুধুমাত্র মামলা এবং সম্পত্তি ক্রোক তো নয়ই, অবশেষে সহকারী পরিচালক আলতাব হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত গত এপ্রিল মাসে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। অবাক ব্যাপার হলো, তারপরও আলতাব হোসেনের বিরুদ্ধে কোনোই ব্যবস্থা নেয়নি বিআরটিএ বা মন্ত্রণালয়। তিনি এখন পর্যন্ত বহাল তবিয়তেই আছেন বিআরটিএ পাবনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক পদে। আরও অবাক ব্যাপার হলো, গ্রেফতারী পরোয়ানা মাথায় নিয়ে পাবনা পুলিশের নাকের ডগা দিয়েই তিনি নিয়মিত সার্বক্ষণিকভাবে অফিস করছেন। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না, বিআরটিএ বা মন্ত্রণালয়ও এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়। সবকিছু দেখেও তারা না দেখার ভান করে আছেন। শত কোটি টাকার মালিক আলতাব হোসেনের এটাই বড় কৃতিত্ব বা ক্যারিশমা!</p>
<p>দুদকের অনুসন্ধানে বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক মো. আলতাব হোসেন ও তার স্ত্রী জিয়াসমীন আরার নামে ঢাকায় এবং ফরিদপুরে মোটা ১৭টি স্থানে জমি, প্লট ও বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। সন্তানদের তথ্য এরমধ্যে আসেনি। আলতাব হোসেনের নামে ফরিদপুরে ১২টি স্থানে জমি রয়েছে, যার মোট মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ৩৫ লাখ টাকা। যদিও বাস্তবে এর মূল্য অনেকগুণ বেশি। কাগজপত্রে সবচেয়ে হাস্যকর মূল্য দেখানো হয়েছে ঢাকার গুলশানের বাড়ি ও প্লটের। গুলশানের মতো অভিজাত এলাকায় আলতাব হোসেনের একটি প্লট ও বাড়ি আছে, কাগজপত্রে যার মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। অথচ এই বাড়ি ও প্লটের বর্তমান বাজারমূল্য অন্ততঃ শত কোটি টাকা। অন্যদিকে, স্ত্রী জিয়াসমীনের নামেও ঢাকায় দুটি প্লট ও বাড়ি রয়েছে, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা মাত্র। এছাড়া ফরিদপুরে আরও দুটি প্লট জমি রয়েছে, যার মূল্য ৩ লাখ টাকা। আলতাবের স্ত্রী জিয়াসমীনের নামের এই সম্পত্তিগুলোর বর্তমান মূল্য প্রায় শত কোটি টাকা, বলছেন দুদক কর্মকর্তারা। যদিও দুদকের মামলায় সম্পত্তির প্রকৃত বাজারমূল্যের কথা উল্লেখ করা হয়নি। কাগজপত্রে উল্লেখ থাকা মূল্যের হিসাব দেখানো হয়েছে দুদক মামলায়।</p>
<p>২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ সংস্থাটির উপ-পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে আলতাব হোসেন ও তার স্ত্রী জিয়াসমীন আরার বিরুদ্ধে মামলা দুটি দায়ের করেন। প্রথম মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামি মো. আলতাব হোসেনের দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ২৮৩ টাকার সম্পদ (স্থাবর ও অস্থাবর) গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করেছেন। অন্যদিকে, দুদকের অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১ কোটি ১৪ লাখ ৭২ হাজার ৯৩ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।</p>
<p>অন্যদিকে দ্বিতীয় মামলায় তার স্ত্রী মোছা. জিয়াসমীন আরাকে প্রধান আসামি ও তার স্বামী আলতাব হোসেনকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে। বিবরণে দেখা যায়, জিয়াসমীন তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ৬৬ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯৯ টাকার সম্পদের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করেছেন। আর দুদকের অনুসন্ধানে তার নামে ২ কোটি ৪২ লাখ ২ হাজার ২৫১ টাকার অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে। গৃহিণী হিসেবে এত সম্পদ করা অসংগতিপূর্ণ। প্রকৃত অর্থে এসব সম্পদ তার স্বামী মো. আলতাব হোসেনের দুর্নীতির টাকায় গড়েছেন। সে কারণে তাকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে এ মামলায়। তাদের বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।</p>
<p>এই দুই মামলায় চার্জশিট হয় এবং পরবর্তীতে এক পর্যায়ে আদালত আলতাব হোসেন ও তার স্ত্রীর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেন। আদালত ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর ঢাকা মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ সাব্বির ফায়েজের আদালত দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। আদালত বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক মো. আলতাব হোসেন ও তার স্ত্রী জিয়াসমীন আরার ১৭টি স্থানে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন। অবশ্য, সন্তানদের নামে ক্রয় করা এবং আলতাব হোসেন ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন বেনামে ক্রয় করা সম্পত্তিগুলো রয়ে গেছে এই ক্রোক আদেশের বাইরে।</p>
<p>তবে সবচেয়ে অবাক কাণ্ড হলো, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পরও আলতাব হোসেন নিয়মিত অফিস করছেন। চলতি বছরের গত ২০ এপ্রিল আলতাব হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। এই গ্রেফতারি পরোয়ানার কপি আলতাব হোসেনের কর্মস্থল পাবনার পুলিশ সুপার বরাবর এবং গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরেও পাঠানো হয়। আলতাব হোসেনের বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানাটি গত ১৪ মে তারিখে পাবনার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে রিসিভ করা হয়েছে। অথচ তিনি এখনো পাবনায় কর্মস্থলে নিয়মিতই অফিস করছেন।</p>
<p>মামলা, সম্পত্তি ক্রোক এবং আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানার পরও সরকারি পরিচালক আলতাব হোসেনের বিরুদ্ধে কেন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি জানতে চাওয়া হয়েছিল বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানের কাছে। তিনি ফোন রিসিভ না করায় ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে জানতে চাওয়া হয়। তবে তিনি এরও কোনো জবাব দেননি। </p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://skynews24.net/archives/26957/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কৃষি তথ্য সার্ভিসে বেপরোয়া সিন্ডিকেট</title>
		<link>https://skynews24.net/archives/26949</link>
					<comments>https://skynews24.net/archives/26949#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 22 Sep 2026 11:31:21 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://skynews24.net/?p=26949</guid>

					<description><![CDATA[রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়িতে অবস্থিত কৃষি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)। গণমাধ্যমের সাহায্যে কৃষি তথ্যপ্রযুক্তি তৃণমূল পর্যায়ের কৃষকের কাছে পৌঁছানোই এ সংস্থার মূল লক্ষ্য। কিন্তু সেখানে কাজ হয় ভিন্ন। বিভিন্ন প্রকল্প, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অপকর্মের মাধ্যমে এ সংস্থার অর্থ লোপাটের অভিযোগ মিলেছে বড় দুই কর্মকর্তা বিরুদ্ধে। এ দুজন হলেন কৃষি তথ্য সার্ভিসের [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়িতে অবস্থিত কৃষি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)। গণমাধ্যমের সাহায্যে কৃষি তথ্যপ্রযুক্তি তৃণমূল পর্যায়ের কৃষকের কাছে পৌঁছানোই এ সংস্থার মূল লক্ষ্য। কিন্তু সেখানে কাজ হয় ভিন্ন।   বিভিন্ন প্রকল্প, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অপকর্মের মাধ্যমে এ সংস্থার অর্থ লোপাটের অভিযোগ মিলেছে বড় দুই কর্মকর্তা বিরুদ্ধে। এ দুজন হলেন কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক ড. সুরজিত সাহা রায় ও প্রেস ম্যানেজার খন্দকার জান্নাতুল ফেরদৌস।এআইএসেরই একাধিক সূত্র বলছে, এ দুজন শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এআইএসের গুটিকয়েক চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী এ সিন্ডিকেটের সদস্য। এ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অর্থ লোপাট সংক্রান্ত অভিযোগের অনেক নথির কপি রয়েছে।জানা গেছে, খামারবাড়ির সদর দপ্তরসহ দেশব্যাপী ১১টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে সেবা দিয়ে থাকে এআইএস। কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কৃষি উন্নয়নমূলক প্রচার-প্রচারণা; মন্ত্রণালয় ও এর বিভিন্ন সংস্থার চাহিদা অনুসারে মুদ্রণ সামগ্রী প্রকাশ, ভিডিও নির্মাণ ও প্রচার করে সংস্থাটি। এসবকে পুঁজি করেই সিন্ডিকেটটি দুর্নীতির ‘খোলা খাতা’ খুলে বসেছে</p>
<p>এআইএসের নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে জানতে পেরেছে সুরজিত ও ফেরদৌসের সিন্ডিকেটে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর সঞ্জিত কুমার ভৌমিক ও ক্যাশিয়ার মো. জুয়েল হোসেন সরাসরি জড়িত। তাদের ডান হাত- বাঁ হাত রয়েছে। সবাই মিলে ভুয়া বিল, ভাউচার ও কোটেশনের (বিতরণ না করেই) মাধ্যমে কয়েকটি সরবরাহকারী বা কোম্পানির প্যাড ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা লোপাট করেছেন বলে অভিযোগ ওই সূত্রের।</p>
<p>এআইএসের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও তাদের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কৃষি তথ্য সার্ভিস পরিচালক অনেক সময় ব্যবহার করেন কৃষি সচিবের নাম। কেউ তার বিরুদ্ধাচরণ করলে হতে হয় বদলি; কোনো কোনো সময় হতে হয় হয়রানির শিকার।অভিযোগ আছে, সুরজিতের চালিত সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাজে আচরণ করেন। মানসিক হয়রানিও করেন কেউ কেউ। সিন্ডিকেটের বাইরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি নিয়েও নানা রকম হয়রানি করা হয়। কেউ ছুটিতে গেলে তাদের ফোনে কল করেও খারাপ ব্যবহার করেন সিন্ডিকেট সদস্যরা।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এআইএসের এক নারী কর্মকর্তা  বলেন, সংস্থার কেনাকাটা থেকে শুরু করে সব বিষয়ে চিহ্নিত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গুরুত্ব দেন পরিচালক। ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাত ১০টা পর্যন্ত তার কক্ষে অবাধে যাতায়াত করেন। এতে তিনিসহ অন্যান্যরা বিব্রত বোধ করেন। পরিচালক সুরজিত কথায় কথায় ‘কৃষি সচিব আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ বলে তাদের হুমকি দেন। ছোট কোনো ঘটনা ঘটলেই ‘কৃষি সচিবকে জানিয়েছি’ বলে তিনি সবাইকে আতঙ্কে রাখেন।</p>
<p>কোটেশনের মাধ্যমে অর্থ লোপাট</p>
<p>জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে কৃষি তথ্য সার্ভিসের কোড (৩২১১১২৮) দেখিয়ে প্রকাশনা (কাগজ ও কালি ক্রয়) খাতে ১ কোটি ৫০ লাখ; কম্পিউটার সামগ্রী (কোড ৩২৫৫১০১) ১২ লাখ ৫৭ হাজার, ব্যবহার্য সামগ্রী (৩২৫৬১০৩) ১০ লাখ, অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম (৩২৫৮১০৫) ৩০ লাখ, অন্যান্য ভবন ও স্থাপনা (৩২৫৮১০৮) ১০ লাখ, আইসিটি ও সফটওয়্যার (৪১১৩৩০১) ১৫ লাখ ২০ হাজার, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি (৪১১২৩০৩) বাবদ ১৫ লাখ টাকাসহ অন্যান্য কোডের মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি টাকা পিপিআর-২০০৮-এর তফসিল ধারা অনুযায়ী সরকারি বিধান মতে কোনো প্রকার উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান না করে লোপাট করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কৌশল ছিল তিন লাখ টাকার মধ্যেই কোটেশনের মাধ্যমে নিজস্ব কোম্পানি/সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্যাড ব্যবহার করে বিল তুলে নেওয়া।পরিচালকের নির্দেশে প্রেস ম্যানেজার খন্দকার জান্নাতুল ফেরদৌসকে দিয়ে ভুয়া চাহিদাপত্র তৈরি করে কোটেশনের মাধ্যমে ক্রয় দেখিয়ে মালামাল না কিনেই অধিকাংশ কোডের টাকা তুলে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।</p>
<p>এ ছাড়া, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অধিকাংশ কোডের টাকা কোনো দরপত্র আহ্বান না করেই কোটেশনে মাধ্যমে তুলে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্র জানায়, বিলগুলো পর্যালোচনা বা তদন্ত করলে দেখা যাবে কয়েকটি সরবরাহকারী/কোম্পানির প্যাড ব্যবহার করে অধিকাংশ বিল কোটেশনের মাধ্যমে (২০২৩-২৪ অর্থবছর) তুলে নিয়েছেন সিন্ডিকেট সদস্যরা। এসব কোটেশন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে (এজি অফিসে) পাঠানো হয়েছে।</p>
