<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>অপরাধ &#8211; skynews24.net</title>
	<atom:link href="https://skynews24.net/archives/category/%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A7/feed" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://skynews24.net</link>
	<description>স্কাইনিউজ২৪</description>
	<lastBuildDate>Tue, 18 Aug 2026 08:39:11 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.1</generator>
	<item>
		<title>বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ</title>
		<link>https://skynews24.net/archives/26651</link>
					<comments>https://skynews24.net/archives/26651#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 18 Aug 2026 08:39:11 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[2ndlead]]></category>
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<category><![CDATA[বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://skynews24.net/?p=26651</guid>

					<description><![CDATA[বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, ভুয়া বিল উত্তোলন, টেন্ডারবাজি ও ঠিকাদারদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ২৪ জন ঠিকাদার। অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলীর চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে কমিশন না দিলে কোনো ঠিকাদারের কাজ শতভাগ শেষ হলেও বিল পরিশোধ [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, ভুয়া বিল উত্তোলন, টেন্ডারবাজি ও ঠিকাদারদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ২৪ জন ঠিকাদার।</p>
<p>অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলীর চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে কমিশন না দিলে কোনো ঠিকাদারের কাজ শতভাগ শেষ হলেও বিল পরিশোধ হয় না। এমনকি মাঠপর্যায়ে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকলেও কাগজে-কলমে অগ্রগতি দেখিয়ে বিলের কাজ এগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কাজের জামানতের টাকা ফেরত পেতেও অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন ঠিকাদাররা।</p>
<p>‎</p>
<p>‎ঠিকাদারদের অভিযোগ, নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কথা বললে বিল আটকে দেওয়া এবং কাজের সাইটে নানা ধরনের জটিলতা তৈরির আশঙ্কায় অনেকে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। এ কারণে কয়েকজন ঠিকাদার ছদ্মনামে তাঁদের অভিযোগের কথা জানিয়েছেন।</p>
<p>‎</p>
<p>‎রাসেল (ছদ্মনাম) নামে এক ঠিকাদার বলেন, কাজের মান শতভাগ ঠিক থাকলেও স্যারের নির্ধারিত কমিশন না দিলে ফাইল স্বাক্ষর হয় না। আমরা এখন পুরোপুরি তাঁর কাছে জিম্মি।</p>
<p>‎আরিফ (ছদ্মনাম) নামে আরেক ঠিকাদার বলেন, নাম প্রকাশ্যে এলে চলতি প্রকল্পের বিল আটকে দেওয়া হবে এবং সাইটে নানা অজুহাতে ত্রুটি ধরা হবে। তাই বাধ্য হয়ে নাম গোপন রেখে প্রতিবাদ করছি।</p>
<p>‎</p>
<p>‎অভিযোগে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছরের ২৯ নভেম্বর ফারুক হোসেন নামে এক ঠিকাদারকে ফোনে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। এর পরদিন ৩০ নভেম্বর বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় এ ঘটনায় লিখিত সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-২০৭৬) করেন ওই ঠিকাদার।</p>
<p>‎</p>
<p>‎এ ছাড়া দপ্তরের সরকারি রেস্ট হাউস ব্যক্তিগত ও অনৈতিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগও সচিবের কাছে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।</p>
<p>‎</p>
<p>‎জাহিদ (ছদ্মনাম) নামে এক ঠিকাদার বলেন, সরকারি রেস্ট হাউস ব্যক্তিগত ও অনৈতিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। একটি সরকারি দপ্তরের প্রশাসনিক প্রধানের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়।</p>
<p>‎</p>
<p>‎অয়ন (ছদ্মনাম) নামে আরেক ঠিকাদার বলেন, মাঠপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি না থাকলেও কাগজে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল উত্তোলনের যে অভিযোগ উঠেছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।</p>
<p>‎</p>
<p>‎অভিযোগ অস্বীকার নির্বাহী প্রকৌশলীর ‎অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।</p>
<p>‎</p>
<p>‎তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কতিপয় স্বার্থান্বেষী ঠিকাদার নিয়মবহির্ভূত সুবিধা না পেয়ে আমার বিরুদ্ধে কাল্পনিক ও অপপ্রচারমূলক অভিযোগ তুলছেন। দপ্তরের প্রতিটি প্রকল্প সরকারি বিধিমালা মেনে স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য প্রকাশিত হবে।</p>
<p>‎</p>
<p>‎তবে অভিযোগ ওঠার পর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সরাসরি সাক্ষাৎ না দিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্টের কথা বলে এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ নিয়েও স্থানীয় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।</p>
<p>‎</p>
<p>‎সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও প্রকল্পের মান নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর বিষয়ে শিক্ষা বিভাগ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://skynews24.net/archives/26651/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>গণপূর্ত’র শীর্ষ পদে নিয়মিত হওয়ার চেষ্টায় বালিশ কেলেঙ্কারীর মূলহোতা!</title>
		<link>https://skynews24.net/archives/26637</link>
					<comments>https://skynews24.net/archives/26637#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 17 Aug 2026 11:18:40 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[2ndlead]]></category>
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<category><![CDATA[গণপূর্ত’র শীর্ষ পদে নিয়মিত হওয়ার চেষ্টায় বালিশ কেলেঙ্কারীর মূলহোতা! ছবির ক্যাপশন: খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে পোস্টিং]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://skynews24.net/?p=26637</guid>

					<description><![CDATA[গণপূর্ত’র শীর্ষ পদে নিয়মিত হওয়ার চেষ্টায় বালিশ কেলেঙ্কারীর মূলহোতা! ছবির ক্যাপশন: খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে পোস্টিং বাণিজ্য, ভাই-ভাগিনাদের দিয়ে ঠিকাদারী ব্যবসা, ডেভেলপার ব্যবসা, সন্ধ্যার পরে ও ছুটির দিনগুলোতে একটি গোপণ আস্তানায় অফিস করা, আওয়ামী কানেকশন, স্টাফ অফিসার কেলেঙ্কারীসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও লাগাতার দুর্নীতির অভিযোগ জয়নাল আবেদীন যশোরী ও আসাদ মাহমুদ: রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রর গ্রীণসিটির [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>গণপূর্ত’র শীর্ষ পদে নিয়মিত হওয়ার চেষ্টায় বালিশ কেলেঙ্কারীর মূলহোতা! ছবির ক্যাপশন: খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে পোস্টিং বাণিজ্য, ভাই-ভাগিনাদের দিয়ে ঠিকাদারী ব্যবসা, ডেভেলপার ব্যবসা, সন্ধ্যার পরে ও ছুটির দিনগুলোতে একটি গোপণ আস্তানায় অফিস করা, আওয়ামী কানেকশন, স্টাফ অফিসার কেলেঙ্কারীসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও লাগাতার দুর্নীতির অভিযোগ</p>
<p>জয়নাল আবেদীন যশোরী ও আসাদ মাহমুদ:<br />
 রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রর গ্রীণসিটির নির্মাণ কাজে বালিশ কেলেঙ্কারী নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় হয় ২০১৯ সালে। সাড়া জাগানো বালিশ কান্ডের সময়ে রাজশাগী গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন খালেকুজ্জামান চৌধরী। এর আগে প্রকল্পের শুরুতে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে এই কর্মকর্তার হাত দিয়েই গ্রীণসিটির টেন্ডার প্রত্রিয়া শুরু হয়। বালিশ কান্ডের পরিকল্পনা সে সময়েই রচিত হয়। বালিশকান্ডে উপসহকারী প্রকৌশলীরা ফেঁসে গেলেও মুলহোতা খালেকুজ্জামান চৌধুরী রয়ে গেছেন ধরাছোয়ার বাইরে। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক জার্সি ত্যাগ করে সময়-সুযোগে ঝোপ বুঁঝে কোপ মেরে তিনিই এখন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী। আর এই পদে বর্তমানে নিয়মিসত হওয়ার জন্য জোড় প্রচষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।<br />
বালিশ কান্ড নিয়ে প্রধান মন্ত্রীর বক্তব্য: রুপপুরের বালিশ কান্ড নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ১২ মে সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় ১৭ বছরের স্বৈরাচারী আমলের দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থ পাচার নিয়ে কথা বলার সময় তিনি বলেন, একটি প্রকল্পের বালিশ কেনা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা করে। ৮০ হাজার টাকায় একটি বালিশ, সেই বালিশে ঘুম হবে কী-না এটা একটা চিন্তার বিষয়। এর আগে গত  মে সিএজি’র উত্থাপিত অডিট রিপোর্টের প্রতিবেদনে প্রতিটি বালিশের অবিশ্বাস্য দাম দেখে প্রধানমন্ত্রী সিএজিকে বলেন, এই দামি বালিশগুলোর একটি জাদুঘরে রাখা উচিত।<br />
খালেদা জিয়ার বাড়ি ভাঙ্গার ঠিকাদারকে প্রতিষ্ঠিত করে নিজে প্রতিষ্ঠিত খালেকুজ্জামান: ঢাকা সেনানীবাসে খালেদা জিয়ার বাড়ি ভাঙ্গার ঠিকাদার মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশনকে রূপপুরে বড় বড় কাজ পাইয়ে দেওয়া কর্মকর্তা বর্তমানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী। অবাক করার মতো বিষয় হলেও বর্তমানে এটাই বাস্তব ও চিরসত্য। বিএনপি’র ঊদ্ধর্তন পর্যায়ের বেশীরভাগ নেতৃবৃন্দ বিষয়টিকে মনেপ্রাণে না মানতে পারলেও কোন এক বিশেষ আশীর্বাদে অদৃশ্য রাহুর প্রভাবে খালেকুজ্জামান চৌধুরী গণপূর্ত অধিদপ্তরের শীর্ষ পদে বহালতবিয়তে আছেন।<br />
খালেকুজ্জামান চৌধুরী ২০১৪’র শেষদিক থেকে শুরু করে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছিলেন পাবনা গণপূর্ত ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী। সে সময়ে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্রীণসিটি প্রকল্পের বহুতল বিশিষ্ট ভবনগুলোর নির্মাণের টেন্ডার হয়। প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান ওই দপ্তরে থাকতেই বহুতল বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ কাজগুলোর কার্যাদেশ দেওয়া হয়। আপোষহীন নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বাড়ি ভাঙ্গার পুরুষ্কার হিসাবে মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিঃ নামক প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে সাজিন ও তমা কনস্ট্রাকশনকে নিয়ে একটি লুটেরা সিন্ডিকেট তৈরী করে নামে-বেনামে প্রায় সবগুলো কাজ পাইয়ে দেওয়া হয় রূপপুর গ্রীণ সিটিতে। এর নেপথ্য কারিগর ছিলেন তখনকার নির্বাহী প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী। বিনিময়ে হাতিয়ে নিয়েছেন শতাধিক কোটি টাকা। ২০১৯ সালে রূপপুরে বালিশ কেলেঙ্কারীর ঘটনা প্রকাশের সময়েও তিনিই রাজশাহী গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে থেকে শুধুমাত্র নিজের ব্যাচমেট ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রকৌশলী জিল্লুর রহমান ছাড়া নীরিহ উপসহকারী প্রকৌশলীদের বলির পাঠা বানিয়ে তিনি নিজেসহ ঊর্দ্ধতন প্রকৌশলীদের বাঁচিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। কালের বিবর্তনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারের সময়ে তিনিই এখন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী পদে থাকায় বিএনপি’র বেশীরভাগ ঊর্দ্ধতন নেতারা বিষ্ময় ও উষ্মা প্রকাশ করেছেনূ। পদে বসে ফ্যাসিবাদের রক্ষকবচ হিসাবে কাজ করা, স্বৈরাচারের তোষণ, নারী কেলেঙ্কারী ও বদকর্মে চ্যাম্পিয়ন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুলকে অবৈধ কালেকশনের ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব দেওয়া, নিয়োগ টেন্ডার পোষ্টিং পদোন্নতি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে ওই প্রকৌশলীসহ পাঁচ/ছয়জনকে নিয়ে ঘুষ বাণিজ্যের সিন্ডিকেট গঠন, পিএইচডি ডিগ্রী জালিয়াতি লিয়েনের শর্ত ভঙ্গ অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব গ্রহণ ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ অস্ট্রেলিযায় পাঁচার, বেইলীরোডে ভয়াবহ অগ্নি দুর্ঘটনায় বহুলোকের প্রাণ কেড়ে নেওয়া গ্রীণ কোজি কটেজ রেষ্টুরেন্টের নকশা অনুমোদনসহ বহুগুণে গুণান্বিত প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী। তবুও স্বৈরাচারের একনিষ্ঠ দোসর এই রকম একজন ফ্যাসিস্ট গুণধর কর্মকর্তা গণপূর্ত প্রধান প্রকৌশলীর সেবায় ধন্য হতে চলেছে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের একশ্রেণীর লোকেরা। জাতীয়তাবাদী সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও উন্নয়নের এজেন্ডা বাস্তবায়ন হতে চলেছে বিতর্কিত ও ফ্যাসিস্ট গুণধর এই প্রকৌশলীর হাত দিয়ে। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের। </p>
<p>যেভাবে গণপূর্তর শীর্ষ পদে খালেকুজ্জামান:  ২০২৫ এর ২৮ অক্টোবর সকালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব তাসনিম ফারহানা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপণে মোহাম্মদ শামীম আখতারকে তখনকার প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রিজার্ভ) পদে পদায়ন করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে মো. খালেকুজ্জামন চৌধুরীকে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব দেয়া হয়। অখচ ওই সময়ে গ্রেডেশন তালিকা অনুযায়ী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর চেয়ে সিনিয়র ছিলেন মো. আশরাফুল আলম, ড. মো. মঈনুল ইসলাম, মো. শামছুদ্দোহা ও মো. আবুল খায়ের। একদিন পরে আরেকটি প্রজ্ঞাপণে তাকে চলতি দায়িত্বে প্রধান প্রকৌশলী পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পূর্ত প্রকৌশলীদের মধ্যে জোড়ালো গুঞ্জন রয়েছে ওই দায়িত্ব প্রদানে শত কোটি টাকার গোপণ লেনদেন হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলমের মাধ্যমে সদ্য সাবেক জামায়াতপন্থী সচিবের ভাই আমিনুর রহমানের হাত দিয়ে এই টাকা লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান ও বদরুল ধরে নিয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসছে। সে অনুযায়ী জামায়াতের নায়েবে আমীর ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া (পরাজিত প্রার্থী) তাহেরকে গত ১০ ফেব্রুয়ারী প্রধান প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে প্রকৌশলী বদরুল আলম ১ কোটি টাকা নির্বাচনী খরচ পাঠিয়ে দেন। ওইদিন সন্ধ্যার পরে পূর্ত ভবনের জোন বিল্ডিং থেকে সাভার সার্কেলের লাল গাড়িতে করে ওই টাকা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়।<br />
