প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র বাতিল, আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অযোগ্যতার সনদ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গোপন নির্দেশনা উপেক্ষা করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সম্পন্ন হয়েছে ৩৪২ কোটি ৭০ লাখ টাকার দুটি বৃহৎ সরকারি কেনাকাটা। বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ‘ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড’ (ডিইডব্লিউ)- কে সামনে রেখে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতির (ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট) মাধ্যমে এই বিশাল কাজ হাসিল করা হয়েছে। তবে এ সংক্রান্ত কাগজপত্রে দেখা যাচ্ছে, সরকারি কাজের মূল অর্থনৈতিক সুবিধাভোগী নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠানটি নয়, বরং পুরো বিষয়টির পেছনে সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াৎ হোসেন বকুলের ছোট ভাই সরদার তোফাজ্জল হোসেন লিয়াকতের সরাসরি যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সরদার তোফাজ্জল হোসেন লিয়াকতের পরিবারের মালিকানাধীন একটি অজানা ও অভিজ্ঞতাহীন প্রতিষ্ঠান এই বিতর্কিত ক্রয় চুক্তির মূল সুবিধাভোগী।
সরকারি অর্থ লুটপাটের সুবিধার্থে এক্ষেত্রে নৌবাহনীর প্রতিষ্ঠানটি- ডিইডব্লিউ’র নাম ব্যবহার করা হয়েছে শুধুমাত্র। তবে এই প্রতিষ্ঠানটিও আর্থিক সুবিধার একটি অংশ পেয়েছে।
অবশ্য, এই অবৈধ ক্রয় চুক্তির সঙ্গে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফও জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। মালামাল সরবরাহ নেওয়া হয়েছে অত্যন্ত নিম্নমানের।
মালামালের মূল্য ধরা হয়েছে বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি। নথিপত্রে দেখা যাচ্ছে, ৩৪২ কোটি ৭০ লাখ টাকার কাজে মধ্যস্বত্বভোগীদের মুনাফা হয়েছে অন্ততঃ ১০০ কোটি টাকা। এ থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাই বা তার পরিবারের প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে ট্যাক্স-ভ্যাট বাদে প্রায় ৬৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। তবে সরকারের ক্রয়বিধি লঙ্ঘন করে প্রতারণার মাধ্যমে টেন্ডার ছাড়াই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাইয়ের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার বিনিময়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বা এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-সচিবের হিস্যাটা কত, তা অলিখিত।
তিন প্রতিষ্ঠানের অস্বাভাবিক চুক্তি
গত আগস্ট মাসে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং ডিইডব্লিউ-এর মধ্যে ৩২০ কোটি ৭১ লাখ টাকার একটি চুক্তি হয়। এর আওতায় ৪৮,০০০ টাকা দরে ৬৬,৮১৫টি অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেট সরবরাহের কাজ পায় ডিইডব্লিউ। কিন্তু এই চুক্তি স্বাক্ষরের ঠিক পরদিনই, ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান ডিইডব্লিউ, ঢাকাভিত্তিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ‘স্যালস্ট্রা লিমিটেড’ এবং ‘বুরাক ব্রেক লিমিটেড’ নামক একটি অচেনা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬ পৃষ্ঠার একটি গোপন ত্রিপক্ষীয় যৌথ ব্যবসায়িক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