<p> উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার ডায়েরি</p>
<p>২০২৩-২৪ অর্থবছরে কাগজ ও মুদ্রণ সামগ্রী কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সূত্র জানায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রতি বছর ১৩ হাজার ১০০টি করে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার কৃষি ডায়েরি এআইএস থেকে মুদ্রণ করে সরবরাহ করে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩ হাজার ১০০টি কৃষি ডায়েরি প্রতিটি ২০০ টাকা হারে ২৬ লাখ ১০ হাজার টাকার প্রাক্কলন করা হয়। কিন্তু পিপিআর-২০০৮ -এর তফসিল-২, পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা: ধারা ৯(২)ক পৃষ্ঠা নম্বর ৬৭০ সরকারি বিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত কোটেশনের মাধ্যমে ক্রয়ের বিধান রয়েছে।</p>
<p>ডায়েরি মুদ্রণ মালামাল ই-জিপিতে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান না করেই কাগজ ও মুদ্রণ সামগ্রী ছোট ছোট কোটেশন ৩ লাখ টাকার ভেতরে [২০২২- ২৩ অর্থবছরের বিল নম্বর ৫০০ থেকে ৫১৭, টোকেন নম্বর ৫২০৬৫ হতে ৫২০৮২ তারিখ: ২০ জুন ২০২৩ সালে ১৮টি কোটেশনের মাধ্যমে (প্রতিটি কোটেশনে ২ লাখ ৯০ হাজার ৮৯০ টাকা ও ২ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ টাকা করে)] ৫২ লাখ টাকার মুদ্রণ সামগ্রী নিজস্ব তিনটি সরবরাহকারীর প্রতিষ্ঠানের প্যাডে দ্বিগুণ দামে সরবরাহ দেখিয়ে ২৬ লাখ টাকা লোপাট করা হয়েছে। এসব ডায়েরি ছাপাতে সরবরাহকারীর প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশে কাগজ দেখানো হয়েছে (২২ ইঞ্চি বাই ৩২ ইঞ্চি) ৬১ গ্রাম। দাম ৩ হাজার ৬২ টাকা। অথচ, ডায়েরিগুলোয় কাগজ ব্যবহার করা হয়েছে (২০ ইঞ্চি বাই ৩০ ইঞ্চি) ৬১ গ্রাম, যার বাজার দর ১৫০০ থেকে ১৫৫০ টাকা।</p>
<p>এ অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে পুরান ঢাকার বাবু বাজারে বাজারদর যাচাই করা হয়। সেখানে দেখা যায়, যে মানের কাগজ ও মুদ্রণ সামগ্রী কোটেশনের মাধ্যমে কেনা হয়েছে সেগুলোর বাজারদর বাস্তবে অনেক কম। এআইএস কাগজ কিনেছে (২০ ইঞ্চি বাই ৩০ ইঞ্চি) ৬১ গ্রামের; যার বাজারমূল্য ১৫০০ থেকে ১৫৫০ টাকা। কিন্তু বিলে দেখানো হয়েছে (২২ ইঞ্চি বাই ৩২ ইঞ্চি) ৬১ গ্রাম। বাজারমূল্য দেখানো হয়েছে ৩ হাজার ৬২ টাকা।</p>
<p>এআইএসের একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ, এই দুর্নীতিতে সরাসরি জড়িত কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক সুরজিত সাহা রায়, তৎকালীন প্রধান তথ্য অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবু জাফর আল মনসুর ও প্রেস ম্যানেজার খন্দকার জান্নাতুল ফেরদৌস। এই তিন কর্মকর্তার কারণে সরকারের ২৬ থেকে ২৭ লাখ টাকা গচ্চা গেছে।</p>
<p>মুদ্রণ কাজের কাগজ ও কালি সরবরাহে অনিয়ম</p>
<p>কৃষি তথ্য সার্ভিস প্রতি বছর প্রিন্টিংয়ের কাজের বিভিন্ন সাইজের কাগজ ও ৪ কালার কালি দরপত্র আহ্বান করে সরবরাহ করে থাকে। অভিযোগ মিলেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩২১১১২৮ নম্বর কোডের আওতায় প্রকাশনা (কাগজ ও কালি ক্রয়) খাতে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার মুদ্রণ উপকরণ (কাগজ ও কালি) ই-জিপিতে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান না করে ৩ লাখ টাকার মধ্যে কোটেশনের সরবরাহ দেখিয়ে মালামাল কেনা হয়। কিন্তু সেগুলো গ্রহণ না করে দ্বিগুণ দাম দেখিয়ে নিজস্ব সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্যাডে বিল করে টাকা উত্তোলন করে ভাগবাটোয়ারা করেছেন সুরজিতের সিন্ডিকেটের সদস্যরা।</p>
<p>২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রকাশনা খাতে বরাদ্দকৃত ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার মধ্যে ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হলেও পরিচালক সুরজিত সাহা রায় এআইএসের পরিচিত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ৫২ লাখ ৯৬ হাজার ৮৯৫ টাকার কাগজ ও কালি সরবরাহের কাজ দেন।  </p>
<p>অভিযোগ উঠেছে, প্রেস ম্যানেজার খন্দকার জান্নাতুল ফেরদৌসের যোগসাজশে যে সাইজে কাগজ, গ্রাম ও পরিমাণ দ্বিগুণ দাম দেখিয়ে সরবরাহ করার চুক্তি ছিল সেভাবে সরবরাহ না করে গোপন চুক্তির মাধ্যমে এসবের দ্বিগুণ দাম দেখিয়ে নগদ ৭০ লাখ টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন সুরজিত ও তার সিন্ডিকেট।</p>
<p>২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর বিল/টোকেন নম্বর ২০৬ ও ৯ নভেম্বর ১৭৪৩০ নম্বর টোকেনে ১ কোটি ৫২ লাখ ৯৬ হাজার ৮৯৫ টাকায় ২২ ইঞ্চি বাই ৩২ ইঞ্চি ৬১ গ্রামের ৩৫০০ রিম; ২০ ইঞ্চি বাই ৩০ ইঞ্চি ৬১ গ্রামের ১০০ রিম; ২৩ ইঞ্চি বাই ৩৬ ইঞ্চি ৮০ গ্রামের ৮০ রিম; ২৩ ইঞ্চি বাই ৩৬ ইঞ্চি ১০০ গ্রামের ৫০ রিম; ২৩ ইঞ্চি বাই ৩৬ ইঞ্চি ১২০ গ্রামের ১০ রিম; ২৫ ইঞ্চি বাই ৩৬ ইজি ১০০ গ্রামের আর্টপেপার ৫০০ রিম; ২ পাউন্ড কালির ৫০০ কৌটা; ২ পাউন্ডের ৪ কালারের কালির ৭০ সেটের দ্বিগুণ দাম দেখিয়ে কোটেশন তৈরি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, পারটেক্স ব্র্যান্ডের কাগজ সরবরাহের কথা থাকলেও রিমের বান্ডিলে কম দামি অন্য ব্র্যান্ডের কাগজ সরবরাহ করেছেন প্রেস ম্যানেজার খন্দকার জান্নাতুল ফেরদৌস। সংস্থার জন্য কেনা কালি নিয়েও দুর্নীতি করেছেন তিনি।</p>
<p>কৃষি ডায়েরি-২০২৪ ছাপানোয় অনিয়ম</p>
<p>কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কৃষি তথ্য সার্ভিস ৯ হাজার কপি কৃষি ডায়েরি ছাপানোর কাজ করছে। এ কাজ চলমান। এখানেও ব্যাপক দুর্নীতি করেছেন সুরজিত ও তার সিন্ডিকেটের লোকজন। ডায়েরি ছাপানোয় ২২ ইঞ্চি বাই ৩২ ইঞ্চি ৬১ গ্রামের কাগজ ব্যবহার করার কথা। কিন্তু তারা  ২০ ইঞ্চি বাই ৩০ ইঞ্চি , ৬১ গ্রামের কাগজ দিয়ে ডায়েরি ছাপাচ্ছেন। কাগজের রিমের বান্ডিলের বাইরে পারটেক্স ব্র্যান্ড দেখানো হলেও ভেতরে অন্য কমদামি কাগজ দেওয়া হয়েছে। বাড়তি বিল দেখাতে এসব কারসাজি চলছে।</p>
<p>অভিযোগ আছে, রাতের আঁধারে নতুন প্রেস বিল্ডিংয়ের চারতলায় গোডাউনে এসব কাগজ তুলে রাখা হয়েছে। সূত্র দাবি করেছে, উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি করে চারতলার স্টোর পরিদর্শন করলে এসবের প্রমাণ মিলবে।</p>
<p>এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কৃষি তথ্য সার্ভিসের (প্রেস) স্টোর কিপার ইসরাত জাহান খান  বলেন, আমার কাছে যে রিকুইজিশন আসে সে মোতাবেক চাহিদা অনুযায়ী আমি সরবরাহ এবং গুদামজাত করি। আমি মাপ সংক্রান্ত কোনো কিছুই জানি না।</p>
<p> তিনি এসব বিষয়ে পরিচালকের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।</p>
<p>‘ফল সম্ভার বই’ না ছাপিয়ে বিল উত্তোলন</p>
<p>এআইএসের ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুন মাসে ফল মেলা উপলক্ষে ‘ফল সম্ভার বই’ ছাপানো বাবদ ২৫ নম্বর বিলে ১২৮ পাতার ৮৯০ কপি বইয়ের জন্য ২ লাখ ৪৮ হাজার ০৮৭; ২৬ নম্বর বিলে ২ লাখ ৯২ হাজার ৬৮৭ টাকা ও ২৭ নম্বর বিলে ২ লাখ ৯৫ হাজার ৪৭৫ টাকাসহ মোট ৮ লাখ ৩৬ হাজার ২৪৯ টাকা তুলে নিয়েছেন পরিচালক। ২০২৩ সালের ২ জুলাই এ অর্থ তুলে নেন তিনি।</p>
<p>এআইএসের ওই সূত্রের দাবি, তিনটি বিলই ভুয়া। প্রেস ম্যানেজার জান্নাতুল ফেরদৌস, তৎকালীন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (অ্যাগ্রি) মো. আবু জাফর আল মনসুর, ক্যাশিয়ার মো. জুয়েল হোসেন এসব বিলের অর্থ তুলে পরিচালকসহ ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন। ২০২৩ সালের ২২ জুন ৫৫৯ নম্বর বিলের মাধ্যমে ডিজিটাল পিভিসি স্টিকার প্রিন্ট ও স্ট্র্যাটো তৈরি দেখিয়ে ২ লাখ ৯৬ হাজার ৮৪০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।</p>
<p>এ ব্যাপারে কৃষি তথ্য সার্ভিসে প্রেস ম্যানেজারের খন্দকার জান্নাতুল ফেরদৌসেরকে উপ-সহকারীর ডায়েরি প্রিন্ট করতে কী মাপের কাগজ ব্যবহার করা হয়েছে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, দুঃখিত এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাচ্ছি না।</p>
<p>এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, আপনি মনে হয় রিপোর্টিং পারপাসে কিছু তথ্য জানতে চাচ্ছেন। আমি এসব বিষয়ে কথা বলতে চাই না। আপনি বরং আমাদের ডিরেক্টর স্যারের সাথে কথা বলেন।</p>
<p>পরে কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক ড. সুরজিত সাহা রায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কৌশলী উত্তরে দেন।কাগজ কেনায় দুর্নীতির ব্যাপারে তিনি বলেন, না দেখে কাগজের পরিমাপ বলতে পারব না। ডায়েরিতে সম্ভবত ৬১ গ্রামের কাগজ ব্যবহার করা হয়েছে। যে ঠিকাদার কোম্পানিকে কাগজ দিতে বলেছিলাম সেই কোম্পানি কাগজের জন্য এলসি খুলতে পারছিল না। তাই এসব কোটেশন করে কাগজ কিনতে বাধ্য হয়েছি।</p>
<p>কোটেশন করতে গিয়ে সরকারের ২৬ লাখ টাকা বাড়তি খরচ হয়েছে কি না, প্রশ্ন করলে পরিচালক বলেন, না, সরকারের কোনো ক্ষতি হয়নি। সময় মতো ডায়েরি প্রস্তুত করে দিতে হয় বলে কোটেশন করে কাজ করতে দিয়েছি। আমার হাতে ডকুমেন্ট না থাকায় বলতে পারছি না। যারা দায়িত্বে আছেন (প্রেস ম্যানেজার) তারা বলতে পারবেন।</p>
<p>ফল সম্ভার বই না ছাপিয়ে ৯ লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন কি না প্রশ্ন করলে সুরজিত তা অস্বীকার করেন। তাদের কাছে ফল সম্ভার বই আছে উল্লেখ করে তিনি এ প্রতিবেদককে কৃষি তথ্য সার্ভিসে এসে সেগুলো দেখে আসার কথা বলেন।২০২৩ সালে উপসহকারী ডায়েরি তৈরির কোটেশনে দেখানো হয় ২২ ইঞ্চি বাই ৩২ ইঞ্চি কাগজের। কিন্তু ডায়েরিতে ব্যবহার হয় ২০ ইঞ্চ বাই ৩০ ইঞ্চি কাগজের, কেন এমন শুভঙ্করের ফাঁকি? </p>
<p>উত্তরে এআইএস পরিচালক বলেন, এ বিষয়ে আমি বলতে পারব না। এখানে দায়িত্বে আছেন আমাদের প্রেস ম্যানেজার।কৃষি সচিব বন্ধু পরিচয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে পরিচালক সুরজিত সাহা রায় বলেন, সচিব আমার বন্ধু হতেই পারেন। আমি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করি না।এআইএস পরিচালক সুরজিতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে কি না জানতে কৃষিসচিব ওয়াহিদা আক্তারকে কয়েকবার তার নম্বরে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://skynews24.net/archives/26949/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ</title>
		<link>https://skynews24.net/archives/26651</link>
					<comments>https://skynews24.net/archives/26651#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 18 Aug 2026 08:39:11 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[2ndlead]]></category>
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<category><![CDATA[বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://skynews24.net/?p=26651</guid>

					<description><![CDATA[বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, ভুয়া বিল উত্তোলন, টেন্ডারবাজি ও ঠিকাদারদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ২৪ জন ঠিকাদার। অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলীর চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে কমিশন না দিলে কোনো ঠিকাদারের কাজ শতভাগ শেষ হলেও বিল পরিশোধ [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, ভুয়া বিল উত্তোলন, টেন্ডারবাজি ও ঠিকাদারদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ২৪ জন ঠিকাদার।</p>
<p>অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলীর চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে কমিশন না দিলে কোনো ঠিকাদারের কাজ শতভাগ শেষ হলেও বিল পরিশোধ হয় না। এমনকি মাঠপর্যায়ে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকলেও কাগজে-কলমে অগ্রগতি দেখিয়ে বিলের কাজ এগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কাজের জামানতের টাকা ফেরত পেতেও অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন ঠিকাদাররা।</p>