প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান ছাত্র জীবনে কুয়েট থেকে লেখাপড়া করছেন এবং কুয়েট ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার পর তিনি এখন গণপূর্তের কুয়েট, চুয়েট ও রুয়েট নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিভেদ সৃষ্টি করে গণপূর্ত অধিদপ্তরে একটি নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরী করেছেন। ৩/৪টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন গণপূর্ত প্রকৌশলীরা। এ কারণে ভেঙ্গে পড়েছে চেইন অব কমান্ড। ফুঁসে উঠছে শোষিত বঞ্চিত প্রকৌশলীরা।<br />
আরো  জানা যায়, ফ্যাসিবাদের অন্যতম দোসর সাবেক পূর্ত সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকারের আশীর্বাদপ্রাপ্ত গণপূর্ত অধিদপ্তরের ১৫তম ব্যাচের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী ২০১৪ সালে পিএইচডি ডিগ্রি জলিয়াতে ধরা পড়ে শাস্তির বদলে পেয়েছেন পাবনা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে প্রাইজ পোস্টিং। সেখানে গ্রীণসিটি প্রকল্পের টেন্ডারে মজিদ সন্স ও সাজিন কনস্ট্রাকশনকে ব্যাপক সুবিধা পাইয়ে দিয়ে শতাধিক কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১৬ সালে ওই সময়ের প্রধান প্রকৌশলী টিপু মুন্সী তাকে চুয়াডাঙ্গায় বদলী করেন। এর পরে নতুন করে কথিত লিয়েন কাটিয়ে পিএইচডি ডিগ্রী জালিয়াতি করে ধরা খেয়েও সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকারের মাধ্যমে দন্ড মওকুফ করিয়ে নিয়ে ২০১৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও সল্প ব্যবধানে পুনরায় পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়ে রাজশাহীতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে থেকে বালিশ কান্ডে উপসহকারী প্রকৌশলীদের ফাঁসিয়ে দিয়ে নিজেসহ উর্দ্ধতনদের রক্ষা করার ব্যবস্থা করেন তিনি। পরবর্তীতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসাবে খুলনার দায়িত্বে থেকে শেখ হেলালের পদ লেহন করে আওয়ামী এজেন্ডার সুপরিকল্পিত ও সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করায় শেখ হাসিনার নির্দেশে তাকে গোপালগঞ্জে নিয়ে আসা হয় ২০২৪ সালে। গত বছরের ২৪ জুন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তাকে ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন জোনের’ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে আবারও প্রাইজ পোস্টিং বাগিয়ে নেন জামায়াতের ঊর্দ্ধতন নেতাদের তদবীরে। গণপূর্ত মেট্টোপলিটন জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার পর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তখন থেকেই ঠিকাদার ও ঢাকা শহরে একাধিক ওয়ার্কিং ডিভিশনে নির্বাহী প্রকৌশলীর মাধ্যমে শত কোটি টাকা কালেকশন করে জামায়াতকে ম্যানেজ করে তখনকার প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের আরো ২মাস চাকরি থাকা সত্ত্বেও ল্যাং মেরে ফেলে দিয়ে প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ার দখল করেন। গণপূর্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।<br />
আরো জানা যায়, চাকরি জীবনে খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বড় সময় কেটেছে অস্ট্রেলিয়ায়। স্ত্রী-সন্তান অস্ট্রেলিয়ায় থাকায় সেখানে তিনি বহুবার যাতায়াত করেন। শিক্ষা ছুটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যান, পিএইচডি এর নাম করে দফায় দফায় ছুটি বাড়িয়েছেন তিনি। অনুমোদনবিহীন ছুটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়াতে চাকুরিও করেছেন। ফিরে এলে তার বিরুদ্ধে ডিজারশনের মামলা হবার কথা।<br />
অপরদিকে, রাজধানীর বেইলি রোডে ২০২৪ সালের শুরুতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে কঙ্কালসার হয়ে যায় গ্রিন কোজি কটেজ। সাততলার এই বাণিজ্যিক ভবনে ওই বছর প্রাণ হারিয়েছিল ৪৬ জন; দগ্ধ ও আহত হয় আরও ১৩ জন। ঘটনার রেশ কাটার আগেই রাজধানীজুড়ে হোটেল রেস্তোরাঁগুলোয় সাঁড়াশি অভিযান চালায় পুলিশ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও সিটি করপোরেশন। গ্রেপ্তার করা হয় আট শতাধিক মানুষকে। জনমনে প্রশ্ন ওঠে, গ্রিন কোজি কটেজে থাকা রেস্তোরাঁগুলোতে প্রতিদিন যেখানে অসংখ্য মানুষ ভিড় করত, সেই ভবনের নকশার এমন করুণ দশা কেন? ভবনটিতে কোনো জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা ছিল না কেন? ভবনে চলাচলের সিঁড়িটাই-বা এত সরু কেন? জরুরি নির্গমন পথ থাকলে বা সিঁড়িটা প্রশস্ত হলে তো এত প্রাণহানি হতো না। পত্রপত্রিকা মারফত খবর আসে, গ্রিন কোজি কটেজের নকশার অনুমোদন দিয়েছিলেন তৎকালীন রাজউক অথোরাইজড অফিসার প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী। ২০১১ সালে রাজউকের অথরাইজড অফিসার হিসেবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি ভবনটির অনুমোদন দেন। সে সময় খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে নিয়ে ব্যাপক শোরগোল চললেও গোপালগঞ্জ সিন্ডিকেটের ম্যাজিকে একপর্যায়ে তা থেমে যায়।<br />
রাজউক সূত্রে জানা যায়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে ২০১১ সালে খালেকুজ্জামান অথরাইজড অফিসার প্রেষণে রাজউকে আসেন। সে সময় বেইলি রোডে গ্রিন কোজি কটেজ ভবনের নকশার অনুমোদন দেন তিনি। জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা না থাকা, সরু একটিমাত্র সিঁড়িসহ নানা অনিয়মে পূর্ণ ছিল নকশাটি। গোপালগঞ্জপন্থী ও গণভবনের আশীর্বাদপুষ্ট এই কর্মকর্তা চাকুরি বিধিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পরিস্থিতি অনুমানে ঝোঁপ বুঝে কোপ মেরে বার বার শাস্তির বদলে পেয়েছেন পুরস্কার। অথচ এখন তিনি সবচেয়ে বড় ছাত্রদল (সাবেক) নেতা সেজেছেন। সুযোগ বুঝে ভোল পাল্টানো এই কর্মকর্তা ইতোমধ্যে ঠিকাদার অফিসারদের নিয়ে একটি লগ্নিকারী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেটটির সাথে তার গোপণ সমঝোতা হয়েছিলো প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার পরে বদলী টেন্ডার বাণিজ্যের সিন্ডিকেট তাদের হাতেই থাকবে। গত নভেম্বর থেকে ওই সিন্ডিকেটই অধিদপ্তরের যাবতীয় পোষ্টিং পদোন্নতি টেন্ডারসহ গণপূর্তের সকল কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রধান প্রকৌশলীর পদে বসেই এক সপ্তাহে অর্ধশতাধিক বদলী অর্ডার করেন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। গোপণীয় ঘুষ বাণিজ্যের অংশ হিসাবে মার্চ মাসে একই দিনে ৫৭ প্রকৌশলীকে বদলী করা হয়। পরবর্তীতে মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে গত ১০ মার্চ ভিন্ন ভিন্ন প্রজ্ঞাপনে তা বাতিল করতে বাধ্য হন প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান। এতো নাটকীয়তা সত্ত্বেও চিহ্নিত অভিযুক্ত মার্কামারা দুর্নীতিবাজ কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে ইতোপূর্বে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় পোষ্টিং দিয়ে ফ্যাসিবাদকে উসকে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন মহিলা প্রকৌশলীকে সাথে নিয়ে বিদেশ ট্যুরের নামে প্রমোদ ভ্রমন করে এসেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। এ নিয়ে রসালো গুঞ্জন রয়েছে গোটা গণপূর্ত অধিদপ্তর জুড়ে। এ বিষয়ে আমাদের তথ্যানুসন্ধান অব্যাহত আছে। </p>
<p><img decoding="async" src="https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/fbi3-300x162.jpeg" alt="" width="300" height="162" class="alignnone size-medium wp-image-26639" srcset="https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/fbi3-300x162.jpeg 300w, https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/fbi3.jpeg 680w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" />প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান ও স্টাফ অফিসার ফারিবা হালিম অরিন</p>
<p>স্টাফ অফিসার কেলেঙ্কারী: গণপূর্ত’র ইতিহাসে অতীতে কোন প্রধান প্রকৌশলী নারী স্টাফ অফিসার রাখেননি। বর্তমানে চলতি দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী চেয়ারে বসার একদিন পরেই একজন মহিলা এসডিইকে (উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ফারিবা হালিম অরিণ) স্টাফ অফিসার হিসাবে নিয়ে আসেন। অথচ এই পদটি নির্বাহী প্রকৌশলী পদমর্যাদার। ওই নারী এসডিইকে দুই মাস পরে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। প্রধান প্রকৌশলী বেশীরভাগ দাপ্তরিক কাজ এই নারী স্টাফ অফিসারের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। আলোচিত স্টাফ অফিসার ও বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী দু’জনেই লিয়েনে অস্ট্রেলিয়ায় ছিলেন। সেখানেই তাদের জানাশোনা। ভালো বোঝাপড়ার কারণে তাকেই স্টাফ অফিসার হিসাবে নিয়ে এসেছেন প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান। তবে বিষয়টি নিয়ে রসালো আলোচনা সমালোচনা চলছে গণপূর্ত প্রকৌশলীদের মধ্যে। </p>
<p>বদলী পদোন্নতি ও টেন্ডার নিয়ে ৫/৬ জনের সিন্ডিকেট: ডিপার্টমেন্টের বদলী পদোন্নতি টেন্ডারসহ সামগ্রীক বিষয় নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে রয়েছে পাঁচজনের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান ছাড়া অন্য চারজন হচ্ছেন-তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১) বদরুল আলম খান (তিনি বদকর্ম ও নারী কেলেংকারীতে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরিচিত), সংস্থাপণ শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান, সার্কেল-২ এর স্মার্ট দুর্নীতিবাজ হিসেবে পরিচিত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু নাসের চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলীার ওই নারী স্টাফ অফিসার ও ই/এম এর একজন নির্বাহী প্রকৌশলী পদের নারী কর্মকর্তা। </p>
<p><img decoding="async" src="https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/fbi3-300x162.jpeg" alt="" width="300" height="162" class="alignnone size-medium wp-image-26639" srcset="https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/fbi3-300x162.jpeg 300w, https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/fbi3.jpeg 680w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p><img fetchpriority="high" decoding="async" src="https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/vgn3-300x170.jpeg" alt="" width="300" height="170" class="alignnone size-medium wp-image-26640" srcset="https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/vgn3-300x170.jpeg 300w, https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/vgn3.jpeg 500w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" />খালেকুজ্জামানের ভাই ও ভাগিনা<br />
প্রধান প্রকৌশলীর আত্মীয়-স্বজনদের দিয়ে ঠিকাদারী: খালেকুজ্জামান প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার পরে গোটা গণপূর্ত দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ভাগিনা জগলু। সে এখন গণপূূর্ত প্রকৌশলীদের গণ ভাগ্নে। ভাই পরিচয়ে জনৈক ডলার কাজ নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন গণপূর্ত’র প্রতিটি ডিভিশনের। প্রধান প্রকৌশলীর চাচাতো মামাতো ভাই ভাতিজাও আছেন এ্ই তালিকায়। সাথে আরো আছেন সদ্য সাবেক গৃহায়ন গণপূর্ত সচিব নজরুল ইসলামের আপন ছোট ভাই আমিনুল ইসলাম। এই আমিনুল ইসলামই সচিবের সাথে যাবতীয় অনৈতিক লেনদেনের বাহক হিসাবে এতাদিন কাজ করেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।<br />
ডেভেলপার ব্যবাসা: প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান আগে থেকেই নিজের ভাই ও ভাগিনা নিয়ে ডেভেলপার ব্যবসায় জড়িত। রাজধানীর ফার্মগেইট এলাকার রয়েছে ওই ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের অফিস। প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার অভিযাত এলাকা গুলশান ও বনানীতে অসংখ্য ভবন বানিয়ে ফ্ল্যাট ব্্যবসা করছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। বিষয়টি আমাদের অনুসন্ধানী টিমের পর্যাবেক্ষণে রয়েছে।  </p>
<p>জালিয়াতিতে শস্তিপ্রাপ্ত খালেকুজ্জামান:<br />
ভুয়া পিএইচডি সনদ দেখিয়ে উচ্চতর শিক্ষা ছুটিতে প্রেষণ ভোগের ঘটনায় বিভাগীয় মামলা হয় গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে। বিভাগীয় তদন্তে জালিয়াতি ও অসদাচরণের বিষয়টি প্রমাণিত হলে তিনি দোষ স্বীকার করেন। তবে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সঙ্গে ‘ফুপু-ভাতিজা’ সম্পর্কের সুবাদে তাকে দেওয়া হয় লঘুদন্ড। মাত্র এক বছরের জন্য বন্ধ রাখা হয় বেতন বৃদ্ধি।<br />
এই শাস্তির তিন বছরের মধ্যেই ফুপুর প্রভাবে তিনি হন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে পদোন্নতি পান অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে। এরপর দায়িত্ব পালন করেন গোপালগঞ্জ গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে।<br />
জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি খোঁজেন নতুন রাজনৈতিক পরিচয়। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের স্ত্রী ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরীকে (সুইটি) ‘ফুপু’ হিসেবে পরিচয় দেন। জামায়াতপন্থি তৎকালীন গণপূর্ত সচিব নজরুল ইসলামের তদবিরে তখন পাঁচজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীকে ডিঙিয়ে বসেন প্রধান প্রকৌশলীর (রুটিন দায়িত্ব) চেয়ারে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে টেন্ডার ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে।</p>
<p><img decoding="async" src="https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/anl3-300x202.jpeg" alt="" width="300" height="202" class="alignnone size-medium wp-image-26641" srcset="https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/anl3-300x202.jpeg 300w, https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/anl3.jpeg 503w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" />খালেকুজ্জামানকে জালিয়াতির দায়ে দেওয়া শাস্তির অনুলিপি</p>
<p>বর্তমানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্বে) হিসেবে আছেন মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী। এই পদ স্থায়ী বা নিয়মিত করতে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ইতিমধ্যেই জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের ডিঙিয়ে পদোন্নতির সংক্ষিপ্ত তালিকার শীর্ষে নিজের নাম বসাতে সমর্থ হয়েছেন। বাকি জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের বাদ দিতে তাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যার সাজানো মামলার তথ্য জমা দেওয়া হয়েছে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডে (এসএসবি)। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের দালিলিক নথিপত্র পর্যালোচনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।<br />
রাজনৈতিক আত্মীয়তায় জ্যেষ্ঠতা ডিঙ্গিয়ে পদোন্নতি:  গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা তালিকা ও পার্সোনাল ডাটা শিট (পিডিএস) পর্যালোচনায় দেখা যায়, খালেকুজ্জামান চৌধুরী ক্ষমতার পালাবদলের সুযোগ বারবার কাজে লাগিয়েছেন। ১৯৮৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চাকরিজীবনে সরকারি প্রেষণ ও ছুটির সুযোগে তিনি প্রায ১১ বছর অস্ট্রেলিয়ায় ছিলেন। পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হলেই দেশে ফিরে এসেছেন।<br />
পোস্টের হাতে আসা নথি অনুযায়ী, প্রেষণে যেতে তিনি ভুয়া অফার লেটার ও জাল কাগজপত্র তৈরি করেছিলেন। এতে বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট তৎকালীন গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার তার এক বছরের বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করেন। আওয়ামী লীগ নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সুপারিশে গুরুদন্ড এড়িয়ে সে যাত্রায় এই লঘুদন্ড পান তিনি।<br />
বিভাগীয় মামলার তিন বছরের মধ্যেই এই আওয়ামী লীগ নেত্রীর লিখিত সুপারিশে খালেকুজ্জামান একই বছরে দুই দফা পদোন্নতি পান। তখন সাজেদা চৌধুরীকে ‘ফুপু’ ডাকতেন তিনি।<br />
সরকারি চাকরির সার্ভিস রেকর্ড বলছে, ২০১৯ সালের ২২ জুলাই খালেকুজ্জামান চৌধুরী নিয়মিত পদোন্নতি পান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে। এর কয়েক মাসের মাথায় ১৫ ডিসেম্বর পদোন্নতি পান অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে। রীতি ভেঙে তখন এই পদোন্নতি দেওয়া হয় তাকে।<br />
জুলাই অভ্যুত্থানের পর বদলে যায় খালেকুজ্জামান চৌধুরীর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান। আওয়ামী লীগের বদলে এবার জামায়াত ঘনিষ্ঠ বনে যান তিনি।<br />
জামায়াতপন্থি সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম এবং জামায়াত নেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের তদবিরে ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর পাঁচজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীকে ডিঙিয়ে বসেন প্রধান প্রকৌশলীর (চলতি) চেয়ারে। এর আগে তাকে গোপালগঞ্জ থেকে দেওয়া হয়েছিল ঢাকা মেট্রো জোনের দায়িত্ব।<br />
খালেকুজ্জামানের বাড়ি ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার তালমা গ্রামে। একই উপজেলার ফুলসুতি গ্রামে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের শ্বশুরবাড়ি।<br />
ডা. তাহেরের শ্বশুর আহম্মদ উল্লাহ চৌধুরী এবং খালেকুজ্জামানের বাবা বদিউজ্জামান চৌধুরী সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। এই সূত্রে জামাযাত নেতার স্ত্রী ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরীকে (সুইটি) তিনি ডাকেন ‘ফুপু’। এই আত্মীয়তার সুবাদে গত অন্তর্র্বতী সরকারের সময় ডা. তাহেরের প্রভাবে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি পান তিনি।</p>
<p>ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আবারও নিজের রাজনৈতিক রূপ বদলে ফেলেন এই কর্মকর্তা। বর্তমানে নিজেকে পরিচয় দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের ঘনিষ্ঠ ও আত্মীয় হিসেবে।</p>
<p>জ্যেষ্ঠদের বাদ দিতে সাজানো মামলার তালিকা ঃ প্রধান প্রকৌশলী পদ স্থায়ী করতে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) বৈঠকের জন্য গত ৬ জুলাই গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় পাঁচজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর তালিকা। এই তালিকায় প্রশাসনিক জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" src="https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/a4l-300x216.jpeg" alt="" width="300" height="216" class="alignnone size-medium wp-image-26642" srcset="https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/a4l-300x216.jpeg 300w, https://skynews24.net/wp-content/uploads/2026/08/a4l.jpeg 502w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" />প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জানের বিরুদ্ধে দুদকে দেওয়া অভিযোগ ও থানায় দায়েরকৃত সাধারণ ডায়েরির অনুলিপি</p>
<p>বর্তমানে অধিদপ্তরের দাপ্তরিক জ্যেষ্ঠতার তালিকায় শীর্ষে আছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের (ঢাকা জোন) ও উৎফল কুমার দে (রিজার্ভ)। জ্যেষ্ঠতার হিসেবে তিন নম্বরে থাকা খালেকুজ্জামান চৌধুরী নিজেকে তালিকার এক নম্বরে বসাতে সমর্থ হয়েছেন।<br />
তালিকায় আরও আছেন মো. শহিদুল আলম (স্বাস্থ্য উইং) এবং ড. মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন হায়দার (প্রেষণে মহাপরিচালক, এইচবিআরআই)।<br />
নথিপত্র বলছে, তালিকা থেকে সিনিয়রদের স্থায়ীভাবে বাদ দিতে জুলাই অভ্যুত্থানের পর রামপুরা থানার একটি মামলার আসামির তালিকায় কৌশলে এসব জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ মোট ৪৭ জন প্রকৌশলীর নাম ঢোকানো হয়। এই মামলার নথি এসএসবি কমিটিতে জমা দিয়ে তাদের অবস্থান দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়, যাতে জ্যেষ্ঠতার তালিকায় তিন নম্বরে থাকা খালেকুজ্জামান চৌধুরীর শীর্ষ পদ পাওয়ার পথে কোনো বাধা না থাকে। </p>
<p>বদলি বাণিজ্য<br />
২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই অধিদপ্তরে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন পর্যায়ের ৬৫ জন প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাকে পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নের জন্য ১০ লাখ থেকে শুরু করে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এসব লেনদেনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগপন্থি হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পুনর্বাসনের অভিযোগ রয়েছে।<br />
চলতি বছরের ৩ মার্চ পৃথক প্রজ্ঞাপনে একদিনে অর্ধশতাধিক নির্বাহী প্রকৌশলী, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলীকে গণবদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়কে না জানিয়ে এতো বড় রদবদল করায় গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী প্রধান প্রকৌশলীকে তলব করে ব্যাখ্যা চান।<br />
সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় ৫ ও ৮ মার্চ পৃথক আদেশে বাতিল করা হয অধিকাংশ বদলি। এরপরও পর্দার আালে ছোট পরিসরে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম চালুর খবর পাওয়া গেছে।<br />
এক ঘটনায় দেখা যায, দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত হওয়া প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে পুনর্বাসনের সুযোগ দিতে পুরোনো তারিখে জারি করা হয বদলির আদেশ। সাইফুজ্জামান ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের গণপূর্তমন্ত্রী শরিফ আহমেদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।<br />
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গত ৩ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে দুর্নীতির দায়ে সাইফুজ্জামানকে বরখাস্ত করে। ওই আদেশে তাকে উল্লেখ করা হয় লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে। কিন্তু গণপূর্ত অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত আরেক আদেশে দেখা যায়, বরখাস্তের এক দিন আগে অর্থ্যাৎ ২ ফেব্রুয়ারি তাকে ঢাকায় রিজার্ভে বদলি করা হয়েছে। ৩ তারিখে বরখাস্ত হওয়া একজন কর্মকর্তা কীভাবে ২ তারিখে ঢাকায় বদলি হন, আর তা প্রকাশিত হয় ১৫ তারিখে। এমন অসামঞ্জস্যপূর্ণ নথিকে জালিয়াতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন দপ্তর সংশ্লিষ্টরা।</p>
<p>কমিশন না পাওয়ায় টেন্ডার বাতিল<br />
বদলি বাণিজ্যের পাশাপাশি বড় প্রকল্পের টেন্ডার পুনর্মূল্যায়নের নামে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১, বিভাগ-৩ এবং শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২-এর অধীনে বড় অঙ্কের পাঁচটি দরপত্র কমিশনসংক্রান্ত অসন্তোষের কারণে পুনর্মূল্যায়নের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।<br />
পিপিআর ২০২৫ (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস)-এর ত্রুটির অজুহাত দেখানো হলেও সূত্র বলছে, নতুন পিপিআর চালুর পর সব প্রকৌশলীকে যথেষ্ট প্রশিক্ষণ দেওযা হয়। প্রকৃতপক্ষে নির্ধারিত কমিশন না পাওয়ায় পুনর্মূল্যায়নের অজুহাতে এসব টেন্ডার আটকে রাখা হয়েছিল।<br />
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদপ্তরের একাধিক প্রকৌশলী ও ঠিকাদার জানান, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারকে সরানোর পরও দুর্নীতি থামেনি। বরং খালেকুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে নতুন একটি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটকে আর্থিক সুবিধা দিতে পারা কর্মকর্তারাই সুবিধাজনক পদে বহাল রয়েছেন।<br />
খালেকুজ্জামান চৌধুরীর দুর্নীতি, নথি জালিয়াতি, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন এবং দেশে-বিদেশে অবৈধ সম্পদ অর্জনসংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণসহ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়েছে লিখিত অভিযোগ। একাধিক ভূক্তভোগী কর্মকর্তা ও ঠিকাদার দুদকে সরাসরি হাজির হয়ে জমা দিয়েছেন দালিলিক প্রমাণ।<br />
‘ক্ষমতা বদলালেই তৈরি হয় নতুন আত্মীয়তা’<br />
সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ছেলে সাজেদ আকবর বলেন, ‘একই নির্বাচনি আসনে বাড়ি হওয়ায় তখন আম্মার কাছে অনেকে আসতেন। তারা নিজেকে ক্ষমতার কাছাকাছি রাখতে কোনো না কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি করতেন। ক্ষমতা চলে যাওয়ার পরে তাদের ফের নতুন ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি হয়। তবে আমি তাকে (খালেকুজ্জামান চৌধুরী) চিনি না, আম্মার সঙ্গে পরিচয় ছিল না কি না জানা নেই।’ পরবর্তীতে সাবেক মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী ও আ’লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আবুর রহমানবে নিকটাত্মীয় পরিচয়ে ছড়ি ঘুরিয়েছেন গণপূর্ত কর্মকর্তাওে ওপরে।।<br />
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘জালিযাতি ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত প্রমাণিত কোনো কর্মকর্তাকে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে বসানো দেশ ও সংস্থার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বাংলাদেশে একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা প্রতিটি আমলে নতুন নতুন পরিচয় তৈরি করে সুবিধা বাগিয়ে নেয। এর ফলে প্রকৃত সৎ, যোগ্য ও নিষ্ঠবান কর্মকর্তারা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়ে উপেক্ষিত থেকে যান।’<br />
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও অনৈতিক উপায়ে পদপদবি বাগানোর এই সংস্কৃতি গ্রহণযোগ্য নয়। দুর্নীতি দমনে সরকারের যে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তার প্রতিফলন ঘটাতে প্রতিটি পদায়নের আগে ব্যাকগ্রাউন্ড গভীরভাবে তদন্ত করা উচিত। পাশাপাশি, দুদকের মতো সংস্থাগুলোর মাধ্যমে জালিয়াতির অভিযোগ আমলে নিয়ে যোগ্যদের মূল দায়িত্বে আনা জরুরি।’<br />
এসব বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বক্তব্য জানতে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) তার দপ্তরে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে কল করে ও খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া মেলেনি। এর পূর্বেও বিষয়টি নিয়ে মতামত জানার জন্য তাকে একাধিকবার ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়েছে হোয়াটস্আ্যাপে। সে সময়ে অধিদপ্তরের এক কর্মচারীকে দিয়ে সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন এই প্রতিবেদককে। (ক্রমশঃ)</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://skynews24.net/archives/26637/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নারী কেলেঙ্কারি থেকে দুর্নীতির অভিযোগ, আলোচনায় গণপূর্তের বদরুল আলম খান</title>