উক্ত চুক্তি অনুযায়ী নৌবাহিনীর পরিচালিত ডিইডব্লিউ কোনো প্রকার মূলধন বিনিয়োগ করবে না, কোনো পরিচালন ব্যয় বহন করবে না এবং ব্যবসার কোনো লাভ-ক্ষতির দায়ভারও নেবে না। কেবল সরকারি চুক্তি এনে দেওয়ার (যাকে নথিতে ‘গুডউইল’ বা সুনাম হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে) বিনিময়ে তারা নিশ্চিতভাবে পাবে মোট চুক্তিমূল্যের ৪ শতাংশ বা প্রায় ১২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। মোবাইল ফোন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান স্যালস্ট্রা লিমিটেড অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেট আমদানি ও সরবরাহ বাবদ পাবে ১৭৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা। সমস্ত কর, নির্দিষ্ট পেমেন্ট এবং ব্যাংক চার্জ কাটার পর অবশিষ্ট সমস্ত মুনাফা জমা হবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাইয়ের প্রতিষ্ঠান ‘বুরাক ব্রেক লিমিটেড’-এর দুটি পৃথক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। ২০ শতাংশ আনুমানিক কর হিসাব করে দেখা গেছে, বুরাক ব্রেক পাবে প্রায় ৬৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা- যা নৌবাহিনীর লভ্যাংশের প্রায় পাঁচ গুণ।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বুরাক ব্রেক লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর নিবন্ধিত হয়। এর ঠিকানা: অ্যাপার্টমেন্ট সি-২, বাড়ি ১-এ, রোড ৭৯, গুলশান-২, ঢাকা। নিবন্ধনের সময় এর প্রতিষ্ঠাতা দুই পরিচালক সরদার রাফিন এস এ হোসেন-এর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর এবং তাঁর বড় বোন অনিকা রাইদা লিয়ার বয়স ছিল ২৩ বছর। এই দুই ভাই-বোন নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাবো) আসনের চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের ভাতিজা ও ভাতিজি। তাদের বাবা সরদার তোফাজ্জল হোসেন লিয়াকত নরসিংদী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছোট ভাই।
আইটি বা ট্যাবলেট সরবরাহের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা, নিজস্ব ওয়েবসাইট বা পূর্বের কাজের রেকর্ড না থাকা সত্ত্বেও কেবল রাজনৈতিক প্রভাবে এত বড় আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আমলা ও রাজনীতিবিদের গোপন মিটিং
চুক্তি ও ক্রয়নথিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বকুল বা তাঁর ভাই লিয়াকতের নাম সরাসরি না থাকলেও, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ক্রয় প্রক্রিয়া চলাকালীন লিয়াকতের সরাসরি উপস্থিতির ছবি সামনে এসেছে। সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ এবং নৌবাহিনীর ডিজিটাল ক্যামোফ্লাজ পোশাক পরা কর্মকর্তাদের সঙ্গে লিয়াকতকে একই টেবিলে বসে আলোচনা করতে দেখা গেছে। লিয়াকত ক্রয়চুক্তিতে তাঁর সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও সরকারি দপ্তরে তাঁর উপস্থিতি নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বকুলও এই প্রক্রিয়ায় নিজের কোনো প্রত্যক্ষ প্রভাব বা সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। এদিকে চুক্তি সম্পাদনের আগে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গেও তার দপ্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাই লিয়াকতকে বৈঠক করতে দেখা গেছে। এ সংক্রান্ত ছবিও সামনে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা লঙ্ঘন
২০২৬ সালের ২৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ থেকে ৪০টিরও বেশি মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থায় একটি গোপন চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, সশস্ত্র বাহিনী বা সামরিক বাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি কেনাকাটায় যুক্ত করতে হলে অবশ্যই আগে থেকে প্রধানমন্ত্রীর পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে। সমাজকল্যাণ সচিব এবং নৌবাহিনী প্রধানকে পাঠানো এই স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘স্ট্রেংদেনিং সোশ্যাল প্রোটেকশন ফর ইমপ্রুভড রেজিলিয়েন্স, ইনক্লুশন অ্যান্ড টার্গেটিং (SPIRIT)’ প্রকল্পের ৩২০.৭১ কোটি টাকার ট্যাবলেট চুক্তি এবং প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের ২১.৯৯ কোটি টাকার হুইলচেয়ার চুক্তির কোনোটিতেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পূর্বানুমোদনের নথিপত্র পাওয়া যায়নি।