<p>‎</p>
<p>‎ঠিকাদারদের অভিযোগ, নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কথা বললে বিল আটকে দেওয়া এবং কাজের সাইটে নানা ধরনের জটিলতা তৈরির আশঙ্কায় অনেকে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। এ কারণে কয়েকজন ঠিকাদার ছদ্মনামে তাঁদের অভিযোগের কথা জানিয়েছেন।</p>
<p>‎</p>
<p>‎রাসেল (ছদ্মনাম) নামে এক ঠিকাদার বলেন, কাজের মান শতভাগ ঠিক থাকলেও স্যারের নির্ধারিত কমিশন না দিলে ফাইল স্বাক্ষর হয় না। আমরা এখন পুরোপুরি তাঁর কাছে জিম্মি।</p>
<p>‎আরিফ (ছদ্মনাম) নামে আরেক ঠিকাদার বলেন, নাম প্রকাশ্যে এলে চলতি প্রকল্পের বিল আটকে দেওয়া হবে এবং সাইটে নানা অজুহাতে ত্রুটি ধরা হবে। তাই বাধ্য হয়ে নাম গোপন রেখে প্রতিবাদ করছি।</p>
<p>‎</p>
<p>‎অভিযোগে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছরের ২৯ নভেম্বর ফারুক হোসেন নামে এক ঠিকাদারকে ফোনে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। এর পরদিন ৩০ নভেম্বর বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় এ ঘটনায় লিখিত সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-২০৭৬) করেন ওই ঠিকাদার।</p>
<p>‎</p>
<p>‎এ ছাড়া দপ্তরের সরকারি রেস্ট হাউস ব্যক্তিগত ও অনৈতিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগও সচিবের কাছে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।</p>
<p>‎</p>
<p>‎জাহিদ (ছদ্মনাম) নামে এক ঠিকাদার বলেন, সরকারি রেস্ট হাউস ব্যক্তিগত ও অনৈতিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। একটি সরকারি দপ্তরের প্রশাসনিক প্রধানের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়।</p>
<p>‎</p>
<p>‎অয়ন (ছদ্মনাম) নামে আরেক ঠিকাদার বলেন, মাঠপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি না থাকলেও কাগজে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল উত্তোলনের যে অভিযোগ উঠেছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।</p>
<p>‎</p>
<p>‎অভিযোগ অস্বীকার নির্বাহী প্রকৌশলীর ‎অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।</p>
<p>‎</p>
<p>‎তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কতিপয় স্বার্থান্বেষী ঠিকাদার নিয়মবহির্ভূত সুবিধা না পেয়ে আমার বিরুদ্ধে কাল্পনিক ও অপপ্রচারমূলক অভিযোগ তুলছেন। দপ্তরের প্রতিটি প্রকল্প সরকারি বিধিমালা মেনে স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য প্রকাশিত হবে।</p>
<p>‎</p>
<p>‎তবে অভিযোগ ওঠার পর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সরাসরি সাক্ষাৎ না দিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্টের কথা বলে এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ নিয়েও স্থানীয় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।</p>
<p>‎</p>
<p>‎সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও প্রকল্পের মান নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর বিষয়ে শিক্ষা বিভাগ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://skynews24.net/archives/26651/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>গণপূর্ত’র শীর্ষ পদে নিয়মিত হওয়ার চেষ্টায় বালিশ কেলেঙ্কারীর মূলহোতা!</title>
		<link>https://skynews24.net/archives/26637</link>
					<comments>https://skynews24.net/archives/26637#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 17 Aug 2026 11:18:40 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[2ndlead]]></category>
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<category><![CDATA[গণপূর্ত’র শীর্ষ পদে নিয়মিত হওয়ার চেষ্টায় বালিশ কেলেঙ্কারীর মূলহোতা! ছবির ক্যাপশন: খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে পোস্টিং]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://skynews24.net/?p=26637</guid>

					<description><![CDATA[গণপূর্ত’র শীর্ষ পদে নিয়মিত হওয়ার চেষ্টায় বালিশ কেলেঙ্কারীর মূলহোতা! ছবির ক্যাপশন: খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে পোস্টিং বাণিজ্য, ভাই-ভাগিনাদের দিয়ে ঠিকাদারী ব্যবসা, ডেভেলপার ব্যবসা, সন্ধ্যার পরে ও ছুটির দিনগুলোতে একটি গোপণ আস্তানায় অফিস করা, আওয়ামী কানেকশন, স্টাফ অফিসার কেলেঙ্কারীসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও লাগাতার দুর্নীতির অভিযোগ জয়নাল আবেদীন যশোরী ও আসাদ মাহমুদ: রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রর গ্রীণসিটির [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>গণপূর্ত’র শীর্ষ পদে নিয়মিত হওয়ার চেষ্টায় বালিশ কেলেঙ্কারীর মূলহোতা! ছবির ক্যাপশন: খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে পোস্টিং বাণিজ্য, ভাই-ভাগিনাদের দিয়ে ঠিকাদারী ব্যবসা, ডেভেলপার ব্যবসা, সন্ধ্যার পরে ও ছুটির দিনগুলোতে একটি গোপণ আস্তানায় অফিস করা, আওয়ামী কানেকশন, স্টাফ অফিসার কেলেঙ্কারীসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও লাগাতার দুর্নীতির অভিযোগ</p>
<p>জয়নাল আবেদীন যশোরী ও আসাদ মাহমুদ:<br />
 রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রর গ্রীণসিটির নির্মাণ কাজে বালিশ কেলেঙ্কারী নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় হয় ২০১৯ সালে। সাড়া জাগানো বালিশ কান্ডের সময়ে রাজশাগী গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন খালেকুজ্জামান চৌধরী। এর আগে প্রকল্পের শুরুতে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে এই কর্মকর্তার হাত দিয়েই গ্রীণসিটির টেন্ডার প্রত্রিয়া শুরু হয়। বালিশ কান্ডের পরিকল্পনা সে সময়েই রচিত হয়। বালিশকান্ডে উপসহকারী প্রকৌশলীরা ফেঁসে গেলেও মুলহোতা খালেকুজ্জামান চৌধুরী রয়ে গেছেন ধরাছোয়ার বাইরে। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক জার্সি ত্যাগ করে সময়-সুযোগে ঝোপ বুঁঝে কোপ মেরে তিনিই এখন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী। আর এই পদে বর্তমানে নিয়মিসত হওয়ার জন্য জোড় প্রচষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।<br />
বালিশ কান্ড নিয়ে প্রধান মন্ত্রীর বক্তব্য: রুপপুরের বালিশ কান্ড নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ১২ মে সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় ১৭ বছরের স্বৈরাচারী আমলের দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থ পাচার নিয়ে কথা বলার সময় তিনি বলেন, একটি প্রকল্পের বালিশ কেনা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা করে। ৮০ হাজার টাকায় একটি বালিশ, সেই বালিশে ঘুম হবে কী-না এটা একটা চিন্তার বিষয়। এর আগে গত  মে সিএজি’র উত্থাপিত অডিট রিপোর্টের প্রতিবেদনে প্রতিটি বালিশের অবিশ্বাস্য দাম দেখে প্রধানমন্ত্রী সিএজিকে বলেন, এই দামি বালিশগুলোর একটি জাদুঘরে রাখা উচিত।<br />
খালেদা জিয়ার বাড়ি ভাঙ্গার ঠিকাদারকে প্রতিষ্ঠিত করে নিজে প্রতিষ্ঠিত খালেকুজ্জামান: ঢাকা সেনানীবাসে খালেদা জিয়ার বাড়ি ভাঙ্গার ঠিকাদার মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশনকে রূপপুরে বড় বড় কাজ পাইয়ে দেওয়া কর্মকর্তা বর্তমানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী। অবাক করার মতো বিষয় হলেও বর্তমানে এটাই বাস্তব ও চিরসত্য। বিএনপি’র ঊদ্ধর্তন পর্যায়ের বেশীরভাগ নেতৃবৃন্দ বিষয়টিকে মনেপ্রাণে না মানতে পারলেও কোন এক বিশেষ আশীর্বাদে অদৃশ্য রাহুর প্রভাবে খালেকুজ্জামান চৌধুরী গণপূর্ত অধিদপ্তরের শীর্ষ পদে বহালতবিয়তে আছেন।<br />
খালেকুজ্জামান চৌধুরী ২০১৪’র শেষদিক থেকে শুরু করে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছিলেন পাবনা গণপূর্ত ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী। সে সময়ে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্রীণসিটি প্রকল্পের বহুতল বিশিষ্ট ভবনগুলোর নির্মাণের টেন্ডার হয়। প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান ওই দপ্তরে থাকতেই বহুতল বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ কাজগুলোর কার্যাদেশ দেওয়া হয়। আপোষহীন নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বাড়ি ভাঙ্গার পুরুষ্কার হিসাবে মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিঃ নামক প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে সাজিন ও তমা কনস্ট্রাকশনকে নিয়ে একটি লুটেরা সিন্ডিকেট তৈরী করে নামে-বেনামে প্রায় সবগুলো কাজ পাইয়ে দেওয়া হয় রূপপুর গ্রীণ সিটিতে। এর নেপথ্য কারিগর ছিলেন তখনকার নির্বাহী প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী। বিনিময়ে হাতিয়ে নিয়েছেন শতাধিক কোটি টাকা। ২০১৯ সালে রূপপুরে বালিশ কেলেঙ্কারীর ঘটনা প্রকাশের সময়েও তিনিই রাজশাহী গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে থেকে শুধুমাত্র নিজের ব্যাচমেট ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রকৌশলী জিল্লুর রহমান ছাড়া নীরিহ উপসহকারী প্রকৌশলীদের বলির পাঠা বানিয়ে তিনি নিজেসহ ঊর্দ্ধতন প্রকৌশলীদের বাঁচিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। কালের বিবর্তনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারের সময়ে তিনিই এখন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী পদে থাকায় বিএনপি’র বেশীরভাগ ঊর্দ্ধতন নেতারা বিষ্ময় ও উষ্মা প্রকাশ করেছেনূ। পদে বসে ফ্যাসিবাদের রক্ষকবচ হিসাবে কাজ করা, স্বৈরাচারের তোষণ, নারী কেলেঙ্কারী ও বদকর্মে চ্যাম্পিয়ন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুলকে অবৈধ কালেকশনের ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব দেওয়া, নিয়োগ টেন্ডার পোষ্টিং পদোন্নতি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে ওই প্রকৌশলীসহ পাঁচ/ছয়জনকে নিয়ে ঘুষ বাণিজ্যের সিন্ডিকেট গঠন, পিএইচডি ডিগ্রী জালিয়াতি লিয়েনের শর্ত ভঙ্গ অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব গ্রহণ ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ অস্ট্রেলিযায় পাঁচার, বেইলীরোডে ভয়াবহ অগ্নি দুর্ঘটনায় বহুলোকের প্রাণ কেড়ে নেওয়া গ্রীণ কোজি কটেজ রেষ্টুরেন্টের নকশা অনুমোদনসহ বহুগুণে গুণান্বিত প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী। তবুও স্বৈরাচারের একনিষ্ঠ দোসর এই রকম একজন ফ্যাসিস্ট গুণধর কর্মকর্তা গণপূর্ত প্রধান প্রকৌশলীর সেবায় ধন্য হতে চলেছে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের একশ্রেণীর লোকেরা। জাতীয়তাবাদী সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও উন্নয়নের এজেন্ডা বাস্তবায়ন হতে চলেছে বিতর্কিত ও ফ্যাসিস্ট গুণধর এই প্রকৌশলীর হাত দিয়ে। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের। </p>
<p>যেভাবে গণপূর্তর শীর্ষ পদে খালেকুজ্জামান:  ২০২৫ এর ২৮ অক্টোবর সকালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব তাসনিম ফারহানা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপণে মোহাম্মদ শামীম আখতারকে তখনকার প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রিজার্ভ) পদে পদায়ন করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে মো. খালেকুজ্জামন চৌধুরীকে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব দেয়া হয়। অখচ ওই সময়ে গ্রেডেশন তালিকা অনুযায়ী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর চেয়ে সিনিয়র ছিলেন মো. আশরাফুল আলম, ড. মো. মঈনুল ইসলাম, মো. শামছুদ্দোহা ও মো. আবুল খায়ের। একদিন পরে আরেকটি প্রজ্ঞাপণে তাকে চলতি দায়িত্বে প্রধান প্রকৌশলী পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পূর্ত প্রকৌশলীদের মধ্যে জোড়ালো গুঞ্জন রয়েছে ওই দায়িত্ব প্রদানে শত কোটি টাকার গোপণ লেনদেন হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলমের মাধ্যমে সদ্য সাবেক জামায়াতপন্থী সচিবের ভাই আমিনুর রহমানের হাত দিয়ে এই টাকা লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান ও বদরুল ধরে নিয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসছে। সে অনুযায়ী জামায়াতের নায়েবে আমীর ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া (পরাজিত প্রার্থী) তাহেরকে গত ১০ ফেব্রুয়ারী প্রধান প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে প্রকৌশলী বদরুল আলম ১ কোটি টাকা নির্বাচনী খরচ পাঠিয়ে দেন। ওইদিন সন্ধ্যার পরে পূর্ত ভবনের জোন বিল্ডিং থেকে সাভার সার্কেলের লাল গাড়িতে করে ওই টাকা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়।<br />