		<link>https://skynews24.net/archives/26630</link>
					<comments>https://skynews24.net/archives/26630#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 04 Aug 2026 06:10:02 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Leadnews]]></category>
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://skynews24.net/?p=26630</guid>

					<description><![CDATA[গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ব্যক্তিগত জীবনে অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছেন তার প্রথম স্ত্রী। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি প্রকল্প, বদলি, পদোন্নতি ও ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাব [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ব্যক্তিগত জীবনে অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছেন তার প্রথম স্ত্রী। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।</p>
<p>অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি প্রকল্প, বদলি, পদোন্নতি ও ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন প্রকৌশলী বদরুল আলম খান। পাশাপাশি নিজস্ব প্রভাব বলয় ব্যবহার করে অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পে প্রভাব খাটিয়ে তিনি শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।</p>
<p>বিশেষ মহলের ছত্রছায়ায় থেকে অধিদপ্তরে নিয়োগ,বদলি,পদোন্নতি ও ঠিকাদার নিয়োগে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। নিজস্ব ঠিকাদার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গণপূর্তের দরপত্র কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন।</p>
<p>বদরুল আলম খানের প্রথম স্ত্রী মিসেস জেসমিন অভিযোগ করেন, তার অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতি রয়েছে। এছাড়া একাধিক মেয়ের সাথে সর্ম্পক। আমার অনুমোতি না নিয়ে ২য় বিয়ে করেছে।</p>
<p>এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান বলেন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। তার দুই স্ত্রী রয়েছেন এবং তাদের মধ্যে পারিবারিক সমস্যা চলছে। এক স্ত্রী তার বিরুদ্ধে নারী সংক্রান্ত অভিযোগ, নির্যাতন ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ করেছেন বলেও জানান তিনি।</p>
<p>প্রথম স্ত্রীর অভিযোগ, সরকারি চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন ওই প্রকৌশলী। ব্যক্তিগত জীবনেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।</p>
<p>অভিযোগকারী আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর তদন্ত হয়নি।</p>
<p>বর্তমানে তিনি ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১ এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি ২১তম বিসিএস গণপূর্ত ক্যাডারের কর্মকর্তা। অভিযোগে বলা হয়েছে, অধিদপ্তরের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও দরপত্র কার্যক্রমে তার প্রভাব রয়েছে।</p>
<p>আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের নাতি এবং ফ্যাসিবাদের আরেক মন্ত্রী র আ ম ওবায়দুল মোক্তাদীর চৌধুরীর ভাগিনা সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব নজরুল ইসলামের আস্তাভাজন এবং বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামানের অত্যন্ত কাছের কর্মকর্তা হওয়ার কারণে তদন্ত করা হচ্ছে না।</p>
<p>এমনকি সময়ে অসময়ে কারণে-অকারণে আত্মীয়তা পাতান ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের ভাতিজা তিনি। পরবর্তীতে সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের নাতি। আওয়ামী লীগের আরেক মন্ত্রী র আ ম ওবায়দুল মোক্তাদীর চৌধুরীর ভাগিনা তিনি।</p>
<p>বর্তমান গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব নজরুল ইসলামের বড় কুটুম। বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামানের অত্যন্ত কাছের লোক। প্রধান প্রকৌশলীকে এই পদে তিনিই বসিয়েছেন বলে সহকর্মী প্রকৌশলীদের কাছে দম্ভ করে বলে থাকেন। তিনি যা বলেন সচিব তাই করেন বলে- প্রকৌশলী বদরুল আলম নিজে নিজে অহংকার বোধ করেন। গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারী গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা-৭ থেকে জারিকৃত এক প্রঞ্জাপনে তাকে ঢাকা গণপূর্ত-১ নং সার্কেলে বদলী করা হয়। এই সার্কেলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (কুমিল্লা) ওসমান গনিকে সুপারিশ করেছিলেন সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম।</p>
<p>বিষয়টি গোপন মাধ্যমে জানতে পেরে একজন রাজনৈতিক নেতাকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ঘুষ দিয়ে তাকে দিয়ে তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টাকে ম্যানেজ করে সচিবকে ফোন করান বদরুল। এর ফলে জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে এমন একটি বদলী আদেশ হয়। এ নিয়ে তোলপাড় হয় গোটা গণপূর্ত অধিদপ্তর। উপহারস্বরূপ তাহেরের নির্বাচনী খরচ বাবদ গত ১০ ফেব্রুয়ারী রাতে গাড়ি ভর্তি করে ১কোটি টাকা পাঠান প্রকৌশলী বদরুল। পূর্ত ভবন থেকে সাভার সার্কেলের লাল গাড়িতে করে ওই দিন সন্ধার পরে টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাহেরের বাসায়। প্রকৌশলী বদরুল মনে করেছিলেন জামায়াত নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে।</p>
<p>গত ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনের পরে পরিস্থিতি পাল্টে গেলে প্রকৌশলী বদরুল আলম মির্জা আব্বাসের বাসায় গিয়ে দেখা করেন তিনি (আব্বাস) পূর্ত মন্ত্রী হচ্ছেন এমন ভেবে। এখন তিনি নিজ সিন্ডিকেটের লোকজন নিয়ে বর্তমান পূর্ত মন্ত্রীকে ম্যানেজ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ বলা হয়, স্বৈরাচারের প্রেতাত্মা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা প্রকৌশলী বদরুল আলম খান ২০০৩ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদান করেন। এরপর পদোন্নতি পেয়ে সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার (এসডিই) হয়েই ঠিকাদারি-বদলি বাণিজ্যসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে রাতারাতি নামে-বেনামে শত কোটি টাকার মালিক বনে যান তিনি।</p>
<p>চাকরির বিভিন্ন পর্যায়ে এভাবে লুটপাটের সাম্রাজ্য কায়েম করে অর্জন করা অবৈধ সম্পদের মধ্যে রয়েছে- তার স্ত্রীর নামে ঢাকার মালিবাগে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, খিলগাঁওয়ের গোড়ানে ৬তলা বিলাশবহুল বাড়ি, আশুলিয়ায় গার্মেন্টস্ এক্সেসরিজ কারখানা, আপন ভাইয়ের সাথে যৌথভাবে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা, নামে-বেনামে বিভিন্ন লাইসেন্সের মাধ্যমে পরোক্ষ ঠিকাদারী ব্যবসা, স্ত্রী ও ভাই-ভাতিজা শালা-শালির নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রায় ২০ কোটি টাকার এফডিআর, রাজধানীর গুলশানে নিজ নামে একটি ও স্ত্রীর নামে দুটি বিলাসবহুল আবাসিক ফ্ল্যাটের মালিকানা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ১০ কাঠার তিনটি প্লটসহ বিভিন্ন দেশে হরেক রকম বিনিয়োগ।স্বৈরাচার সরকারের ২য় টার্মে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ে তিনি ২০১৪ সালে তৎকালীন মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের কাছে তদবির করিয়ে ভোলায় লোভনীয় পোস্টিং বাগিয়ে নেন।</p>
<p>সেখানে ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৫বছরের চাকরি জীবনে তিনি তোফায়েল আহমেদের ভাতিজা এমপি মইনুল হোসেন বিপ্লব, এমপি আলী আজম মুকুল ও নুরুন্নবী শাওন এমপির সাথে জোটবদ্ধ হয়ে লুটেরা সিন্ডিকেট গঠন করে সিজিএম আদালত ভবন, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, পুলিশ বিভাগের নতুন থানা নির্মাণ, জেলা ও উপজেলা টিটিসি, উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সকল দরপত্র নিজেদের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিয়ে কমিশন বাণিজ্যে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়াও তিনি ভোলা গণপূর্ত বিভাগের মেরামত রক্ষনাবেক্ষণ কাজ থেকে ১৫ শতাংশ হারে ঘুষ আদায় করেও বড় অংকের অর্থ লোপাট করেন।</p>
<p>আওয়ামীলীগ সরকারে আমলে সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরীর মাধ্যমে বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে ২০২০ সালে প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের কাছে তদবির করে ময়মনসিংহে বদলী করেন। পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়ে চট্টগ্রাম ১নং গণপূর্ত সার্কেলে থাকালীন সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে আরো কয়েক কোটি টাকা লোপাট করেন। এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খান গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি মিমাংসা জন্য আলোচনা চলছে। সব অভিযোগ সঠিক নয়।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://skynews24.net/archives/26630/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নাজরান ফিশারীজ এন্ড এগ্রো প্রজেক্টে ৪০০ কোটি টাকার প্রতারণা: চক্রের এক সদস্য গ্রেফতার</title>
		<link>https://skynews24.net/archives/26391</link>
					<comments>https://skynews24.net/archives/26391#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 07 May 2026 17:38:16 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[2ndlead]]></category>
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://skynews24.net/?p=26391</guid>

					<description><![CDATA[নাজরান ফিশারীজ এন্ড এগ্রো প্রজেক্ট” নামে একটি ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. ওবায়েদুল্লাহ (৩৩)। তাকে রাজধানীর সবুজবাগ থানাধীন বাসাবো এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ভোলা জেলার শশীভোষণ থানার জাহানপুর গ্রামের বাসিন্দা। [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>নাজরান ফিশারীজ এন্ড এগ্রো প্রজেক্ট” নামে একটি ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।</p>
<p>গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. ওবায়েদুল্লাহ (৩৩)। তাকে রাজধানীর সবুজবাগ থানাধীন বাসাবো এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ভোলা জেলার শশীভোষণ থানার জাহানপুর গ্রামের বাসিন্দা।</p>
<p>মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, “নাজরান ফিশারীজ এন্ড এগ্রো প্রজেক্ট” নামে একটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে আসছিল। বিনিয়োগকারীদের বলা হতো, ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা লাভসহ ৩৩ মাসে মূলধন দ্বিগুণ করে দেওয়া হবে।</p>
<p>এই প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে ২০২৩ সালের মে মাসে এক ভুক্তভোগী ও তার তিন বান্ধবী রাজধানীর কুড়িল চৌরাস্তা সংলগ্ন অফিসে গিয়ে মোট ১৭ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন। প্রথমদিকে আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে চক্রটি কিছু টাকা ফেরত দেয়, যা বিনিয়োগকারীদের আরও উৎসাহিত করে।</p>
<p>পরবর্তীতে একই বছরের জুলাই মাসে তারা ব্যাংকের মাধ্যমে আরও ৫০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন। এছাড়া ‘প্রজেক্টের প্লট’ কেনার কথা বলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোট ১ কোটি ৬৩ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা আদায় করা হয়। যদিও আংশিক কিছু অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছিল, পরে প্রতিষ্ঠানটি হঠাৎ লেনদেন বন্ধ করে অফিস গুটিয়ে নেয় এবং সংশ্লিষ্টরা আত্মগোপনে চলে যায়।</p>
<p>তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, একই কৌশলে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছে এই চক্র। প্রতিষ্ঠানের ৪টি ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া গ্রেফতারকৃত ওবায়েদুল্লাহর ব্যক্তিগত ১৪টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় আড়াই কোটি টাকার লেনদেনের তথ্যও মিলেছে।</p>
<p>এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে প্রায় ১৫ হাজার ভুক্তভোগী ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেন।</p>
<p>মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা পলাতক হয়ে যায় এবং মোবাইল নম্বর বন্ধ রাখে। পরে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।</p>
<p>তদন্তে আরও জানা গেছে, মো. ওবায়েদুল্লাহর বিরুদ্ধে ভাটারা, উত্তরা পশ্চিম ও সাভার থানায় একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে।</p>
<p>সিআইডি জানিয়েছে, এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।</p>
<p>এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে সিআইডি সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অচেনা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের আগে তাদের সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://skynews24.net/archives/26391/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>এরা সরকারকে ডোবাবে’ রাষ্ট্র পরিচালকদের তদবিরের দোকান!</title>
		<link>https://skynews24.net/archives/26388</link>
					<comments>https://skynews24.net/archives/26388#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 07 May 2026 03:30:35 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Leadnews]]></category>
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://skynews24.net/?p=26388</guid>