বাজারমূল্যের তূলনায় আকাশপাতাল ব্যবধান
সরকার প্রতিটি এক্সট্রা এক্সটি ওয়ান (Xtra XT1) ট্যাবলেটের (কীবোর্ড ও স্টাইলাসসহ) দর নির্ধারণ করেছে ৪৮,০০০ টাকা। অথচ যৌথ চুক্তিতে দেখা যায় স্যালস্ট্রা এই ট্যাবলেট সরবরাহ করছে মাত্র ২৬,৮২৮ টাকায়। অন্যদিকে বাজারে সমমানের স্যামসাং গ্যালাক্সি ট্যাব G9+ (Samsung Galaxy Tab A9+) কীবোর্ডসহ দর ৩৪,০০০ টাকা এবং লেনোভো ট্যাব Gg11 (Lenovo Tab M11) ২৬,৫০০ টাকা। এতে অতিরিক্ত ব্যয়ের ব্যবধান দাঁড়ায় প্রায় ৯৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকায় খুচরা বাজারে সাধারণ প্রাপ্তবয়স্কদের একটি ফোল্ডিং হুইলচেয়ার ৬,৫০০ থেকে ৭,৫০০ টাকায় কেনা সম্ভব। অন্যদিকে চীনের বিভিন্ন কারখানা থেকে ১০টির বেশি ফোল্ডিং হুইলচেয়ার অর্ডার দিলে প্রতিটির দাম পড়ে ৩,৫০০ থেকে ৪,৩০০ টাকা। অথচ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের মাধ্যমে মোট ২৬ হাজার হুইলচেয়ার (যার মধ্যে ২১ হাজার প্রাপ্তবয়স্কদের) সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতিটির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৮,১৭৫ টাকা।
২,০০০টি পা-চালিত সেলাই মেশিন কেনা হয়েছে প্রতি পিস ১৪,৫০০ টাকায়, যার গতির বর্ণনায় প্রতি মিনিটে ২০০০-৩০০০ সেলাই দাবি করা হলেও মূল মডেল সিঙ্গার ১৫সিএইচ১-এর গতি সর্বোচ্চ ১,০০০। গত ২৪ মার্চ আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনের নির্দেশনা পাশ কাটিয়ে কাজটি প্রক্রিয়া করা হয় অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে। ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড ৪ জুন অফার জমা দেয় এবং মাত্র ছয় দিনের মাথায়, অর্থাৎ ১০ জুন তারা হুইলচেয়ার ও সেলাই মেশিন সরবরাহের কার্যাদেশ পেয়ে যায়।
কোয়ালিটি টেস্টে ফেল, তবুও আমদানি
আন্তর্জাতিক মান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান এসজিএস (SGS) সেপ্টেম্বর মাসের ২১ ও ২২ তারিখে ১,৫৪৮টি হুইলচেয়ারের চালান থেকে দৈবচয়ন বা র্যান্ডম ভিত্তিতে ১২৫টি হুইলচেয়ার পরীক্ষা করে। পরীক্ষা শেষে দেওয়া প্রতিবেদনে তারা জানায়, ১২৫টির মধ্যে ৩০টিতেই রয়েছে মারাত্মক ত্রুটি- যেমন অনিরাপদ চাকা ও অনিরাপদ ব্রেক। এছাড়া পরিদর্শনের সময় ৬৮% হুইলচেয়ারের বসার আসন ও ব্যাকরেস্টে লোহার তারের উন্মুক্ত অংশ পাওয়া যায়। উন্মুক্ত লোহার তার এবং সিটের ধারে ধারালো ও বিপজ্জনক মেটাল এজ ছিল, যা প্রতিবন্ধী ব্যবহারকারীদের জখম করতে পারে। চাকার মান পরীক্ষা করতে কারখানা কর্তৃপক্ষ বাধা দেয় এবং ডিইডব্লিউ পণ্যের স্পেসিফিকেশন পরিদর্শককে সরবরাহ করেনি। উল্লেখ্য, নিয়ম অনুযায়ী এই ১২৫টির মধ্যে ৭টির বেশি ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া গেলে চালান বাতিল করার কথা।
এসজিএস কর্মকর্তা তাঁর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, স্যাম্পলের সব হুইলচেয়ারে উন্মুক্ত মেটাল এজ ছিল। ডকইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ চাকার মান পরীক্ষা করতে দেয়নি, এমনকি মূল্যায়নের জন্য কোনো ‘প্রোডাক্ট স্পেসিফিকেশন’ বা বিবরণও জমা দেয়নি। ফলে ১,৫৪৮টি হুইলচেয়ারের ওই চালানটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘Not-Conform’ বা মানদণ্ডবহির্ভূত হিসেবে চিহ্নিত করে এসজিএস। পরবর্তীতে ইমেইলের মাধ্যমে এই রিপোর্টের সত্যতা নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি। এসজিএসের ছাড়পত্র না থাকা সত্ত্বেও এই ত্রুটিপূর্ণ হুইলচেয়ারের একটি চালান ইতোমধ্যে বাংলাদেশে এনে শাহীনবাগে নৌবাহিনীর একটি ভবনের নিচে রাখা হয়েছে।