প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান ছাত্র জীবনে কুয়েট থেকে লেখাপড়া করছেন এবং কুয়েট ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার পর তিনি এখন গণপূর্তের কুয়েট, চুয়েট ও রুয়েট নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিভেদ সৃষ্টি করে গণপূর্ত অধিদপ্তরে একটি নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরী করেছেন। ৩/৪টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন গণপূর্ত প্রকৌশলীরা। এ কারণে ভেঙ্গে পড়েছে চেইন অব কমান্ড। ফুঁসে উঠছে শোষিত বঞ্চিত প্রকৌশলীরা।<br />
আরো  জানা যায়, ফ্যাসিবাদের অন্যতম দোসর সাবেক পূর্ত সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকারের আশীর্বাদপ্রাপ্ত গণপূর্ত অধিদপ্তরের ১৫তম ব্যাচের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী ২০১৪ সালে পিএইচডি ডিগ্রি জলিয়াতে ধরা পড়ে শাস্তির বদলে পেয়েছেন পাবনা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে প্রাইজ পোস্টিং। সেখানে গ্রীণসিটি প্রকল্পের টেন্ডারে মজিদ সন্স ও সাজিন কনস্ট্রাকশনকে ব্যাপক সুবিধা পাইয়ে দিয়ে শতাধিক কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১৬ সালে ওই সময়ের প্রধান প্রকৌশলী টিপু মুন্সী তাকে চুয়াডাঙ্গায় বদলী করেন। এর পরে নতুন করে কথিত লিয়েন কাটিয়ে পিএইচডি ডিগ্রী জালিয়াতি করে ধরা খেয়েও সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকারের মাধ্যমে দন্ড মওকুফ করিয়ে নিয়ে ২০১৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও সল্প ব্যবধানে পুনরায় পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়ে রাজশাহীতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে থেকে বালিশ কান্ডে উপসহকারী প্রকৌশলীদের ফাঁসিয়ে দিয়ে নিজেসহ উর্দ্ধতনদের রক্ষা করার ব্যবস্থা করেন তিনি। পরবর্তীতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসাবে খুলনার দায়িত্বে থেকে শেখ হেলালের পদ লেহন করে আওয়ামী এজেন্ডার সুপরিকল্পিত ও সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করায় শেখ হাসিনার নির্দেশে তাকে গোপালগঞ্জে নিয়ে আসা হয় ২০২৪ সালে। গত বছরের ২৪ জুন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তাকে ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন জোনের’ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে আবারও প্রাইজ পোস্টিং বাগিয়ে নেন জামায়াতের ঊর্দ্ধতন নেতাদের তদবীরে। গণপূর্ত মেট্টোপলিটন জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার পর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তখন থেকেই ঠিকাদার ও ঢাকা শহরে একাধিক ওয়ার্কিং ডিভিশনে নির্বাহী প্রকৌশলীর মাধ্যমে শত কোটি টাকা কালেকশন করে জামায়াতকে ম্যানেজ করে তখনকার প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের আরো ২মাস চাকরি থাকা সত্ত্বেও ল্যাং মেরে ফেলে দিয়ে প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ার দখল করেন। গণপূর্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।<br />
আরো জানা যায়, চাকরি জীবনে খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বড় সময় কেটেছে অস্ট্রেলিয়ায়। স্ত্রী-সন্তান অস্ট্রেলিয়ায় থাকায় সেখানে তিনি বহুবার যাতায়াত করেন। শিক্ষা ছুটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যান, পিএইচডি এর নাম করে দফায় দফায় ছুটি বাড়িয়েছেন তিনি। অনুমোদনবিহীন ছুটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়াতে চাকুরিও করেছেন। ফিরে এলে তার বিরুদ্ধে ডিজারশনের মামলা হবার কথা।<br />
অপরদিকে, রাজধানীর বেইলি রোডে ২০২৪ সালের শুরুতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে কঙ্কালসার হয়ে যায় গ্রিন কোজি কটেজ। সাততলার এই বাণিজ্যিক ভবনে ওই বছর প্রাণ হারিয়েছিল ৪৬ জন; দগ্ধ ও আহত হয় আরও ১৩ জন। ঘটনার রেশ কাটার আগেই রাজধানীজুড়ে হোটেল রেস্তোরাঁগুলোয় সাঁড়াশি অভিযান চালায় পুলিশ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও সিটি করপোরেশন। গ্রেপ্তার করা হয় আট শতাধিক মানুষকে। জনমনে প্রশ্ন ওঠে, গ্রিন কোজি কটেজে থাকা রেস্তোরাঁগুলোতে প্রতিদিন যেখানে অসংখ্য মানুষ ভিড় করত, সেই ভবনের নকশার এমন করুণ দশা কেন? ভবনটিতে কোনো জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা ছিল না কেন? ভবনে চলাচলের সিঁড়িটাই-বা এত সরু কেন? জরুরি নির্গমন পথ থাকলে বা সিঁড়িটা প্রশস্ত হলে তো এত প্রাণহানি হতো না। পত্রপত্রিকা মারফত খবর আসে, গ্রিন কোজি কটেজের নকশার অনুমোদন দিয়েছিলেন তৎকালীন রাজউক অথোরাইজড অফিসার প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী। ২০১১ সালে রাজউকের অথরাইজড অফিসার হিসেবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি ভবনটির অনুমোদন দেন। সে সময় খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে নিয়ে ব্যাপক শোরগোল চললেও গোপালগঞ্জ সিন্ডিকেটের ম্যাজিকে একপর্যায়ে তা থেমে যায়।<br />
রাজউক সূত্রে জানা যায়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে ২০১১ সালে খালেকুজ্জামান অথরাইজড অফিসার প্রেষণে রাজউকে আসেন। সে সময় বেইলি রোডে গ্রিন কোজি কটেজ ভবনের নকশার অনুমোদন দেন তিনি। জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা না থাকা, সরু একটিমাত্র সিঁড়িসহ নানা অনিয়মে পূর্ণ ছিল নকশাটি। গোপালগঞ্জপন্থী ও গণভবনের আশীর্বাদপুষ্ট এই কর্মকর্তা চাকুরি বিধিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পরিস্থিতি অনুমানে ঝোঁপ বুঝে কোপ মেরে বার বার শাস্তির বদলে পেয়েছেন পুরস্কার। অথচ এখন তিনি সবচেয়ে বড় ছাত্রদল (সাবেক) নেতা সেজেছেন। সুযোগ বুঝে ভোল পাল্টানো এই কর্মকর্তা ইতোমধ্যে ঠিকাদার অফিসারদের নিয়ে একটি লগ্নিকারী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেটটির সাথে তার গোপণ সমঝোতা হয়েছিলো প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার পরে বদলী টেন্ডার বাণিজ্যের সিন্ডিকেট তাদের হাতেই থাকবে। গত নভেম্বর থেকে ওই সিন্ডিকেটই অধিদপ্তরের যাবতীয় পোষ্টিং পদোন্নতি টেন্ডারসহ গণপূর্তের সকল কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রধান প্রকৌশলীর পদে বসেই এক সপ্তাহে অর্ধশতাধিক বদলী অর্ডার করেন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। গোপণীয় ঘুষ বাণিজ্যের অংশ হিসাবে মার্চ মাসে একই দিনে ৫৭ প্রকৌশলীকে বদলী করা হয়। পরবর্তীতে মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে গত ১০ মার্চ ভিন্ন ভিন্ন প্রজ্ঞাপনে তা বাতিল করতে বাধ্য হন প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান। এতো নাটকীয়তা সত্ত্বেও চিহ্নিত অভিযুক্ত মার্কামারা দুর্নীতিবাজ কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে ইতোপূর্বে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় পোষ্টিং দিয়ে ফ্যাসিবাদকে উসকে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন মহিলা প্রকৌশলীকে সাথে নিয়ে বিদেশ ট্যুরের নামে প্রমোদ ভ্রমন করে এসেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। এ নিয়ে রসালো গুঞ্জন রয়েছে গোটা গণপূর্ত অধিদপ্তর জুড়ে। এ বিষয়ে আমাদের তথ্যানুসন্ধান অব্যাহত আছে। </p>
<p><img decoding="async" src="https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/fbi3-300x162.jpeg" alt="" width="300" height="162" class="alignnone size-medium wp-image-26639" srcset="https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/fbi3-300x162.jpeg 300w, https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/fbi3.jpeg 680w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" />প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান ও স্টাফ অফিসার ফারিবা হালিম অরিন</p>
<p>স্টাফ অফিসার কেলেঙ্কারী: গণপূর্ত’র ইতিহাসে অতীতে কোন প্রধান প্রকৌশলী নারী স্টাফ অফিসার রাখেননি। বর্তমানে চলতি দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী চেয়ারে বসার একদিন পরেই একজন মহিলা এসডিইকে (উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ফারিবা হালিম অরিণ) স্টাফ অফিসার হিসাবে নিয়ে আসেন। অথচ এই পদটি নির্বাহী প্রকৌশলী পদমর্যাদার। ওই নারী এসডিইকে দুই মাস পরে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। প্রধান প্রকৌশলী বেশীরভাগ দাপ্তরিক কাজ এই নারী স্টাফ অফিসারের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। আলোচিত স্টাফ অফিসার ও বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী দু’জনেই লিয়েনে অস্ট্রেলিয়ায় ছিলেন। সেখানেই তাদের জানাশোনা। ভালো বোঝাপড়ার কারণে তাকেই স্টাফ অফিসার হিসাবে নিয়ে এসেছেন প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান। তবে বিষয়টি নিয়ে রসালো আলোচনা সমালোচনা চলছে গণপূর্ত প্রকৌশলীদের মধ্যে। </p>
<p>বদলী পদোন্নতি ও টেন্ডার নিয়ে ৫/৬ জনের সিন্ডিকেট: ডিপার্টমেন্টের বদলী পদোন্নতি টেন্ডারসহ সামগ্রীক বিষয় নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে রয়েছে পাঁচজনের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান ছাড়া অন্য চারজন হচ্ছেন-তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১) বদরুল আলম খান (তিনি বদকর্ম ও নারী কেলেংকারীতে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরিচিত), সংস্থাপণ শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান, সার্কেল-২ এর স্মার্ট দুর্নীতিবাজ হিসেবে পরিচিত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু নাসের চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলীার ওই নারী স্টাফ অফিসার ও ই/এম এর একজন নির্বাহী প্রকৌশলী পদের নারী কর্মকর্তা। </p>
<p><img decoding="async" src="https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/fbi3-300x162.jpeg" alt="" width="300" height="162" class="alignnone size-medium wp-image-26639" srcset="https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/fbi3-300x162.jpeg 300w, https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/fbi3.jpeg 680w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p><img fetchpriority="high" decoding="async" src="https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/vgn3-300x170.jpeg" alt="" width="300" height="170" class="alignnone size-medium wp-image-26640" srcset="https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/vgn3-300x170.jpeg 300w, https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/vgn3.jpeg 500w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" />খালেকুজ্জামানের ভাই ও ভাগিনা<br />