					<description><![CDATA[প্রধানমন্ত্রী পদে যদিও আছেন তারেক রহমান, তবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে ও নীতিনির্ধারনী সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব খাটাচ্ছেন অন্যরা। নানা কায়দায় এরাই মূলতঃ সরকারকে চালাচ্ছেন। ভুল তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে কৌশলে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করে নিচ্ছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই চক্রটি যা চাইছেন তা-ই হচ্ছে। এদের ব্যাপক প্রভাবের কথা ছড়িয়ে পড়েছে সরকারের ভেতরে বাইরে অনেকের মধ্যেই। এরা যাদেরকে যা [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>প্রধানমন্ত্রী পদে যদিও আছেন তারেক রহমান, তবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে ও নীতিনির্ধারনী সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব খাটাচ্ছেন অন্যরা। নানা কায়দায় এরাই মূলতঃ সরকারকে চালাচ্ছেন। ভুল তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে কৌশলে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করে নিচ্ছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই চক্রটি যা চাইছেন তা-ই হচ্ছে। এদের ব্যাপক প্রভাবের কথা ছড়িয়ে পড়েছে সরকারের ভেতরে বাইরে অনেকের মধ্যেই। এরা যাদেরকে যা ‘করে দেওয়ার’ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তা হয়েও যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের আমলে এর কিছু প্রমাণও পাওয়া গেছে ইতিমধ্যে। গোপনে নয়, এখন অনেকটা প্রকাশ্যেই এই চক্রটি ঘুষের তদবিরের কাজ খুঁজছে। অবাক ব্যাপার হলো, ঘুষের তদবিরের কাজের জন্য বিজ্ঞাপনও দেওয়া হচ্ছে। সরকারের বড় বড় গুরুত্বপূর্ণ পদ এবং কাজ চায় এমন আগ্রহী ব্যক্তিদের যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে। অতীতে কখনো এমনকি আওয়ামী লীগ আমলেও দেখা যায়নি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজকর্ম অবৈধ কেনা-বেচার এমন ভয়াবহ তৎপরতা। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই প্রথম এটি চালু হয়েছিল। ড. ইউনূসের ভাবমূর্তি ভয়াবহভাবে ক্ষুণ্ন এবং ক্ষমতা থেকে তার দ্রুত প্রস্থানের এটিই ছিল অন্যতম কারণ। কিন্তু বর্তমান বিএনপি সরকারের এখন পর্যন্ত সবেমাত্র দুই মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। এখনই এ রকমের ভয়াবহ অপতৎপরতা চলছে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার।</p>
<p>এই প্রভাবশালী গ্রুপটির গুরুতর অপকর্ম হাতেনাতে ধরা পড়ে সম্প্রতি এলজিইডির (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে। কিন্তু তাতে তাদের অপতৎপরতা মোটেও থামেনি। যেহেতু হাতেনাতে ধরা পড়ার পরও তাদের কারো বিরুদ্ধেই দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরা ইতিমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তদবির বাণিজ্যের দোকানও খুলে বসেছে। সর্বশেষ, শীর্ষকাগজ ও শীর্ষনিউজ ডটকম কর্তৃপক্ষের হাতে এসেছে প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেটের ‘ক্ষমতার দৌড়’ ও ভয়াবহ অপকর্মের একটি জাজ্জ্বল্য প্রমাণ। গত ২৭ মার্চ মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপ এসএমএস-এ আসে তদবিরের এক বিজ্ঞাপন। তাতে মাদক ও অস্ত্র মামলার আসামির থানায় জামিন খালাস, দুদকের আওয়ামী লীগ আমলের নথি দায়মুক্তি, ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ প্রভৃতি কাজের পাশাপাশি খাদ্য সচিব পদে নতুন লোক চাওয়া হয়। ভূমিমন্ত্রীর পিএস পদেও নিয়োগ দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। এসএমএস’র স্ক্রিন শর্ট-এ দেখা যাচ্ছে, এমন বিজ্ঞাপনের জবাবে ঞধঢ়ড় চৎড়শধংয কড়ষশধঃধ নামে কোনো একজন জানতে চেয়েছেন (খাদ্য সচিব পদে নতুন লোক খোঁজার উত্তরে), “খাদ্য সচিবকে কি ওএসডি করা হবে, নাম ফিরোজ সরকার, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তিনি সচিব হয়েছেন। ১৭ ব্যাচের অফিসার।” এর উত্তরে বিজ্ঞাপনদাতা নিশ্চিত করে বললেন, “হ্যাঁ সরিয়ে দেবে অথবা ওএসডি করবে।”</p>
<p>প্রভাবশালী চক্রের ক্ষমতার দৌড় এতটা? এরাই রাষ্ট্রের পরিচালক?<br />
গত ২৭ মার্চ, ২০২৬ কর্তৃপক্ষের হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজে এই স্ক্রিন শর্টটি আসে। সচিবালয়েরই একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছ থেকে স্ক্রিন শর্টটি পাওয়া যায়। দেখা যাচ্ছে, এর এক মাসেরও কম সময়ে খাদ্য সচিব পদে পরিবর্তন হলো। গত ২১ এপ্রিল খাদ্য সচিব ফিরোজ সরকারকে সচিবালয়ের বাইরে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব পদে ডাম্পিং পদায়ন করা হয়। ফিরোজ সরকারের কী অপরাধ, কেন তাকে এভাবে ডাম্পিং পদে বদলি করা হলো, এর হেতু বের করতে পারছেন না খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও। এরা প্রজ্ঞাপন জারির আগ পর্যন্ত ঘুর্ণাক্ষরেও জানতেন না, সচিবকে বদলি করা হচ্ছে। তবে ভেতরে ভেতরে কিছু একটা যে ঘটেছে, এটা বুঝা গেছে বদলির আদেশ জারির পরদিন। যদিও এ বদলিগুলোতে স্ট্যান্ড রিলিজের মতো কোনো ঘটনা ছিল না, তারপরও খাদ্য সচিব ফিরোজ সরকারকে পরদিন অফিস আওয়ারের শুরুতে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে বলা হয়। এবং নতুন খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানাকেও দায়িত্ব বুঝে নিতে বলা হয়। অথচ এ দিন ছিল ধান-চাল সংগ্রহ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভা। নতুন সচিব এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না, তারপরও তাকে দায়িত্ব বুঝে নিয়ে সভা পরিচালনা করতে হলো।</p>
<p>এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বিএনপি বলে চিহ্নিত সচিবালয়ে হাতে গোনা যে তিন/চারজন সচিব আছেন তারমধ্যে র্ফিরোজ সরকার অন্যতম। গত বছরের অক্টোবরে লন্ডন থেকে তারেক রহমানের সুপারিশে অন্তর্বর্তী সরকার জনপ্রশাসন সচিব ড. মোখলেস উর রহমান এবং অতিরিক্ত সচিব (এপিডি) মো. এরফানুল হককে অন্যত্র বদলি করে। এরফানুল হকের পরিবর্তে অতিরিক্ত সচিব (এপিডি) পদে পদায়ন করা হয় তখনকার খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. ফিরোজ সরকারকে। কিন্তু তখন জামায়াতের প্রচণ্ড বিরোধিতার কারণে ফিরোজ সরকার অতিরিক্ত সচিব (এপিডি) পদে যোগ দিতে পারেননি। জামায়াত তখন কৌশলে এই পদটি শূন্য রেখে যুগ্মসচিব মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদীকে (বর্তমানে যিনি প্রধানমন্ত্রীর পিএস পদে আছেন) দিয়ে মাঠ প্রশাসন সাজানোর এজেন্ডা বাস্তাবায়ন করে নেয়।</p>
<p>অনুসন্ধানে জানা গেছে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদে মো. আব্দুল বারী থাকলেও এ মন্ত্রণালয়টি চলছে মূলতঃ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের হাতের ইশারায়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন ইতিপূর্বে মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। গত ২৫ মার্চ তাকে সরিয়ে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় মো. আব্দুল বারীর হাতে, যিনি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী পদেও আছেন। জনপ্রশাসন নিঃসন্দেহেই একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, তার উপর এখন তাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলো।</p>
<p>মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ এ মন্ত্রণালয়ে থাকাকালে তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নানা রকমের অবৈধ তদবির রাখতে পারেননি বা রাখেননি। এ নিয়ে মীর শাহে আলম তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। আর এ কারণেই ‘ক্লিন ইমেজ’র আমিন উর রশীদকে এ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী পরিবর্তনের প্রজ্ঞাপনটি জারি হয় ২৫ মার্চ রাতে। তিন দিন বন্ধের পরে অফিস চালু হয় ২৯ মার্চ। এদিন সকালে মীর শাহে আলমই নিজের গাড়িতে করে আব্দুল বারীকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে নিয়ে আসেন। আব্দুল বারী যতক্ষণ খাদ্য মন্ত্রণালয়ে অফিস করেছেন, মীর শাহে আলম সঙ্গেই ছিলেন। আবার দুপুরের দিকে দুজন একসঙ্গে এক গাড়িতেই বের হয়ে যান। মীর শাহে আলমকে বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে অনেকে ‘সুপার পাওয়ার’ হিসেবেই দেখে থাকেন। মন্ত্রী-সচিব পরিবর্তনসহ তিনি যখন যেটা চাইবেন সেটিই কার্যকর হবে, এটা সবাই জানেন। মোহাম্মদ আমিন উর রশীদের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সহকর্মীরা বলছেন, মন্ত্রী ‘ক্লিন ইমেজ’র আমিন উর রশীদ খাদ্য সচিব হিসেবে ফিরোজ সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। তার ইতিবাচক কাজকর্মে অত্যন্ত সন্তুষ্ট ছিলেন মন্ত্রী। এও বলেছিলেন যে, তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফিরোজ সরকার সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করবেন। কিন্তু সেটি আদৌ সম্ভব হয়েছে কি না জানা যায়নি। তবে বর্তমান প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীও যে সচিবের ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন তা নয়।</p>
<p>স্ক্রিন শর্টের সঙ্গে বাস্তবতা মিলে যাওয়া- ভয়াবহ ঘটনা!<br />
ফিরোজ সরকারকে এ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ যদিও এখন পর্যন্ত জানা যায়নি, তবে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এটা নিশ্চিত যে, এর নেপথ্য একমাত্র কারণ হতে পারে স্থানীয় সরকারের ‘সুপার পাওয়ার’ প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিরাগভাজন হওয়া। কিন্তু এরমধ্যে গুরুতর প্রশ্ন হলো, খাদ্য সচিব ফিরোজ সরকারকে ওএসডি করা হবে অথবা সরিয়ে দেওয়া হবে- এ খবরটা তদবিরের বিজ্ঞাপনে আসলো কীভাবে, তদবিরকারীরা এতোটা আগাম জানলো কীভাবে? একে রাষ্ট্রের জন্য ‘ভয়াবহ ঘটনা’ বলেই উল্লেখ করছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা।</p>
<p>সূত্রমতে, মাঝের এই তদবিরকারীরা মূলতঃ এজেন্ট বা দালাল। এদের সঙ্গে প্রভাবশালী ওই সিন্ডিকেটের সরাসরি যোগসাজশ রয়েছে এবং তাদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন এরা। সিন্ডিকেটের সদস্যরা যেহেতু রাষ্ট্রের হাইপ্রোফাইলের, তারা নিজেরা মাঠ পর্যায় থেকে পার্টি খুঁজে নেওয়া বা দরকষাকষি করা সম্ভব নয়। পার্টির সঙ্গে সরাসরি কথা বলাও তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এসব মধ্যসত্ত্বভোগী ‘এজেন্ট’ নিয়োগ করা হয়েছে। এই মধ্যসত্ত্বভোগীরা বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আকর্ষণীয় পদগুলোর জন্য লোক খোঁজে। এবং বিভিন্ন অবৈধ কাজও ‘সম্পন্ন করে দেওয়ার’ নিশ্চয়তা দেয়। তদবিরের কাজ পাওয়ার সুবিধার্থে হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়। নিরাপত্তা বাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থার হাতে ধরা পড়ার আশংকা নেই তাদের। কারণ, তাদের পেছনে রয়েছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা, যারা রাষ্ট্রকে পরিচালনা করছেন। ধরা পড়ে গেলেও কোনো সমস্যা নেই।<br />
এরমধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, পদগুলো এভাবে নিলামে তোলার ঘটনার সঙ্গে পরবর্তী ঘটনা বা বাস্তবতার পুরোপুরি মিল হয়ে যাচ্ছে। এতে বুঝা যাচ্ছে, রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে যদিও রয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, কিন্তু নানা কৌশলে রাষ্ট্র চালাচ্ছেন অন্যরা। আলোচ্য এই স্ক্রিন শর্ট এবং পরবর্তী ঘটনাই এর জাজ্জ্বল্য প্রমাণ। এসব ঘটনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হয়তো জানেনই না। জানলে বা তিনি বুঝতে পারলে, নিজের বা দলের বা সরকারের জনপ্রিয়তা ক্ষুণ্ন করতে চাইতেন না নিশ্চয়ই। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী পদে আব্দুর রশীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির ঘটনা প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন। এতে বরং প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি বেড়েছেই। কিন্তু অন্য আরো যেসব ভয়াবহ অনিয়মের অসংখ্য ঘটনা ঘটছে এগুলো তার নজরে আসছে না বা আসলেও ভিন্নভাবে আসছে, এমন কথা বলছেন বিশ্লেষকরা।</p>
<p>এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগে ওই দুর্নীতির ঘটনাটিও এভাবে ধরা পড়তো না যদি বিএনপির মহাসচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে চ্যালেঞ্জ না জানাতেন। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, সরকারের বেশিরভাগ মন্ত্রীরই এই প্রভাবশালী চক্রটির সামনে, এমনকি পেছনেও নেতিবাচক কিছু বলার সাহস নেই। কারণ, তাতে তাদের মন্ত্রীত্বের চাকরিই চলে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। আবার কারো কারো নিজেদেরও এতে ব্যক্তিগত স্বার্থ রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, গোটা সরকার এখন এদের বলয়ে আটকা পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি সরকারের শুভাকাক্সক্ষীরা হতাশা ব্যক্ত করছেন। বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যেও এখন এ কথাগুলো চাউর হয়ে গেছে।</p>
<p>এসএমএস’র স্ক্রিন শর্টে যা লেখা ছিল<br />
হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজের স্ক্রিন শর্টে বলা হয়েছে, “মাদক, অস্ত্র মামলা, মার্ডার মামলার আসামির জামিন-খালাস এর কাজ দরকার” “আর দুদকের আওয়ামী লীগের সময়ের ফাইল দরকার” “সুদ মওকুফ এর আলাদা বড় ফাইল হলেও ৮০%-১০০% মওকুফ করা যাবে”।</p>
<p>এরপরে আলাদভাবে লেখা হয়, “খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব নিয়োগ হবে। ভূমি মন্ত্রীর পিএস নিয়োগ হবে।”<br />
এমন বিজ্ঞাপনের জবাবে ঞধঢ়ড় চৎড়শধংয কড়ষশধঃধ নামে কোনো একজন জানতে চেয়েছেন (খাদ্য সচিব পদে নতুন লোক খোঁজার উত্তরে), “খাদ্য সচিবকে কি ওএসডি করা হবে, নাম ফিরোজ সরকার, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তিনি সচিব হয়েছেন। ১৭ ব্যাচের অফিসার।” এর উত্তরে বিজ্ঞাপনদাতা নিশ্চিত করে বললেন, “হ্যাঁ সরিয়ে দেবে অথবা ওএসডি করবে।”</p>
<p>এমন অপকর্মের আমদানিকারক ড. ইউনূস সরকার<br />
শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট ও লুটেরা সরকারের দীর্ঘ অপশাসনের পর ৫ আগস্ট, ২০২৪ এর পরের ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের ওপর দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বি। নোবেল বিজয়ী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভাবমূর্তি প্রভৃতি কারণে মানুষের প্রত্যাশাও ছিল সে রকমেরই। কিন্তু দেখা গেলো, জনপ্রত্যাশা পূরণের কোনো চেষ্টাই তিনি করেননি। বরং নিজের আখের গোছানোর ধান্দা এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষার কাজেই ব্যস্ত ছিলেন। এসব করতে গিয়ে তিনি এমন অপকর্মের প্রচলন করেছেন, যা অতীতের সকল নজিরকে ছাড়িয়ে গেছে। এর বড় নজির হলো, তদবিরের দোকান। হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজে বিজ্ঞাপন দিয়ে তদবিরের কাজ নেওয়ার প্রচলন চালু করেছে ড. ইউনূস সরকারই। খোদ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ই এসব ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল। সরকারি স্ট্যাম্পে লিখিত ঘুষের চুক্তি এবং ‘ব্যাংক চেক’ বিনিময়েরও প্রচলন চালু হয়েছিল এসব কাজে। এ ধরনের ঘুষ লেনদেনের প্রমাণ ফাঁস হওয়ার পরও ড. ইউনূস সরকার বা ড. মোমেন নেতৃত্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন এ ব্যাপারে কোনোই ব্যবস্থা নেয়নি। সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজ এবং শীর্ষনিউজ ডটকমে তখন এ ব্যাপারে দু’জন সচিবের সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। প্রতিবেদন প্রকাশের পর দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন শীর্ষকাগজ সম্পাদককে জানিয়েছিলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তার কাছে নির্দেশনা এসেছে এর ওপর তদন্ত করার জন্য। তিনি ওই দুই সচিবকে তলব করবেন বলেও জানিয়েছিলেন। যা পরে আর হয়নি। এই ‘না হওয়ার’ পেছনেও কাজ করেছে এখনকার সরকারের প্রভাবশালী এক সিনিয়র কর্মকর্তার ‘প্রভাব’, যিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শীর্ষ গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। ওইসব তদবিরের টাকার যে ভাগবাটোয়ারা হতো তাতে এই কর্মকর্তারও একটি অংশ থাকতো। যে কারণে আলোচিত ওই দুই সচিবের কোনো সমস্যা হয়নি বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলেও। একজন ইতিমধ্যে ইন্তেকাল করেছেন। আরেকজন এখনো বহাল-তবিয়তেই রয়েছেন। স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তি এবং বড় অংকের ঘুষের চেক বিনিময়ের তথ্য ফাঁস হয়েছিল এই দুই সচিবের।</p>
<p>‘এরা সরকারকে ডোবাবে’<br />
ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রের ক্ষমতা হাতে পেয়েছেন অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে। তাই রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো পরিকল্পনাও তার হাতে ছিল না। কিন্তু অনেক চড়াই-উৎরাইয়ের পর দীর্ঘ দুই দশক পরে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ফিরে পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবা-মা দু’জনই রাষ্ট্রের সফল কর্ণধার ছিলেন। জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন আকাশচুম্বি। তারেক রহমান বিদেশে থাকলেও দল পরিচালনার মূল দায়িত্বে ছিলেন তিনি। গত ডিসেম্বরে দেশে ফিরেই তিনি বলেছেন, “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান”। অর্থাৎ দেশ পরিচালনায় তাঁর দীর্ঘ একটি পরিকল্পনা আছে। এবং থাকাটাই স্বাভাবিক।</p>
<p>কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এখন পর্যন্ত সরকার মাত্র দুই মাস অতিক্রম করেছে। এই সামান্য সময়ে প্রভাবশালী চক্রটি নতুন সরকারকে একের পর এক বিতর্কের মধ্যে ফেলেছে। বিএনপির শুভাকাক্ষী, এমনকি নেতাকর্মীদেরও অনেকের এ বিষয়ে মন্তব্য হলো- এখনই এদের থামাতে হবে। অন্যথায় এরা সরকারকে ডোবাবে। সরকারের ভাবমূর্তি শূন্যের কোঠায় নিয়ে যেতে এদের বেশি সময় লাগবে না। </p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://skynews24.net/archives/26388/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মাইনুল হাসান ও ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি</title>
		<link>https://skynews24.net/archives/26226</link>
					<comments>https://skynews24.net/archives/26226#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 17 Jan 2026 14:54:16 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<category><![CDATA[প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মাইনুল হাসান ও ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://skynews24.net/?p=26226</guid>

					<description><![CDATA[সওজে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)-এর শীর্ষ পর্যায়ে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সওজের বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মাইনুল হাসান এবং ফেনী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা। নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন গ্রহণ, কোটি কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন, বিদেশে [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>সওজে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ</p>
<p>সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)-এর শীর্ষ পর্যায়ে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সওজের বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মাইনুল হাসান এবং ফেনী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা। নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন গ্রহণ, কোটি কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন, বিদেশে অর্থ পাচার এবং প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। যদিও এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি, তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলোর নজরে বিষয়টি এসেছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।</p>
<p>বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সওজের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা বদলি ও পোস্টিং নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পছন্দের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ জেলায় পদায়ন করা হয় এবং এর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়। অভিযোগ রয়েছে, ফেনী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা এই সিন্ডিকেটেরই একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। কুমিল্লা থেকে ফেনীতে পোস্টিং পেতে তিনি বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি নিজস্ব বলয় তৈরি করে সওজের ফেনী কার্যালয় কার্যত নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন।</p>
<p>স্থানীয় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ফেনীতে সড়ক নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদারি কাজ পেতে হলে নির্বাহী প্রকৌশলীর ঘনিষ্ঠ হতে হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া, নিম্নমানের কাজেও বিল ছাড় এবং অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের মাধ্যমে সরকারি কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ বের করে নেওয়া হয়েছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে সুনীতি চাকমা অল্প সময়ের মধ্যেই অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।</p>
<p>সুনীতি চাকমার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশে তিনি অর্থ পাচার করেছেন এবং সেই অর্থ দিয়ে বাড়ি ও সম্পদ ক্রয় করেছেন। তার সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনা করানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তার আয়-ব্যয়ের সঙ্গে দৃশ্যমান সম্পদের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না, যা বিষয়টিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি, তবে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।</p>
<p>দুর্নীতি দমন কমিশন সুনীতি চাকমার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেলেও, সেই তদন্তের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়াকে ধীরগতির করতে এবং প্রভাবিত করতে বিভিন্ন মহল থেকে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে সময় ক্ষেপণের কৌশল নিচ্ছেন।</p>
<p>এই পুরো ঘটনার সঙ্গে সওজের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মাইনুল হাসানের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুতর আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ রয়েছে, সুনীতি চাকমার উত্থানের পেছনে প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মাইনুল হাসানের প্রত্যক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে। তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়েই সুনীতি চাকমা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।</p>
<p>সৈয়দ মাইনুল হাসান ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি বুয়েটের ছাত্র থাকাকালীন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য হন এবং ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি)-এর ২০২২ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের প্যানেল থেকে নির্বাচন করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সেন্ট্রাল কাউন্সিল মেম্বার নির্বাচিত হন। তার এই রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিচয় তাকে প্রশাসনের ভেতরে একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায় বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।</p>
<p>১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে সৈয়দ মাইনুল হাসান ১৮তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পান। ১৯৯৯ সালের ২৫ জানুয়ারি তিনি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ চাকরি জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৩ সালের ২ জুলাই তিনি সওজের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পান। অভিযোগ রয়েছে, এই পদে থাকার সময় তিনি নিজের অনুগত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ জেলায় পদায়ন করেছেন এবং অনিয়ম-দুর্নীতির একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন।</p>
<p>বিশ্বস্ত সূত্রগুলো বলছে, সুনীতি চাকমার মাধ্যমে উপার্জিত অবৈধ অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচারের পরিকল্পনায় সৈয়দ মাইনুল হাসান অবগত ছিলেন এবং পরোক্ষভাবে এতে সহায়তা করেছেন। যদিও এই অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন, তবে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বিদেশে পাচার বা বেনামে হস্তান্তর করা হতে পারে।</p>
<p>উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অতীতে সওজ ও অন্যান্য দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হলেও সৈয়দ মাইনুল হাসান এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—শীর্ষ পর্যায়ের এই কর্মকর্তারা কি আইনের ঊর্ধ্বে? সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক সময়ে গ্রেফতার ও সম্পদ জব্দ করা না গেলে তদন্ত কার্যক্রম অর্থহীন হয়ে পড়তে পারে।</p>
<p>এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে একাধিকবার প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মাইনুল হাসানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে জানান। কখনো সাক্ষাৎকার দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন, আবার অনেক সময় ফোন রিসিভও করেননি। একইভাবে সুনীতি চাকমার পক্ষ থেকেও অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।</p>
<p>সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলোর দাবি, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও দুর্নীতি হলে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।</p>
<p>এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং জড়িতদের দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভূমিকার দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে দেশবাসী। তদন্তের অগ্রগতি ও নতুন তথ্য জানাতে পাঠকদের সঙ্গে থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।<br />
Tag : </p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://skynews24.net/archives/26226/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুর্নীতির মহানায়ক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম! (পর্ব-১)</title>
		<link>https://skynews24.net/archives/26053</link>
					<comments>https://skynews24.net/archives/26053#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 15 Jan 2026 07:41:20 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<category><![CDATA[গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুর্নীতির মহানায়ক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম! (পর্ব-১)]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://skynews24.net/?p=26053</guid>

					<description><![CDATA[বলা হয়,দেশের অবকাঠামো এবং নির্মান খাতের উন্নয়নের মেরুদণ্ড হচ্ছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। কিন্তু যুগের পর যুগ চলে গেলেও, সরষের ভিতরের ভূত রয়েই গেছে। দুর্নীতি আর গণপূর্ত যেন এক অপরের পরিপূরক। কারন গণপূর্ত অধিদপ্তরে আছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের মত কর্মকর্তারা। কেননা তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার-বদলি বাণিজ্য ও ভুয়া বিল–ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>বলা হয়,দেশের অবকাঠামো এবং নির্মান খাতের উন্নয়নের মেরুদণ্ড হচ্ছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। কিন্তু যুগের পর যুগ চলে গেলেও, সরষের ভিতরের ভূত রয়েই গেছে। দুর্নীতি আর গণপূর্ত যেন এক অপরের পরিপূরক। কারন গণপূর্ত অধিদপ্তরে আছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের মত কর্মকর্তারা। কেননা তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার-বদলি বাণিজ্য ও ভুয়া বিল–ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না হতেই অগ্রীম বিল প্রদান, অস্বাভাবিক এবং বানোয়াট বিজ্ঞাপন ব্যয়, আরবরিকালচারসহ একাধিক বিভাগ থেকে সুপরিকল্পিতভাবে সরকারি অর্থ লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বলা যায় একেবারে অনিয়মে সিদ্ধহস্ত।</p>