ভুয়া আইনি ধারা, তড়িঘড়ি প্রক্রিয়া এবং রহস্যজনক ব্যাংক গ্যারান্টি
গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে চুক্তিতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস ২০০৮’-এর ৫৪ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে, অথচ ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস ২০২৫ কার্যকর হওয়ায় ২০০৮ সালের বিধিমালা ইতিমধ্যে বাতিল হয়ে গিয়েছিল। অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে, এসব কেনাকাটার জন্য গত ১০ আগস্ট সকাল ১১টায় মূল্যায়ন কমিটি গঠিত হয় এবং একদিনের মধ্যেই একক উৎস থেকে দরপ্রস্তাব খোলা, মূল্যায়ন এবং ৪৯,০০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৪৮,০০০ টাকা নির্ধারণ করে চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়। প্রস্তাবিত দরের চেয়ে ১,০০০ টাকা কমানোর বিষয়টি ছিল আদতে আইওয়াশ।
জানা গেছে, সরকারি টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস) ৯ জুলাই সরাসরি ট্যাবলেট সরবরাহের প্রস্তাব দিলেও তা বাতিল করে ডিইডব্লিউ এবং তাদের অনভিজ্ঞ বেসরকারি অংশীদারকে সুযোগ দেওয়া হয়। এদিকে সরকারি চুক্তিতে ডিইডব্লিউ সরবরাহকারী হলেও চুক্তি স্বাক্ষরের ৪ দিন আগে (১৯ আগস্ট) স্যালস্ট্রার অনুরোধে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ৩২.৭ কোটি টাকার পারফরম্যান্স গ্যারান্টি দেয়। হুইলচেয়ার চুক্তিতেও বাংলামার্ক লিমিটেড নামক একটি বেসরকারি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নৌবাহিনীর পক্ষ হয়ে ২.২ কোটি টাকার গ্যারান্টি দেয়- যা মূলতঃ সরকারি নিয়মকানুনের মধ্যে পড়ে না। নতুন প্রকিউরমেন্ট নীতি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত মালিকের (Beneficial Ownership) নাম প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক হলেও ডিইডব্লিউ সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ছাড় পাওয়ায় বুরাক ব্রেকের দুই মালিকের নাম সরকারি নথি থেকে পুরোপুরি আড়াল রাখা হয়।
রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার তহবিল ও সামাজিক কল্যাণ প্রকল্পের অর্থ লোপাটের এই ঘটনায় নৌবাহিনীর মতো সুশৃঙ্খল বাহিনীর যুক্ত হওয়া এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দরপত্র ছাড়াই স্বজনদের ব্যবসায়িক সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি এখন তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে শাহীনবাগের বেসমেন্টে প্রস্তুত রাখা হয়েছে হুইলচেয়ার। অন্যদিকে, ৬৬,৮১৫টি ট্যাবলেটের মধ্যে মাত্র ৯,০০০টি ট্যাবলেট সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতি ট্যাবলেটে সিম কার্টিজ, জিও-ট্যাগিং, গ্রামীণফোনের স্টিকার এবং প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার লোড করতে প্রায় ২২ মিনিট সময় লাগায় সরবরাহ বিলম্বের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে ডিইডব্লিউ।
টাকা লেনদেনের বিশাল এই নথিপত্র এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত এসপিআইআরআইটি (SPIRIT) প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বজনপ্রীতি, দরপত্রহীন কেনাকাটা এবং বিপুল অর্থ তছরুপের এই গুরুতর অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়ার উচিত বলে মনে করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।