প্রধান প্রকৌশলীর আত্মীয়-স্বজনদের দিয়ে ঠিকাদারী: খালেকুজ্জামান প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার পরে গোটা গণপূর্ত দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ভাগিনা জগলু। সে এখন গণপূূর্ত প্রকৌশলীদের গণ ভাগ্নে। ভাই পরিচয়ে জনৈক ডলার কাজ নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন গণপূর্ত’র প্রতিটি ডিভিশনের। প্রধান প্রকৌশলীর চাচাতো মামাতো ভাই ভাতিজাও আছেন এ্ই তালিকায়। সাথে আরো আছেন সদ্য সাবেক গৃহায়ন গণপূর্ত সচিব নজরুল ইসলামের আপন ছোট ভাই আমিনুল ইসলাম। এই আমিনুল ইসলামই সচিবের সাথে যাবতীয় অনৈতিক লেনদেনের বাহক হিসাবে এতাদিন কাজ করেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।<br />
ডেভেলপার ব্যবাসা: প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান আগে থেকেই নিজের ভাই ও ভাগিনা নিয়ে ডেভেলপার ব্যবসায় জড়িত। রাজধানীর ফার্মগেইট এলাকার রয়েছে ওই ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের অফিস। প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার অভিযাত এলাকা গুলশান ও বনানীতে অসংখ্য ভবন বানিয়ে ফ্ল্যাট ব্্যবসা করছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। বিষয়টি আমাদের অনুসন্ধানী টিমের পর্যাবেক্ষণে রয়েছে।  </p>
<p>জালিয়াতিতে শস্তিপ্রাপ্ত খালেকুজ্জামান:<br />
ভুয়া পিএইচডি সনদ দেখিয়ে উচ্চতর শিক্ষা ছুটিতে প্রেষণ ভোগের ঘটনায় বিভাগীয় মামলা হয় গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে। বিভাগীয় তদন্তে জালিয়াতি ও অসদাচরণের বিষয়টি প্রমাণিত হলে তিনি দোষ স্বীকার করেন। তবে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সঙ্গে ‘ফুপু-ভাতিজা’ সম্পর্কের সুবাদে তাকে দেওয়া হয় লঘুদন্ড। মাত্র এক বছরের জন্য বন্ধ রাখা হয় বেতন বৃদ্ধি।<br />
এই শাস্তির তিন বছরের মধ্যেই ফুপুর প্রভাবে তিনি হন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে পদোন্নতি পান অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে। এরপর দায়িত্ব পালন করেন গোপালগঞ্জ গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে।<br />
জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি খোঁজেন নতুন রাজনৈতিক পরিচয়। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের স্ত্রী ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরীকে (সুইটি) ‘ফুপু’ হিসেবে পরিচয় দেন। জামায়াতপন্থি তৎকালীন গণপূর্ত সচিব নজরুল ইসলামের তদবিরে তখন পাঁচজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীকে ডিঙিয়ে বসেন প্রধান প্রকৌশলীর (রুটিন দায়িত্ব) চেয়ারে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে টেন্ডার ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে।</p>
<p><img decoding="async" src="https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/anl3-300x202.jpeg" alt="" width="300" height="202" class="alignnone size-medium wp-image-26641" srcset="https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/anl3-300x202.jpeg 300w, https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/anl3.jpeg 503w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" />খালেকুজ্জামানকে জালিয়াতির দায়ে দেওয়া শাস্তির অনুলিপি</p>
<p>বর্তমানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্বে) হিসেবে আছেন মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী। এই পদ স্থায়ী বা নিয়মিত করতে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ইতিমধ্যেই জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের ডিঙিয়ে পদোন্নতির সংক্ষিপ্ত তালিকার শীর্ষে নিজের নাম বসাতে সমর্থ হয়েছেন। বাকি জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের বাদ দিতে তাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যার সাজানো মামলার তথ্য জমা দেওয়া হয়েছে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডে (এসএসবি)। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের দালিলিক নথিপত্র পর্যালোচনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।<br />
রাজনৈতিক আত্মীয়তায় জ্যেষ্ঠতা ডিঙ্গিয়ে পদোন্নতি:  গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা তালিকা ও পার্সোনাল ডাটা শিট (পিডিএস) পর্যালোচনায় দেখা যায়, খালেকুজ্জামান চৌধুরী ক্ষমতার পালাবদলের সুযোগ বারবার কাজে লাগিয়েছেন। ১৯৮৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চাকরিজীবনে সরকারি প্রেষণ ও ছুটির সুযোগে তিনি প্রায ১১ বছর অস্ট্রেলিয়ায় ছিলেন। পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হলেই দেশে ফিরে এসেছেন।<br />
পোস্টের হাতে আসা নথি অনুযায়ী, প্রেষণে যেতে তিনি ভুয়া অফার লেটার ও জাল কাগজপত্র তৈরি করেছিলেন। এতে বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট তৎকালীন গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার তার এক বছরের বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করেন। আওয়ামী লীগ নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সুপারিশে গুরুদন্ড এড়িয়ে সে যাত্রায় এই লঘুদন্ড পান তিনি।<br />
বিভাগীয় মামলার তিন বছরের মধ্যেই এই আওয়ামী লীগ নেত্রীর লিখিত সুপারিশে খালেকুজ্জামান একই বছরে দুই দফা পদোন্নতি পান। তখন সাজেদা চৌধুরীকে ‘ফুপু’ ডাকতেন তিনি।<br />
সরকারি চাকরির সার্ভিস রেকর্ড বলছে, ২০১৯ সালের ২২ জুলাই খালেকুজ্জামান চৌধুরী নিয়মিত পদোন্নতি পান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে। এর কয়েক মাসের মাথায় ১৫ ডিসেম্বর পদোন্নতি পান অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে। রীতি ভেঙে তখন এই পদোন্নতি দেওয়া হয় তাকে।<br />
জুলাই অভ্যুত্থানের পর বদলে যায় খালেকুজ্জামান চৌধুরীর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান। আওয়ামী লীগের বদলে এবার জামায়াত ঘনিষ্ঠ বনে যান তিনি।<br />
জামায়াতপন্থি সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম এবং জামায়াত নেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের তদবিরে ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর পাঁচজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীকে ডিঙিয়ে বসেন প্রধান প্রকৌশলীর (চলতি) চেয়ারে। এর আগে তাকে গোপালগঞ্জ থেকে দেওয়া হয়েছিল ঢাকা মেট্রো জোনের দায়িত্ব।<br />
খালেকুজ্জামানের বাড়ি ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার তালমা গ্রামে। একই উপজেলার ফুলসুতি গ্রামে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের শ্বশুরবাড়ি।<br />
ডা. তাহেরের শ্বশুর আহম্মদ উল্লাহ চৌধুরী এবং খালেকুজ্জামানের বাবা বদিউজ্জামান চৌধুরী সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। এই সূত্রে জামাযাত নেতার স্ত্রী ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরীকে (সুইটি) তিনি ডাকেন ‘ফুপু’। এই আত্মীয়তার সুবাদে গত অন্তর্র্বতী সরকারের সময় ডা. তাহেরের প্রভাবে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি পান তিনি।</p>
<p>ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আবারও নিজের রাজনৈতিক রূপ বদলে ফেলেন এই কর্মকর্তা। বর্তমানে নিজেকে পরিচয় দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের ঘনিষ্ঠ ও আত্মীয় হিসেবে।</p>
<p>জ্যেষ্ঠদের বাদ দিতে সাজানো মামলার তালিকা ঃ প্রধান প্রকৌশলী পদ স্থায়ী করতে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) বৈঠকের জন্য গত ৬ জুলাই গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় পাঁচজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর তালিকা। এই তালিকায় প্রশাসনিক জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" src="https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/a4l-300x216.jpeg" alt="" width="300" height="216" class="alignnone size-medium wp-image-26642" srcset="https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/a4l-300x216.jpeg 300w, https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/a4l.jpeg 502w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" />প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জানের বিরুদ্ধে দুদকে দেওয়া অভিযোগ ও থানায় দায়েরকৃত সাধারণ ডায়েরির অনুলিপি</p>
<p>বর্তমানে অধিদপ্তরের দাপ্তরিক জ্যেষ্ঠতার তালিকায় শীর্ষে আছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের (ঢাকা জোন) ও উৎফল কুমার দে (রিজার্ভ)। জ্যেষ্ঠতার হিসেবে তিন নম্বরে থাকা খালেকুজ্জামান চৌধুরী নিজেকে তালিকার এক নম্বরে বসাতে সমর্থ হয়েছেন।<br />
তালিকায় আরও আছেন মো. শহিদুল আলম (স্বাস্থ্য উইং) এবং ড. মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন হায়দার (প্রেষণে মহাপরিচালক, এইচবিআরআই)।<br />
নথিপত্র বলছে, তালিকা থেকে সিনিয়রদের স্থায়ীভাবে বাদ দিতে জুলাই অভ্যুত্থানের পর রামপুরা থানার একটি মামলার আসামির তালিকায় কৌশলে এসব জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ মোট ৪৭ জন প্রকৌশলীর নাম ঢোকানো হয়। এই মামলার নথি এসএসবি কমিটিতে জমা দিয়ে তাদের অবস্থান দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়, যাতে জ্যেষ্ঠতার তালিকায় তিন নম্বরে থাকা খালেকুজ্জামান চৌধুরীর শীর্ষ পদ পাওয়ার পথে কোনো বাধা না থাকে। </p>
<p>বদলি বাণিজ্য<br />
২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই অধিদপ্তরে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন পর্যায়ের ৬৫ জন প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাকে পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নের জন্য ১০ লাখ থেকে শুরু করে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এসব লেনদেনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগপন্থি হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পুনর্বাসনের অভিযোগ রয়েছে।<br />
চলতি বছরের ৩ মার্চ পৃথক প্রজ্ঞাপনে একদিনে অর্ধশতাধিক নির্বাহী প্রকৌশলী, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলীকে গণবদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়কে না জানিয়ে এতো বড় রদবদল করায় গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী প্রধান প্রকৌশলীকে তলব করে ব্যাখ্যা চান।<br />
সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় ৫ ও ৮ মার্চ পৃথক আদেশে বাতিল করা হয অধিকাংশ বদলি। এরপরও পর্দার আালে ছোট পরিসরে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম চালুর খবর পাওয়া গেছে।<br />
এক ঘটনায় দেখা যায, দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত হওয়া প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে পুনর্বাসনের সুযোগ দিতে পুরোনো তারিখে জারি করা হয বদলির আদেশ। সাইফুজ্জামান ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের গণপূর্তমন্ত্রী শরিফ আহমেদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।<br />
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গত ৩ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে দুর্নীতির দায়ে সাইফুজ্জামানকে বরখাস্ত করে। ওই আদেশে তাকে উল্লেখ করা হয় লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে। কিন্তু গণপূর্ত অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত আরেক আদেশে দেখা যায়, বরখাস্তের এক দিন আগে অর্থ্যাৎ ২ ফেব্রুয়ারি তাকে ঢাকায় রিজার্ভে বদলি করা হয়েছে। ৩ তারিখে বরখাস্ত হওয়া একজন কর্মকর্তা কীভাবে ২ তারিখে ঢাকায় বদলি হন, আর তা প্রকাশিত হয় ১৫ তারিখে। এমন অসামঞ্জস্যপূর্ণ নথিকে জালিয়াতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন দপ্তর সংশ্লিষ্টরা।</p>
<p>কমিশন না পাওয়ায় টেন্ডার বাতিল<br />
বদলি বাণিজ্যের পাশাপাশি বড় প্রকল্পের টেন্ডার পুনর্মূল্যায়নের নামে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১, বিভাগ-৩ এবং শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২-এর অধীনে বড় অঙ্কের পাঁচটি দরপত্র কমিশনসংক্রান্ত অসন্তোষের কারণে পুনর্মূল্যায়নের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।<br />