<p><strong>অসম্পন্ন কাজের পূর্ণ বিল দিয়ে বিপুল অঙ্কের ‘ওটিএম কেলেঙ্কারি’:</strong></p>
<p>প্রতিবেদকের হাতে আসা নথি ও অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ–২ এর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী এএসএম সানাউল্লাহর মাধ্যমে আওয়ামী পন্থী আই বি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক<br />
মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম তার পছন্দের ঠিকাদারকে ওপেন টেন্ডার মেথডে নিয়ম ভেঙ্গে কয়েকটি কাজ দেন। এসব কাজ এখনো অসমাপ্ত থাকা সত্ত্বেও নিয়মবহির্ভূতভাবেই সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।</p>
<p>অভিযোগে উল্লেখিত কাজগুলোর আইডি:<br />
997828, 997827, 997826, 997825, 995647, 994880, 994647, 994646, 994817, 994818,</p>
<p>অভিযোগনামা ও নথি বলছে, এসব আইডি তদন্ত করলেই কোটি টাকার অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যাবে।</p>
<p>টেন্ডার বাণিজ্যে ‘অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেট’:</p>
<p>তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে গত ১০ বছরে বিপুল অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। তিনি সদ্য সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পরিচালনা করেছেন। যা এখনও বহাল আছে।</p>
<p>সূত্র বলছে, ২০২৪ সালে ২৯ ডিসেম্বর এবং ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি এলটিএম বাদ ২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ওটিএমে দরপত্র আহ্বান করে নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়েছেন তিনি। অনিয়ম হওয়া ওই দরপত্রগুলোর আইডি:</p>
<p>1056148, 1057945, 1056137, 1056138, 1056145, 1057947, 1057196, 1056073, 1057101, 1018075।<br />
<strong><br />
আরবরিকালচার বিভাগে ভুয়া বিল, গাছ বিক্রি, বানোয়াট বিজ্ঞাপন বিল:</strong></p>
<p>মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম তার অনুসারী কর্মকর্তার মাধ্যমে ভুয়া ফুলগাছ রোপণ বিল, বিজ্ঞাপনে অনিয়ম,ভুয়া ভাউচারে অর্থ উত্তোলন করে বিপুল সরকারি অর্থ আত্মসাত করেছেন।</p>
<p>এছাড়া ঢাকার এক বিভাগ হতে অন্য বিভাগে এবং ঢাকার বাহিরে দুর্নীতির দায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে পানিশমেন্ট ট্রান্সফার হওয়া দুর্নীতির বরপূত্র আখ্যা পাওয়া একদল নির্বাহী প্রকৌশলী এই ইঞ্জিনিয়ার মনিরুলের শাগরেদ। এদের সিংহভাগের বদলি হলেও নানা কায়দায় তাদের সহযোগিতায়ই লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।</p>
<p>গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তার বিরুদ্ধে আসা প্রত্যেকটি অভিযোগ সত্য এবং গুরুতর। শুধু তাই নয় যথাযথ তদন্ত হলে সরকারি অর্থ লুটপাটের বড় সিন্ডিকেট উন্মোচিত হতে পারে।</p>
<p>তবে এইসব বিষয়ে মনিরুলকে সশরীরে তার অফিসে কিংবা মুঠোফোনে যোগাযোগ করার একাধিকবার চেষ্টা করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।</p>
<p>(পরবর্তী পর্বে বিস্তারিত)</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://skynews24.net/archives/26053/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>গণপূর্তের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওমর ফারুক দুর্নীতি অনিয়ম করে কোটিপতি</title>
		<link>https://skynews24.net/archives/26042</link>
					<comments>https://skynews24.net/archives/26042#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 13 Jan 2026 13:26:01 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[2ndlead]]></category>
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<category><![CDATA[গণপূর্তের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওমর ফারুক দুর্নীতি অনিয়ম করে কোটিপতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://skynews24.net/?p=26042</guid>

					<description><![CDATA[নানান দূর্নীতি অনিয়মের অভিযোগের পরেও বহাল তবিয়তে আজিমপুর গণপূর্তের উপ বিভাগ-১ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো: ওমর ফারুক খোদ রাজধানীতেই গড়েছেন কোটি টাকার সম্পদ। আজিমপুর গণপূর্তের উপ বিভাগ-১ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো: ওমর ফারুকে’র পশ্চিম ধানমন্ডি এলাকায় বাসা নং- ২৭২, ফ্ল্যাট নং-সি-৫ জাফরাবাদে একটি আলিশান ফ্ল্যাটের সন্ধান পাওয়া গেছে যার বাজার মূল্য কোটি টাকার উপরে। একজন [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>নানান দূর্নীতি অনিয়মের অভিযোগের পরেও বহাল তবিয়তে আজিমপুর গণপূর্তের উপ বিভাগ-১ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো: ওমর ফারুক খোদ রাজধানীতেই গড়েছেন কোটি টাকার সম্পদ।</p>
<p>আজিমপুর গণপূর্তের উপ বিভাগ-১ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো: ওমর ফারুকে’র পশ্চিম ধানমন্ডি এলাকায় বাসা নং- ২৭২, ফ্ল্যাট নং-সি-৫ জাফরাবাদে একটি আলিশান ফ্ল্যাটের সন্ধান পাওয়া গেছে যার বাজার মূল্য কোটি টাকার উপরে।</p>
<p>একজন দশম গ্রেডের কর্মকর্তার জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী যদি ১৬০০০-৩৮৬৪০ টাকা হয় তাহলে কিভাবে তিনি এই আলীশান ফ্ল্যাট কিনলেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। একজন ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তার যদি ধানমন্ডির মতো জায়গায় ফ্লাট কিনতে পারেন তাহলে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা কি করছেন তা এখন ভাবার বিষয়?</p>
<p>মো: ওমর ফারুকে’র আরও একটি রেকর্ড আছে ২০১৮ সাল থেকে ২০২১ সালের জুলাই এর মধ্যে তাকে ৫ বার বদলী করা হয়। পরে শেরেবাংলা নগর থেকে আজিমপুরে বদলীর পর অদ্যাবদি পর্যন্ত আছেন।</p>
<p>এ ব্যাপারে কথা বলতে আজিমপুর গণপূর্তের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওমর ফারুকের অফিসে গেলে তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি।</p>
<p>নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে এক কর্মচারী জানান, স্যার তো তার প্রয়োজন ছাড়া অফিসে আসেননা।</p>
<p>পরে মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।</p>
<p>সুত্র: newsbureauofbangladesh.com</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://skynews24.net/archives/26042/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>হত্যা মামলার আসামি হয়েও দাপটে বহাল: গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব</title>
		<link>https://skynews24.net/archives/26014</link>
					<comments>https://skynews24.net/archives/26014#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 02 Jan 2026 10:41:44 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[2ndlead]]></category>
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<category><![CDATA[হত্যা মামলার আসামি হয়েও দাপটে বহাল: গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://skynews24.net/?p=26014</guid>

					<description><![CDATA[নিজস্ব প্রতিবেদক : সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. আহসান হাবীব—এমন তথ্য উঠে এসেছে একাধিক গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগে দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা দুর্নীতি, অনিয়ম এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন। [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>নিজস্ব প্রতিবেদক : সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. আহসান হাবীব—এমন তথ্য উঠে এসেছে একাধিক গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগে দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা দুর্নীতি, অনিয়ম এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে অর্থ জোগান দেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি একাধিক হত্যা মামলার আসামিও তিনি।</p>
<p>অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগে যোগদানের পর থেকেই প্রকৌশলী আহসান হাবীবের প্রভাব বাড়তে থাকে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অধিকাংশ উন্নয়ন কাজের দরপত্র নিজ পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। এমনকি তার বিরুদ্ধে বিদেশে শতকোটি টাকা পাচারের অভিযোগও রয়েছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় একসময় তার বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের প্রমাণও পেয়েছিল বলে জানা গেছে।</p>
<p>গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আহসান হাবীব আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিভাগে তার নিজস্ব একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। তার বিরুদ্ধে কোনো সংবাদ প্রকাশিত হলে তা দ্রুত ‘ম্যানেজ’ করার ব্যবস্থাও তিনি করে থাকেন।</p>
<p>আরও জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার পক্ষে অর্থ ও রসদ সরবরাহ করেছিলেন আওয়ামী লীগ আমলের এই প্রভাবশালী কর্মকর্তা। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত আহসান হাবীব এখনো বহাল তবিয়তে কর্মস্থলে রয়েছেন। তিনি রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলার আসামি, যার মামলা নম্বর ৮৭৪। ওই মামলায় তিনি ৭০ নম্বর আসামি।</p>
<p>মামলার নথি অনুযায়ী, কে এম শাহরিয়ার শুভ বাদী হয়ে গত ৩১ অক্টোবর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আহসান হাবীবসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করার আবেদন করেন। আদালত পল্টন মডেল থানাকে একই ধরনের আর কোনো মামলা আছে কি না—সে বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন এবং পরে আবেদনটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।</p>
<p>পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, একই ঘটনায় এর আগেও পল্টন মডেল থানায় আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে, যেখানে একই অভিযুক্তদের নাম রয়েছে। ওই মামলাটি ৩০২/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়।</p>
<p>সূত্র জানায়, হত্যা মামলার আসামি হওয়ার পর থেকেই মামলার বাদীর ওপর চাপ সৃষ্টি ও আর্থিক প্রলোভনের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছেন আহসান হাবীব। অভিযোগ রয়েছে, এই মীমাংসা প্রক্রিয়ায় প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর থেকেও ভূমিকা রাখা হচ্ছে।</p>
<p>গণপূর্ত অধিদপ্তরের আরেক কর্মকর্তা বলেন, আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় আহসান হাবীব নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে মনে করেন। ছাত্র-জনতা হত্যার অভিযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত অর্থের জোরে মামলা থেকে নিজের নাম বাদ দিতে সক্ষম হবেন—এমন বিশ্বাস তার রয়েছে।</p>
<p>এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য আহসান হাবীবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://skynews24.net/archives/26014/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>জলবায়ু প্রকল্পে লুটপাটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রাজি নন উপদেষ্টা রিজওয়ানা</title>
		<link>https://skynews24.net/archives/25505</link>
					<comments>https://skynews24.net/archives/25505#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 09 Oct 2025 04:37:52 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[2ndlead]]></category>
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<category><![CDATA[জলবায়ু প্রকল্পে লুটপাটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রাজি নন উপদেষ্টা রিজওয়ানা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://skynews24.net/?p=25505</guid>

					<description><![CDATA[বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বিশ্বের যে কয়েকটি দেশ রয়েছে চরম ঝুঁকিতে, তার মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। অথচ সরকার, দাতা দেশ ও সংস্থা কর্তৃক বরাদ্দ তহবিল নিয়ে বছরের পর বছর ধরে এ খাতে চলছে প্রায় অবাধ লুটপাট, তহবিল তছরুপ, ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি সর্বোপরি স্বেচ্ছাচারিতা। টিআইবিসহ একাধিক সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদন এবং গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে বিভিন্ন সময়ে [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বিশ্বের যে কয়েকটি দেশ রয়েছে চরম ঝুঁকিতে, তার মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। অথচ সরকার, দাতা দেশ ও সংস্থা কর্তৃক বরাদ্দ তহবিল নিয়ে বছরের পর বছর ধরে এ খাতে চলছে প্রায় অবাধ লুটপাট, তহবিল তছরুপ, ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি সর্বোপরি স্বেচ্ছাচারিতা। টিআইবিসহ একাধিক সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদন এবং গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে বিভিন্ন সময়ে বেরিয়ে এসেছে এসব লুটপাটের ভয়াবহ চিত্র। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট ও লুটেরা ড. হাছান মাহমুদ পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে ভয়াবহ রকমের লুটপাট হয় জলবায়ু প্রকল্পের অর্থ। সেই ধারা শেখ হাসিনা সরকারের শেষ দিন পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। টিআইবির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো কোনো জলবায়ু প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৭৭ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ আত্মসাত হয়েছে। এভাবে বিগত সময়ে হাজার কোটি টাকা সরকারি বরাদ্দের অর্থ দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা, এনজিওসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পকেটে ঢুকেছে। টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার জন্য এনজিওগুলোকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এনজিওগুলো এভাবে অগ্রিম ঘুষ দিয়ে বরাদ্দ এনে বাকি প্রায় পুরোটাই আত্মাসাত করেছে অনেক ক্ষেত্রে। এই খাতে বরাদ্দের সিংহভাগই বিদেশ থেকে নেয়া ঋণের অর্থ। যা সাধারণ জনগণের ওপর চাপছে। গবেষণা সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের নাগরিকদের মাথাপিছু জলবায়ু ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৯ দশমিক ৬ মার্কিন ডলার।</p>