পিপিআর ২০২৫ (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস)-এর ত্রুটির অজুহাত দেখানো হলেও সূত্র বলছে, নতুন পিপিআর চালুর পর সব প্রকৌশলীকে যথেষ্ট প্রশিক্ষণ দেওযা হয়। প্রকৃতপক্ষে নির্ধারিত কমিশন না পাওয়ায় পুনর্মূল্যায়নের অজুহাতে এসব টেন্ডার আটকে রাখা হয়েছিল।<br />
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদপ্তরের একাধিক প্রকৌশলী ও ঠিকাদার জানান, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারকে সরানোর পরও দুর্নীতি থামেনি। বরং খালেকুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে নতুন একটি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটকে আর্থিক সুবিধা দিতে পারা কর্মকর্তারাই সুবিধাজনক পদে বহাল রয়েছেন।<br />
খালেকুজ্জামান চৌধুরীর দুর্নীতি, নথি জালিয়াতি, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন এবং দেশে-বিদেশে অবৈধ সম্পদ অর্জনসংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণসহ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়েছে লিখিত অভিযোগ। একাধিক ভূক্তভোগী কর্মকর্তা ও ঠিকাদার দুদকে সরাসরি হাজির হয়ে জমা দিয়েছেন দালিলিক প্রমাণ।<br />
‘ক্ষমতা বদলালেই তৈরি হয় নতুন আত্মীয়তা’<br />
সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ছেলে সাজেদ আকবর বলেন, ‘একই নির্বাচনি আসনে বাড়ি হওয়ায় তখন আম্মার কাছে অনেকে আসতেন। তারা নিজেকে ক্ষমতার কাছাকাছি রাখতে কোনো না কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি করতেন। ক্ষমতা চলে যাওয়ার পরে তাদের ফের নতুন ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি হয়। তবে আমি তাকে (খালেকুজ্জামান চৌধুরী) চিনি না, আম্মার সঙ্গে পরিচয় ছিল না কি না জানা নেই।’ পরবর্তীতে সাবেক মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী ও আ’লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আবুর রহমানবে নিকটাত্মীয় পরিচয়ে ছড়ি ঘুরিয়েছেন গণপূর্ত কর্মকর্তাওে ওপরে।।<br />
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘জালিযাতি ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত প্রমাণিত কোনো কর্মকর্তাকে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে বসানো দেশ ও সংস্থার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বাংলাদেশে একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা প্রতিটি আমলে নতুন নতুন পরিচয় তৈরি করে সুবিধা বাগিয়ে নেয। এর ফলে প্রকৃত সৎ, যোগ্য ও নিষ্ঠবান কর্মকর্তারা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়ে উপেক্ষিত থেকে যান।’<br />
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও অনৈতিক উপায়ে পদপদবি বাগানোর এই সংস্কৃতি গ্রহণযোগ্য নয়। দুর্নীতি দমনে সরকারের যে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তার প্রতিফলন ঘটাতে প্রতিটি পদায়নের আগে ব্যাকগ্রাউন্ড গভীরভাবে তদন্ত করা উচিত। পাশাপাশি, দুদকের মতো সংস্থাগুলোর মাধ্যমে জালিয়াতির অভিযোগ আমলে নিয়ে যোগ্যদের মূল দায়িত্বে আনা জরুরি।’<br />
এসব বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বক্তব্য জানতে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) তার দপ্তরে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে কল করে ও খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া মেলেনি। এর পূর্বেও বিষয়টি নিয়ে মতামত জানার জন্য তাকে একাধিকবার ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়েছে হোয়াটস্আ্যাপে। সে সময়ে অধিদপ্তরের এক কর্মচারীকে দিয়ে সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন এই প্রতিবেদককে। (ক্রমশঃ)</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://skynews24.net/archives/26637/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নারী কেলেঙ্কারি থেকে দুর্নীতির অভিযোগ, আলোচনায় গণপূর্তের বদরুল আলম খান</title>
		<link>https://skynews24.net/archives/26630</link>
					<comments>https://skynews24.net/archives/26630#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 04 Aug 2026 06:10:02 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Leadnews]]></category>
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://skynews24.net/?p=26630</guid>

					<description><![CDATA[গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ব্যক্তিগত জীবনে অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছেন তার প্রথম স্ত্রী। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি প্রকল্প, বদলি, পদোন্নতি ও ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাব [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ব্যক্তিগত জীবনে অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছেন তার প্রথম স্ত্রী। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।</p>
<p>অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি প্রকল্প, বদলি, পদোন্নতি ও ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন প্রকৌশলী বদরুল আলম খান। পাশাপাশি নিজস্ব প্রভাব বলয় ব্যবহার করে অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পে প্রভাব খাটিয়ে তিনি শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।</p>
<p>বিশেষ মহলের ছত্রছায়ায় থেকে অধিদপ্তরে নিয়োগ,বদলি,পদোন্নতি ও ঠিকাদার নিয়োগে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। নিজস্ব ঠিকাদার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গণপূর্তের দরপত্র কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন।</p>
<p>বদরুল আলম খানের প্রথম স্ত্রী মিসেস জেসমিন অভিযোগ করেন, তার অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতি রয়েছে। এছাড়া একাধিক মেয়ের সাথে সর্ম্পক। আমার অনুমোতি না নিয়ে ২য় বিয়ে করেছে।</p>
<p>এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান বলেন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। তার দুই স্ত্রী রয়েছেন এবং তাদের মধ্যে পারিবারিক সমস্যা চলছে। এক স্ত্রী তার বিরুদ্ধে নারী সংক্রান্ত অভিযোগ, নির্যাতন ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ করেছেন বলেও জানান তিনি।</p>
<p>প্রথম স্ত্রীর অভিযোগ, সরকারি চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন ওই প্রকৌশলী। ব্যক্তিগত জীবনেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।</p>
<p>অভিযোগকারী আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর তদন্ত হয়নি।</p>
<p>বর্তমানে তিনি ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১ এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি ২১তম বিসিএস গণপূর্ত ক্যাডারের কর্মকর্তা। অভিযোগে বলা হয়েছে, অধিদপ্তরের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও দরপত্র কার্যক্রমে তার প্রভাব রয়েছে।</p>
<p>আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের নাতি এবং ফ্যাসিবাদের আরেক মন্ত্রী র আ ম ওবায়দুল মোক্তাদীর চৌধুরীর ভাগিনা সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব নজরুল ইসলামের আস্তাভাজন এবং বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামানের অত্যন্ত কাছের কর্মকর্তা হওয়ার কারণে তদন্ত করা হচ্ছে না।</p>
<p>এমনকি সময়ে অসময়ে কারণে-অকারণে আত্মীয়তা পাতান ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের ভাতিজা তিনি। পরবর্তীতে সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের নাতি। আওয়ামী লীগের আরেক মন্ত্রী র আ ম ওবায়দুল মোক্তাদীর চৌধুরীর ভাগিনা তিনি।</p>
<p>বর্তমান গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব নজরুল ইসলামের বড় কুটুম। বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামানের অত্যন্ত কাছের লোক। প্রধান প্রকৌশলীকে এই পদে তিনিই বসিয়েছেন বলে সহকর্মী প্রকৌশলীদের কাছে দম্ভ করে বলে থাকেন। তিনি যা বলেন সচিব তাই করেন বলে- প্রকৌশলী বদরুল আলম নিজে নিজে অহংকার বোধ করেন। গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারী গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা-৭ থেকে জারিকৃত এক প্রঞ্জাপনে তাকে ঢাকা গণপূর্ত-১ নং সার্কেলে বদলী করা হয়। এই সার্কেলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (কুমিল্লা) ওসমান গনিকে সুপারিশ করেছিলেন সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম।</p>
<p>বিষয়টি গোপন মাধ্যমে জানতে পেরে একজন রাজনৈতিক নেতাকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ঘুষ দিয়ে তাকে দিয়ে তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টাকে ম্যানেজ করে সচিবকে ফোন করান বদরুল। এর ফলে জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে এমন একটি বদলী আদেশ হয়। এ নিয়ে তোলপাড় হয় গোটা গণপূর্ত অধিদপ্তর। উপহারস্বরূপ তাহেরের নির্বাচনী খরচ বাবদ গত ১০ ফেব্রুয়ারী রাতে গাড়ি ভর্তি করে ১কোটি টাকা পাঠান প্রকৌশলী বদরুল। পূর্ত ভবন থেকে সাভার সার্কেলের লাল গাড়িতে করে ওই দিন সন্ধার পরে টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাহেরের বাসায়। প্রকৌশলী বদরুল মনে করেছিলেন জামায়াত নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে।</p>
<p>গত ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনের পরে পরিস্থিতি পাল্টে গেলে প্রকৌশলী বদরুল আলম মির্জা আব্বাসের বাসায় গিয়ে দেখা করেন তিনি (আব্বাস) পূর্ত মন্ত্রী হচ্ছেন এমন ভেবে। এখন তিনি নিজ সিন্ডিকেটের লোকজন নিয়ে বর্তমান পূর্ত মন্ত্রীকে ম্যানেজ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ বলা হয়, স্বৈরাচারের প্রেতাত্মা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা প্রকৌশলী বদরুল আলম খান ২০০৩ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদান করেন। এরপর পদোন্নতি পেয়ে সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার (এসডিই) হয়েই ঠিকাদারি-বদলি বাণিজ্যসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে রাতারাতি নামে-বেনামে শত কোটি টাকার মালিক বনে যান তিনি।</p>
<p>চাকরির বিভিন্ন পর্যায়ে এভাবে লুটপাটের সাম্রাজ্য কায়েম করে অর্জন করা অবৈধ সম্পদের মধ্যে রয়েছে- তার স্ত্রীর নামে ঢাকার মালিবাগে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, খিলগাঁওয়ের গোড়ানে ৬তলা বিলাশবহুল বাড়ি, আশুলিয়ায় গার্মেন্টস্ এক্সেসরিজ কারখানা, আপন ভাইয়ের সাথে যৌথভাবে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা, নামে-বেনামে বিভিন্ন লাইসেন্সের মাধ্যমে পরোক্ষ ঠিকাদারী ব্যবসা, স্ত্রী ও ভাই-ভাতিজা শালা-শালির নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রায় ২০ কোটি টাকার এফডিআর, রাজধানীর গুলশানে নিজ নামে একটি ও স্ত্রীর নামে দুটি বিলাসবহুল আবাসিক ফ্ল্যাটের মালিকানা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ১০ কাঠার তিনটি প্লটসহ বিভিন্ন দেশে হরেক রকম বিনিয়োগ।স্বৈরাচার সরকারের ২য় টার্মে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ে তিনি ২০১৪ সালে তৎকালীন মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের কাছে তদবির করিয়ে ভোলায় লোভনীয় পোস্টিং বাগিয়ে নেন।</p>
<p>সেখানে ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৫বছরের চাকরি জীবনে তিনি তোফায়েল আহমেদের ভাতিজা এমপি মইনুল হোসেন বিপ্লব, এমপি আলী আজম মুকুল ও নুরুন্নবী শাওন এমপির সাথে জোটবদ্ধ হয়ে লুটেরা সিন্ডিকেট গঠন করে সিজিএম আদালত ভবন, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, পুলিশ বিভাগের নতুন থানা নির্মাণ, জেলা ও উপজেলা টিটিসি, উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সকল দরপত্র নিজেদের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিয়ে কমিশন বাণিজ্যে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়াও তিনি ভোলা গণপূর্ত বিভাগের মেরামত রক্ষনাবেক্ষণ কাজ থেকে ১৫ শতাংশ হারে ঘুষ আদায় করেও বড় অংকের অর্থ লোপাট করেন।</p>