<p>ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুতেই পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পড়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের হাতে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আশা করা হয়েছিল, উপদেষ্টা রিজওয়ানা অত্যন্ত সিরিয়াস থাকবেন এ বিষয়ে। জলবায়ু প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে বিগত সময়ে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের একটা সুরাহা হবে। লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে তিনি ব্যবস্থা নেবেন। মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নেয়া হবে। উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে বিগত সময়ে নেয়া প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নকাজ খতিয়ে দেখা হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের ইতিমধ্যে এক বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। এ সরকারের আয়ুস্কালও বলা যায় শেষ পর্যায়ে এখন। কিন্তু সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজ ও শীর্ষনিউজ ডটকমের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছে খোঁজ নিতে গিয়ে অবাক হতে হয়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে সামান্যতম পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। বিশেষ বা উচ্চ পর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে অনুসন্ধান করে লুটপাটকারীদের শাস্তির আওতায় আনাতো দূরের কথা, ইতিপূর্বে টিআইবিসহ বিভিন্ন সংস্থা জলবায়ু খাতের অর্থ লুটপাটের যেসব তথ্য উদঘাটন করেছে সেগুলোর ব্যপারেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে।</p>
<p>সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজ ও শীর্ষনিউজ ডটকমের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ের কাছে এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের তথ্য চাওয়া হয়েছিল। তবে মন্ত্রণালয় কিছুই দেখাতে পারেনি। উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের সঙ্গে মুখোমুখি কথা হয়েছিল। তিনিও এ সংক্রান্ত ন্যূনতম কোনো পদক্ষেপের নজির দেখাতে পারেননি। পরে লিখিতভাবেও জানতে চাওয়া হয়েছিল। এরও জবাব দেননি উপদেষ্টা। মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এসব হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে রাজি নন উপদেষ্টা। জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ দু’একজন কর্মকর্তা এ নিয়ে কথাও বলেছেন। কিন্তু উপদেষ্টার আগ্রহ না থাকায় তারা আর এ বিষয়টি তুলেননি।</p>
<p>জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবিলায় ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময়ে তিনটি তহবিল গঠন করে সরকার। ২০০৫ সালে গঠন করা হয় ‘ন্যাশনাল অ্যাডাপটেশন প্রোগ্রাম অব অ্যাকশন’ (ঘঅচঅ)। এরপর ২০০৯ সালে গৃহীত হয় ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড অ্যাকশন প্ল্যান’ (ইঈঈঝঅচ)। এই পরিকল্পনার ভিত্তিতে ২০১০ সালে গঠিত হয় ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড’ (ইঈঈঞঋ)। একই বছর চালু হয় ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ রেজিলিয়েন্স ফান্ড’ (ইঈঈজঋ) ও পাইলট প্রজেক্ট ফর ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স (চচঈজ)।</p>
<p>বিদেশি অর্থায়ন ছাড়াও সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে প্রতিবছর জলবায়ু খাতে বড় অংকের অর্থ বরাদ্দ দিয়ে আসছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) জলবায়ু, পরিবেশ ও দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো খাতে ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২২৮টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, এসব প্রকল্পে ব্যবহৃত অর্থের উল্লেখযোগ্য অংশ বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে আসবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বরাদ্দ শুধু প্রকৃতি রক্ষার খাতেই সীমিত নয়, এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে টেকসই অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক জলবায়ু প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার প্রশ্ন।</p>
<p>কিন্তু এসব অর্থ অতীতে কী হারে লুটপাট হয়েছে এর কিছুটা চিত্র পাওয়া যায়, টিআইবিসহ বিভিন্ন সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদনে। বাংলাদেশে জলবায়ু প্রকল্পের দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক অপচয় নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং ঝঙঅঝ ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন যৌথভাবে একটি গবেষণা প্রকাশ করে। গবেষণা অনুযায়ী, উপকূলীয় এলাকা বরগুনা, সাতক্ষীরা ও পটুয়াখালীর চারটি প্রকল্পে ১৪ থেকে ৭৭ শতাংশ পর্যন্ত দুর্নীতি হয়েছে। পাশাপাশি, সাতটি প্রশমন প্রকল্পে প্রায় ৫৪.৪ শতাংশ অর্থ অপচয় বা আত্মসাতের ঘটনা ধরা পড়েছে। ৬৮ কোটি টাকার জলবায়ু প্রকল্পে ৩৭ কোটি টাকাই আত্মসাত হয়েছে। এছাড়া এনজিওগুলোকে ক্লাইমেট ট্রাস্ট ফান্ড থেকে অর্থ পেতে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় বাঁধ নির্মাণসহ জলবায়ু অভিযোজন প্রকল্পগুলোতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে টিআইবি। গবেষণা অনুযায়ী, এসব প্রকল্পে ৭৭ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে।</p>
<p>রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী বিবেচনায় অনুমোদন, ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকির এলাকায় প্রকল্প বরাদ্দ, আদৌ কোন নজরদারি না থাকা, অনুমোদিত প্রকল্প পরিবর্তন, নিম্নমানের কাজ, অযথা মেয়াদ বাড়ানো ইত্যাদি তো আছেই। আগামীতে দেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধিসহ তীব্র খরার পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়া ও জলবায়ু বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল এ্যারোনটিকস এ্যান্ড স্পেস এ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নাসা) ও ন্যাশনাল ওসেনিক এ্যান্ড এ্যাটমোসফেরিক এ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নোয়া) ক্লাইমেট ডাটা সেন্টার চলতি বছর সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পূর্বাভাস দিয়েছে। সংস্থা দুটির মতে, উষ্ণমণ্ডলীয় সমুদ্রস্রোত এল নিনোর প্রভাবে এবার দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তাপমাত্রা বাড়বে, যা ৪৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা খরাকবলিত হতে পারে। ফলে পানির অভাবে কৃষি জমি ও জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হতে পারে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাবে। ফলে ধান উৎপাদন হবে ব্যাহত। দেখা দেবে সুপেয় পানির অভাব।</p>
<p>বায়ুদূষণ রোধে ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার তহবিল পাওয়ার পরও বাংলাদেশের বাতাসের গুণগতমান বছরের প্রায় অর্ধেক সময়েই অত্যন্ত দূষিতই থাকছে। এর কারণ কী। এতো বিশাল অর্থ পেয়েও পরিবেশ অধিদপ্তর বায়ুদূষণ রোধে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে কেন? অনেকের মতে, এই অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। বিভিন্ন প্রকল্পের নামে অর্থের অপচয় হচ্ছে, লুটপাট হচ্ছে। এর ফলে বায়ুদূষণ রোধের পরিবর্তে অসাধু কর্মকর্তাদেরই পকেট ভারি হচ্ছে। ঢাকার পরিবেশ ও বায়ুদূষণ রোধে ২০১৭ সালে ৮০২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বাংলাদেশে নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেস) শীর্ষক একটি প্রকল্প’ বাস্তবায়ন হয়। তবে তাতে বায়ুদূষণের কোন উন্নতি হয়নি। এই প্রকল্পের টাকা অন্য খাতে ব্যয় এবং লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে।</p>
<p>বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ইতিপূর্বে এ প্রসঙ্গে এক প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমকে বলেছেন, ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে সরকার আন্তরিক নয়। যেসব কারণে বায়ুদূষণ হচ্ছে তা এখন মোটামুটি চিহ্নিত হয়েছে। কিন্তু সরকারকে এসব বিষয়ে যথাযথ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায় না। এ বিষয়ে আইন করা হলেও তা কার্যকর হয় না। মেয়াদ উত্তীর্ণ বাস দিব্যি বায়ুদূষণ করে ঢাকার রাজপথে চলাচল করছে, দেখার কেউ নেই। অবৈধ ইটভাটা চলছে, বেআইনিভাবে বায়ুদূষণ করে নির্মাণ কাজ চলছে, কিন্তু সরকার এসব বিষয়ে উদাসীন। অথচ বৈশ্বিক তহবিল থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা এসেছে। তারপরও বায়ুদূষণ রোধ না হওয়াতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে এই অর্থ গেল কোথায়। এ অর্থ ভিন্ন খাতে বা ভিন্ন ভাবে খরচ হয়েছে এমনটি ভাবাইতো স্বাভাবিক।</p>
<p>এটি ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসের কথা। অর্থাৎ তাঁর তখন পরিচয় ছিল শুধুমাত্র পরিবেশবিদ, বেলার নির্বাহী। এর প্রায় ৯ মাস পরে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলো পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিবেশ অধিদপ্তর সম্পর্কিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, পরিবেশ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনের দুর্বলতা ও প্রয়োগের ব্যর্থতা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের অনিয়মসহ সুশাসনের সব সূচকে ঘাটতির কারণে পরিবেশ অধিদপ্তরে দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ঘটেছে।</p>
<p>টিআইবির গবেষণায় পাওয়া তথ্য মতে, পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে তদারকির সময় তদারকি কর্মকর্তা ইটিপি, কারখানার পরিবেশ, পানির মান, লাইসেন্সের কাগজপত্র, ল্যাবরেটরি রিপোর্ট, টাকার রশিদ, ছাড়পত্র নবায়ন ও মূল সার্টিফিকেট ইত্যাদি বিষয় সংশ্লিষ্ট কারখানার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সঠিকভাবে তদারকি করেন না। জরিপের আওতাভুক্ত প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিল্পকারখানায় বছরে একবারও পরিবেশ অধিদপ্তরের তদারকি হয়নি।</p>
<p>গবেষণায় উঠে এসেছে, জরিপকৃত শিল্প কারখানার শতকরা ৫১ ভাগ মেয়াদোত্তীর্ণ ছাড়পত্র দিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার শতকরা ৭০ ভাগ তথ্য সংগ্রহের সময় পর্যন্ত নবায়নের জন্য আবেদনই করেনি। অন্যদিকে, দূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের কোনো তালিকা না থাকায় ‘দূষণকারী কর্তৃক ক্ষতিপূরণ প্রদান’ মানদণ্ডের আলোকে জরিমানা, দণ্ড ও বাজেয়াপ্তকরণে ঘাটতি রয়েছে। দূষণকারীদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আদালতে মামলা করার পরিবর্তে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানা নির্ধারণে অধিদপ্তর বেশি আগ্রহী বলে অভিযোগ রয়েছে।</p>
<p>এছাড়া, জরিপের আওতাভুক্ত শতকরা ১৭ ভাগ শিল্প কারখানা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে অনাপত্তিপত্র না পাওয়া সত্ত্বেও পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। আবাসিক এলাকায় শিল্প কারখানা স্থাপন না করার আইনি বিধান থাকলেও বেশিরভাগ শিল্প কারখানাই (৭২ শতাংশ) আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ক্ষেত্রবিশেষে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে এটি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।</p>
<p>জরিপে শতকরা ৫১ ভাগ শিল্প কারখানায় পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। জরিপের আওতাভুক্ত শতকরা ৫৭ ভাগ শিল্পকারখানা বা প্রকল্প কোনো প্রকার পরিবেশ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ছাড়াই পরিবেশগত ছাড়পত্র পেয়েছে।</p>
<p>এ ছাড়া, অধিদপ্তরের ‘নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ’ প্রকল্পের অধীনে অযৌক্তিকভাবে একই কর্মকর্তার ১০ বারসহ ১০ বছরে মোট ২৯৩ জন কর্মকর্তার বিদেশে প্রশিক্ষণের নামে ভ্রমণ বাবদ অর্থ অপচয় করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মীদের একাংশের ক্ষমতা অপব্যবহার করে এবং অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জরিমানার অর্থ মওকুফ করে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।</p>
<p>পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব পরিবেশ অধিদপ্তরের ওপর থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি এক ধরনের বিপরীতমুখী ভূমিকা পালন করছে। অর্থাৎ সর্ষের মধ্যেই ভূতের দেখা মিলছে। অনিয়ম, দুর্নীতি, অদক্ষতা ও সুশাসনের ঘাটতি দূর করতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। দুর্নীতি-অনিয়মের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনা, প্রভাবশালী শিল্প কারখানার মালিকদের প্রভাব থেকে মুক্ত করে পরিবেশ অধিদপ্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে পরিবেশ দূষণ ও এর বিপর্যয় থেকে উত্তরণে ব্যর্থতার পাশাপাশি এ সংক্রান্ত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন সম্ভব হবে না।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://skynews24.net/archives/25505/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