<p>আওয়ামীলীগ সরকারে আমলে সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরীর মাধ্যমে বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে ২০২০ সালে প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের কাছে তদবির করে ময়মনসিংহে বদলী করেন। পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়ে চট্টগ্রাম ১নং গণপূর্ত সার্কেলে থাকালীন সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে আরো কয়েক কোটি টাকা লোপাট করেন। এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খান গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি মিমাংসা জন্য আলোচনা চলছে। সব অভিযোগ সঠিক নয়।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://skynews24.net/archives/26630/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নাজরান ফিশারীজ এন্ড এগ্রো প্রজেক্টে ৪০০ কোটি টাকার প্রতারণা: চক্রের এক সদস্য গ্রেফতার</title>
		<link>https://skynews24.net/archives/26391</link>
					<comments>https://skynews24.net/archives/26391#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 07 May 2026 17:38:16 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[2ndlead]]></category>
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://skynews24.net/?p=26391</guid>

					<description><![CDATA[নাজরান ফিশারীজ এন্ড এগ্রো প্রজেক্ট” নামে একটি ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. ওবায়েদুল্লাহ (৩৩)। তাকে রাজধানীর সবুজবাগ থানাধীন বাসাবো এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ভোলা জেলার শশীভোষণ থানার জাহানপুর গ্রামের বাসিন্দা। [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>নাজরান ফিশারীজ এন্ড এগ্রো প্রজেক্ট” নামে একটি ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।</p>
<p>গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. ওবায়েদুল্লাহ (৩৩)। তাকে রাজধানীর সবুজবাগ থানাধীন বাসাবো এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ভোলা জেলার শশীভোষণ থানার জাহানপুর গ্রামের বাসিন্দা।</p>
<p>মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, “নাজরান ফিশারীজ এন্ড এগ্রো প্রজেক্ট” নামে একটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে আসছিল। বিনিয়োগকারীদের বলা হতো, ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা লাভসহ ৩৩ মাসে মূলধন দ্বিগুণ করে দেওয়া হবে।</p>
<p>এই প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে ২০২৩ সালের মে মাসে এক ভুক্তভোগী ও তার তিন বান্ধবী রাজধানীর কুড়িল চৌরাস্তা সংলগ্ন অফিসে গিয়ে মোট ১৭ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন। প্রথমদিকে আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে চক্রটি কিছু টাকা ফেরত দেয়, যা বিনিয়োগকারীদের আরও উৎসাহিত করে।</p>
<p>পরবর্তীতে একই বছরের জুলাই মাসে তারা ব্যাংকের মাধ্যমে আরও ৫০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন। এছাড়া ‘প্রজেক্টের প্লট’ কেনার কথা বলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোট ১ কোটি ৬৩ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা আদায় করা হয়। যদিও আংশিক কিছু অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছিল, পরে প্রতিষ্ঠানটি হঠাৎ লেনদেন বন্ধ করে অফিস গুটিয়ে নেয় এবং সংশ্লিষ্টরা আত্মগোপনে চলে যায়।</p>
<p>তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, একই কৌশলে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছে এই চক্র। প্রতিষ্ঠানের ৪টি ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া গ্রেফতারকৃত ওবায়েদুল্লাহর ব্যক্তিগত ১৪টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় আড়াই কোটি টাকার লেনদেনের তথ্যও মিলেছে।</p>
<p>এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে প্রায় ১৫ হাজার ভুক্তভোগী ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেন।</p>
<p>মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা পলাতক হয়ে যায় এবং মোবাইল নম্বর বন্ধ রাখে। পরে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।</p>
<p>তদন্তে আরও জানা গেছে, মো. ওবায়েদুল্লাহর বিরুদ্ধে ভাটারা, উত্তরা পশ্চিম ও সাভার থানায় একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে।</p>
<p>সিআইডি জানিয়েছে, এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।</p>
<p>এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে সিআইডি সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অচেনা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের আগে তাদের সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://skynews24.net/archives/26391/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>এরা সরকারকে ডোবাবে’ রাষ্ট্র পরিচালকদের তদবিরের দোকান!</title>
		<link>https://skynews24.net/archives/26388</link>
					<comments>https://skynews24.net/archives/26388#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 07 May 2026 03:30:35 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Leadnews]]></category>
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://skynews24.net/?p=26388</guid>

					<description><![CDATA[প্রধানমন্ত্রী পদে যদিও আছেন তারেক রহমান, তবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে ও নীতিনির্ধারনী সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব খাটাচ্ছেন অন্যরা। নানা কায়দায় এরাই মূলতঃ সরকারকে চালাচ্ছেন। ভুল তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে কৌশলে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করে নিচ্ছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই চক্রটি যা চাইছেন তা-ই হচ্ছে। এদের ব্যাপক প্রভাবের কথা ছড়িয়ে পড়েছে সরকারের ভেতরে বাইরে অনেকের মধ্যেই। এরা যাদেরকে যা [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>প্রধানমন্ত্রী পদে যদিও আছেন তারেক রহমান, তবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে ও নীতিনির্ধারনী সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব খাটাচ্ছেন অন্যরা। নানা কায়দায় এরাই মূলতঃ সরকারকে চালাচ্ছেন। ভুল তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে কৌশলে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করে নিচ্ছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই চক্রটি যা চাইছেন তা-ই হচ্ছে। এদের ব্যাপক প্রভাবের কথা ছড়িয়ে পড়েছে সরকারের ভেতরে বাইরে অনেকের মধ্যেই। এরা যাদেরকে যা ‘করে দেওয়ার’ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তা হয়েও যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের আমলে এর কিছু প্রমাণও পাওয়া গেছে ইতিমধ্যে। গোপনে নয়, এখন অনেকটা প্রকাশ্যেই এই চক্রটি ঘুষের তদবিরের কাজ খুঁজছে। অবাক ব্যাপার হলো, ঘুষের তদবিরের কাজের জন্য বিজ্ঞাপনও দেওয়া হচ্ছে। সরকারের বড় বড় গুরুত্বপূর্ণ পদ এবং কাজ চায় এমন আগ্রহী ব্যক্তিদের যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে। অতীতে কখনো এমনকি আওয়ামী লীগ আমলেও দেখা যায়নি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজকর্ম অবৈধ কেনা-বেচার এমন ভয়াবহ তৎপরতা। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই প্রথম এটি চালু হয়েছিল। ড. ইউনূসের ভাবমূর্তি ভয়াবহভাবে ক্ষুণ্ন এবং ক্ষমতা থেকে তার দ্রুত প্রস্থানের এটিই ছিল অন্যতম কারণ। কিন্তু বর্তমান বিএনপি সরকারের এখন পর্যন্ত সবেমাত্র দুই মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। এখনই এ রকমের ভয়াবহ অপতৎপরতা চলছে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার।</p>
<p>এই প্রভাবশালী গ্রুপটির গুরুতর অপকর্ম হাতেনাতে ধরা পড়ে সম্প্রতি এলজিইডির (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে। কিন্তু তাতে তাদের অপতৎপরতা মোটেও থামেনি। যেহেতু হাতেনাতে ধরা পড়ার পরও তাদের কারো বিরুদ্ধেই দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরা ইতিমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তদবির বাণিজ্যের দোকানও খুলে বসেছে। সর্বশেষ, শীর্ষকাগজ ও শীর্ষনিউজ ডটকম কর্তৃপক্ষের হাতে এসেছে প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেটের ‘ক্ষমতার দৌড়’ ও ভয়াবহ অপকর্মের একটি জাজ্জ্বল্য প্রমাণ। গত ২৭ মার্চ মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপ এসএমএস-এ আসে তদবিরের এক বিজ্ঞাপন। তাতে মাদক ও অস্ত্র মামলার আসামির থানায় জামিন খালাস, দুদকের আওয়ামী লীগ আমলের নথি দায়মুক্তি, ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ প্রভৃতি কাজের পাশাপাশি খাদ্য সচিব পদে নতুন লোক চাওয়া হয়। ভূমিমন্ত্রীর পিএস পদেও নিয়োগ দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। এসএমএস’র স্ক্রিন শর্ট-এ দেখা যাচ্ছে, এমন বিজ্ঞাপনের জবাবে ঞধঢ়ড় চৎড়শধংয কড়ষশধঃধ নামে কোনো একজন জানতে চেয়েছেন (খাদ্য সচিব পদে নতুন লোক খোঁজার উত্তরে), “খাদ্য সচিবকে কি ওএসডি করা হবে, নাম ফিরোজ সরকার, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তিনি সচিব হয়েছেন। ১৭ ব্যাচের অফিসার।” এর উত্তরে বিজ্ঞাপনদাতা নিশ্চিত করে বললেন, “হ্যাঁ সরিয়ে দেবে অথবা ওএসডি করবে।”</p>
<p>প্রভাবশালী চক্রের ক্ষমতার দৌড় এতটা? এরাই রাষ্ট্রের পরিচালক?<br />
গত ২৭ মার্চ, ২০২৬ কর্তৃপক্ষের হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজে এই স্ক্রিন শর্টটি আসে। সচিবালয়েরই একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছ থেকে স্ক্রিন শর্টটি পাওয়া যায়। দেখা যাচ্ছে, এর এক মাসেরও কম সময়ে খাদ্য সচিব পদে পরিবর্তন হলো। গত ২১ এপ্রিল খাদ্য সচিব ফিরোজ সরকারকে সচিবালয়ের বাইরে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব পদে ডাম্পিং পদায়ন করা হয়। ফিরোজ সরকারের কী অপরাধ, কেন তাকে এভাবে ডাম্পিং পদে বদলি করা হলো, এর হেতু বের করতে পারছেন না খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও। এরা প্রজ্ঞাপন জারির আগ পর্যন্ত ঘুর্ণাক্ষরেও জানতেন না, সচিবকে বদলি করা হচ্ছে। তবে ভেতরে ভেতরে কিছু একটা যে ঘটেছে, এটা বুঝা গেছে বদলির আদেশ জারির পরদিন। যদিও এ বদলিগুলোতে স্ট্যান্ড রিলিজের মতো কোনো ঘটনা ছিল না, তারপরও খাদ্য সচিব ফিরোজ সরকারকে পরদিন অফিস আওয়ারের শুরুতে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে বলা হয়। এবং নতুন খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানাকেও দায়িত্ব বুঝে নিতে বলা হয়। অথচ এ দিন ছিল ধান-চাল সংগ্রহ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভা। নতুন সচিব এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না, তারপরও তাকে দায়িত্ব বুঝে নিয়ে সভা পরিচালনা করতে হলো।</p>
<p>এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বিএনপি বলে চিহ্নিত সচিবালয়ে হাতে গোনা যে তিন/চারজন সচিব আছেন তারমধ্যে র্ফিরোজ সরকার অন্যতম। গত বছরের অক্টোবরে লন্ডন থেকে তারেক রহমানের সুপারিশে অন্তর্বর্তী সরকার জনপ্রশাসন সচিব ড. মোখলেস উর রহমান এবং অতিরিক্ত সচিব (এপিডি) মো. এরফানুল হককে অন্যত্র বদলি করে। এরফানুল হকের পরিবর্তে অতিরিক্ত সচিব (এপিডি) পদে পদায়ন করা হয় তখনকার খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. ফিরোজ সরকারকে। কিন্তু তখন জামায়াতের প্রচণ্ড বিরোধিতার কারণে ফিরোজ সরকার অতিরিক্ত সচিব (এপিডি) পদে যোগ দিতে পারেননি। জামায়াত তখন কৌশলে এই পদটি শূন্য রেখে যুগ্মসচিব মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদীকে (বর্তমানে যিনি প্রধানমন্ত্রীর পিএস পদে আছেন) দিয়ে মাঠ প্রশাসন সাজানোর এজেন্ডা বাস্তাবায়ন করে নেয়।</p>
<p>অনুসন্ধানে জানা গেছে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদে মো. আব্দুল বারী থাকলেও এ মন্ত্রণালয়টি চলছে মূলতঃ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের হাতের ইশারায়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন ইতিপূর্বে মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। গত ২৫ মার্চ তাকে সরিয়ে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় মো. আব্দুল বারীর হাতে, যিনি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী পদেও আছেন। জনপ্রশাসন নিঃসন্দেহেই একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, তার উপর এখন তাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলো।</p>
<p>মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ এ মন্ত্রণালয়ে থাকাকালে তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নানা রকমের অবৈধ তদবির রাখতে পারেননি বা রাখেননি। এ নিয়ে মীর শাহে আলম তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। আর এ কারণেই ‘ক্লিন ইমেজ’র আমিন উর রশীদকে এ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী পরিবর্তনের প্রজ্ঞাপনটি জারি হয় ২৫ মার্চ রাতে। তিন দিন বন্ধের পরে অফিস চালু হয় ২৯ মার্চ। এদিন সকালে মীর শাহে আলমই নিজের গাড়িতে করে আব্দুল বারীকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে নিয়ে আসেন। আব্দুল বারী যতক্ষণ খাদ্য মন্ত্রণালয়ে অফিস করেছেন, মীর শাহে আলম সঙ্গেই ছিলেন। আবার দুপুরের দিকে দুজন একসঙ্গে এক গাড়িতেই বের হয়ে যান। মীর শাহে আলমকে বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে অনেকে ‘সুপার পাওয়ার’ হিসেবেই দেখে থাকেন। মন্ত্রী-সচিব পরিবর্তনসহ তিনি যখন যেটা চাইবেন সেটিই কার্যকর হবে, এটা সবাই জানেন। মোহাম্মদ আমিন উর রশীদের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সহকর্মীরা বলছেন, মন্ত্রী ‘ক্লিন ইমেজ’র আমিন উর রশীদ খাদ্য সচিব হিসেবে ফিরোজ সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। তার ইতিবাচক কাজকর্মে অত্যন্ত সন্তুষ্ট ছিলেন মন্ত্রী। এও বলেছিলেন যে, তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফিরোজ সরকার সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করবেন। কিন্তু সেটি আদৌ সম্ভব হয়েছে কি না জানা যায়নি। তবে বর্তমান প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীও যে সচিবের ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন তা নয়।</p>
<p>স্ক্রিন শর্টের সঙ্গে বাস্তবতা মিলে যাওয়া- ভয়াবহ ঘটনা!<br />
ফিরোজ সরকারকে এ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ যদিও এখন পর্যন্ত জানা যায়নি, তবে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এটা নিশ্চিত যে, এর নেপথ্য একমাত্র কারণ হতে পারে স্থানীয় সরকারের ‘সুপার পাওয়ার’ প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিরাগভাজন হওয়া। কিন্তু এরমধ্যে গুরুতর প্রশ্ন হলো, খাদ্য সচিব ফিরোজ সরকারকে ওএসডি করা হবে অথবা সরিয়ে দেওয়া হবে- এ খবরটা তদবিরের বিজ্ঞাপনে আসলো কীভাবে, তদবিরকারীরা এতোটা আগাম জানলো কীভাবে? একে রাষ্ট্রের জন্য ‘ভয়াবহ ঘটনা’ বলেই উল্লেখ করছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা।</p>
<p>সূত্রমতে, মাঝের এই তদবিরকারীরা মূলতঃ এজেন্ট বা দালাল। এদের সঙ্গে প্রভাবশালী ওই সিন্ডিকেটের সরাসরি যোগসাজশ রয়েছে এবং তাদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন এরা। সিন্ডিকেটের সদস্যরা যেহেতু রাষ্ট্রের হাইপ্রোফাইলের, তারা নিজেরা মাঠ পর্যায় থেকে পার্টি খুঁজে নেওয়া বা দরকষাকষি করা সম্ভব নয়। পার্টির সঙ্গে সরাসরি কথা বলাও তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এসব মধ্যসত্ত্বভোগী ‘এজেন্ট’ নিয়োগ করা হয়েছে। এই মধ্যসত্ত্বভোগীরা বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আকর্ষণীয় পদগুলোর জন্য লোক খোঁজে। এবং বিভিন্ন অবৈধ কাজও ‘সম্পন্ন করে দেওয়ার’ নিশ্চয়তা দেয়। তদবিরের কাজ পাওয়ার সুবিধার্থে হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়। নিরাপত্তা বাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থার হাতে ধরা পড়ার আশংকা নেই তাদের। কারণ, তাদের পেছনে রয়েছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা, যারা রাষ্ট্রকে পরিচালনা করছেন। ধরা পড়ে গেলেও কোনো সমস্যা নেই।<br />
এরমধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, পদগুলো এভাবে নিলামে তোলার ঘটনার সঙ্গে পরবর্তী ঘটনা বা বাস্তবতার পুরোপুরি মিল হয়ে যাচ্ছে। এতে বুঝা যাচ্ছে, রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে যদিও রয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, কিন্তু নানা কৌশলে রাষ্ট্র চালাচ্ছেন অন্যরা। আলোচ্য এই স্ক্রিন শর্ট এবং পরবর্তী ঘটনাই এর জাজ্জ্বল্য প্রমাণ। এসব ঘটনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হয়তো জানেনই না। জানলে বা তিনি বুঝতে পারলে, নিজের বা দলের বা সরকারের জনপ্রিয়তা ক্ষুণ্ন করতে চাইতেন না নিশ্চয়ই। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী পদে আব্দুর রশীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির ঘটনা প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন। এতে বরং প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি বেড়েছেই। কিন্তু অন্য আরো যেসব ভয়াবহ অনিয়মের অসংখ্য ঘটনা ঘটছে এগুলো তার নজরে আসছে না বা আসলেও ভিন্নভাবে আসছে, এমন কথা বলছেন বিশ্লেষকরা।</p>
<p>এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগে ওই দুর্নীতির ঘটনাটিও এভাবে ধরা পড়তো না যদি বিএনপির মহাসচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে চ্যালেঞ্জ না জানাতেন। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, সরকারের বেশিরভাগ মন্ত্রীরই এই প্রভাবশালী চক্রটির সামনে, এমনকি পেছনেও নেতিবাচক কিছু বলার সাহস নেই। কারণ, তাতে তাদের মন্ত্রীত্বের চাকরিই চলে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। আবার কারো কারো নিজেদেরও এতে ব্যক্তিগত স্বার্থ রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, গোটা সরকার এখন এদের বলয়ে আটকা পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি সরকারের শুভাকাক্সক্ষীরা হতাশা ব্যক্ত করছেন। বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যেও এখন এ কথাগুলো চাউর হয়ে গেছে।</p>
<p>এসএমএস’র স্ক্রিন শর্টে যা লেখা ছিল<br />
হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজের স্ক্রিন শর্টে বলা হয়েছে, “মাদক, অস্ত্র মামলা, মার্ডার মামলার আসামির জামিন-খালাস এর কাজ দরকার” “আর দুদকের আওয়ামী লীগের সময়ের ফাইল দরকার” “সুদ মওকুফ এর আলাদা বড় ফাইল হলেও ৮০%-১০০% মওকুফ করা যাবে”।</p>
<p>এরপরে আলাদভাবে লেখা হয়, “খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব নিয়োগ হবে। ভূমি মন্ত্রীর পিএস নিয়োগ হবে।”<br />
এমন বিজ্ঞাপনের জবাবে ঞধঢ়ড় চৎড়শধংয কড়ষশধঃধ নামে কোনো একজন জানতে চেয়েছেন (খাদ্য সচিব পদে নতুন লোক খোঁজার উত্তরে), “খাদ্য সচিবকে কি ওএসডি করা হবে, নাম ফিরোজ সরকার, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তিনি সচিব হয়েছেন। ১৭ ব্যাচের অফিসার।” এর উত্তরে বিজ্ঞাপনদাতা নিশ্চিত করে বললেন, “হ্যাঁ সরিয়ে দেবে অথবা ওএসডি করবে।”</p>
<p>এমন অপকর্মের আমদানিকারক ড. ইউনূস সরকার<br />
শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট ও লুটেরা সরকারের দীর্ঘ অপশাসনের পর ৫ আগস্ট, ২০২৪ এর পরের ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের ওপর দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বি। নোবেল বিজয়ী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভাবমূর্তি প্রভৃতি কারণে মানুষের প্রত্যাশাও ছিল সে রকমেরই। কিন্তু দেখা গেলো, জনপ্রত্যাশা পূরণের কোনো চেষ্টাই তিনি করেননি। বরং নিজের আখের গোছানোর ধান্দা এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষার কাজেই ব্যস্ত ছিলেন। এসব করতে গিয়ে তিনি এমন অপকর্মের প্রচলন করেছেন, যা অতীতের সকল নজিরকে ছাড়িয়ে গেছে। এর বড় নজির হলো, তদবিরের দোকান। হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজে বিজ্ঞাপন দিয়ে তদবিরের কাজ নেওয়ার প্রচলন চালু করেছে ড. ইউনূস সরকারই। খোদ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ই এসব ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল। সরকারি স্ট্যাম্পে লিখিত ঘুষের চুক্তি এবং ‘ব্যাংক চেক’ বিনিময়েরও প্রচলন চালু হয়েছিল এসব কাজে। এ ধরনের ঘুষ লেনদেনের প্রমাণ ফাঁস হওয়ার পরও ড. ইউনূস সরকার বা ড. মোমেন নেতৃত্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন এ ব্যাপারে কোনোই ব্যবস্থা নেয়নি। সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজ এবং শীর্ষনিউজ ডটকমে তখন এ ব্যাপারে দু’জন সচিবের সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। প্রতিবেদন প্রকাশের পর দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন শীর্ষকাগজ সম্পাদককে জানিয়েছিলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তার কাছে নির্দেশনা এসেছে এর ওপর তদন্ত করার জন্য। তিনি ওই দুই সচিবকে তলব করবেন বলেও জানিয়েছিলেন। যা পরে আর হয়নি। এই ‘না হওয়ার’ পেছনেও কাজ করেছে এখনকার সরকারের প্রভাবশালী এক সিনিয়র কর্মকর্তার ‘প্রভাব’, যিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শীর্ষ গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। ওইসব তদবিরের টাকার যে ভাগবাটোয়ারা হতো তাতে এই কর্মকর্তারও একটি অংশ থাকতো। যে কারণে আলোচিত ওই দুই সচিবের কোনো সমস্যা হয়নি বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলেও। একজন ইতিমধ্যে ইন্তেকাল করেছেন। আরেকজন এখনো বহাল-তবিয়তেই রয়েছেন। স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তি এবং বড় অংকের ঘুষের চেক বিনিময়ের তথ্য ফাঁস হয়েছিল এই দুই সচিবের।</p>
<p>‘এরা সরকারকে ডোবাবে’<br />
ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রের ক্ষমতা হাতে পেয়েছেন অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে। তাই রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো পরিকল্পনাও তার হাতে ছিল না। কিন্তু অনেক চড়াই-উৎরাইয়ের পর দীর্ঘ দুই দশক পরে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ফিরে পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবা-মা দু’জনই রাষ্ট্রের সফল কর্ণধার ছিলেন। জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন আকাশচুম্বি। তারেক রহমান বিদেশে থাকলেও দল পরিচালনার মূল দায়িত্বে ছিলেন তিনি। গত ডিসেম্বরে দেশে ফিরেই তিনি বলেছেন, “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান”। অর্থাৎ দেশ পরিচালনায় তাঁর দীর্ঘ একটি পরিকল্পনা আছে। এবং থাকাটাই স্বাভাবিক।</p>
<p>কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এখন পর্যন্ত সরকার মাত্র দুই মাস অতিক্রম করেছে। এই সামান্য সময়ে প্রভাবশালী চক্রটি নতুন সরকারকে একের পর এক বিতর্কের মধ্যে ফেলেছে। বিএনপির শুভাকাক্ষী, এমনকি নেতাকর্মীদেরও অনেকের এ বিষয়ে মন্তব্য হলো- এখনই এদের থামাতে হবে। অন্যথায় এরা সরকারকে ডোবাবে। সরকারের ভাবমূর্তি শূন্যের কোঠায় নিয়ে যেতে এদের বেশি সময় লাগবে না। </p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://skynews24.net/archives/26388/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
