কথা ছিল, উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে না পারা, উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াবে, সরকারের প্রাণী সম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প-এলডিডিপি। অথচ এ প্রকল্পের ম্যাচিং গ্র্যান্টের আওতায় অনুদান পেয়েছে, বিভিন্ন কাগুজে প্রতিষ্ঠান। রয়েছেন, প্রভাবশালী চার শিল্প প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্তা এবং এক এনজিও।
তারা হলেন- ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত ফজলে হাসান আবেদের বড় মেয়ে তামারা হাসান আবেদ, প্রাণ গ্রুপের এমডি ইলিয়াস মৃধা, আখতার গ্রুপের এমডি এম আখতারুজ্জামান, আকিজ ভেঞ্চার গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ শামীম উদ্দিন এবং বগুড়ার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (টিএমএসএস)।
প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে সরকারের প্রকল্প (এলডিডিপি)। এতে উদ্যোক্তাদের নিজ পায়ে দাড়াতে দেয়া হয়, অনুদান। যা নিতে সব শর্ত পূরণ করে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম হন, নেত্রকোণার কেনদুয়ার শেখ সাদাফ ইসলাম। তার অনুদান পাওয়ার কথা ছিল ২ কোটি ৬২ লাখ টাকা।
প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প এলডিডিপির আওতায় ৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, ম্যাচিং গ্র্যান্টে। যাতে আধুনিক কারখানা স্থাপনে প্রকল্প থেকে অনুদান দেয়া হবে, অর্ধেক টাকা। বাকিটা বিনিয়োগ করবেন উদ্যোক্তা নিজেই। এ অনুদানের লক্ষ্য ছিল অর্থাভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে না পারা উদ্যোক্তাদের পাশে দাড়াবে প্রকল্প।
কিন্তু এ প্রকল্পের অনুদান পেয়েছেন, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও শিল্প প্রতিষ্ঠান।
ম্যাচিং গ্র্যান্টের আওতায় ডেইরি হাব ও গ্রামভিত্তিক দুধ সংগ্রহ কেন্দ্রের জন্য ২ কোটি ৬২ লাখ টাকা করে অনুদান পেয়েছেন, ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত ফজলে হাসান আবেদের বড় মেয়ে তামারা হাসান আবেদ, প্রাণ গ্রুপের এমডি ইলিয়াস মৃধা, আখতার গ্রুপের এমডি এম আখতারুজ্জামান, আকিজ ভেঞ্চার গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ শামীম উদ্দিন এবং বগুড়ার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (টিএমএসএস। কিন্তু কিভাবে তারা এ অনুদান পেলেন সেই বিষয়ে জানতে তাদেরকে ইমেইল করা হলেও, কোনো উত্তর মেলেনি।
অনুদানের তালিকা ধরে ১০টি জেলায় অনুসন্ধান করা হয়েছে। সেখানেও মিলেছে ব্যাপক অনিয়ম। যেমন, গাজীপুরের কালীগঞ্জে শনপাপড়ি মিঠাই ঘর নামে এক প্রতিষ্ঠান পেয়েছিল ১২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা অনুদান। কিন্তু, ওই নামে এবং ঠিকানায় কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই। নথি বলছে, অস্তিত্বহীন ওই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার কান্তা নামের এক নারী। যিনি তৎকালীন কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ইউসুফ হাবিবের স্ত্রী।
কান্তার ব্যাংক হিসাবের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ে অনুদানের ৯ লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন সেই প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ইউসুফ হাবিব। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
পাশের উপজেলা কাপাসিয়ার জুহি লাবিব ডেইরিতেও পেয়েছিল অনুদান। সেখানেও একই অবস্থা। তবে, মালিক জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, রাজনৈতিক হামলার কারণে কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন। কিন্তু, যন্ত্রপাতি-সরঞ্জাম দেখাতে পারেননি তিনি।
অনুদান নিয়ে এই নয়-ছয় হয়েছে প্রকল্পে বিভিন্ন সময়ে আসা পরিচালক-উপপরিচালকদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে। যাতে রয়েছেন, এলডিডিপি প্রকল্পের উপপরিচালক ডা. হিরন্ময় বিশ্বাস।
প্রকল্পটির পরিচালক ছিলেন আব্দুর রহিম ও ডা. মো. জসিম উদ্দিন। উপপরিচালক শাহ আলম বিশ্বাস ও হারুন অর রশিদ। প্রকল্পের চিফ টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর গোলাম রাব্বানী ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। শাহ আলম বিশ্বাস এখন মিরপুর কেন্দ্রীয় মুরগি খামারের উপপরিচালক। ক্যামেরার সামনে কথা বলতে চাননি তিনি।
প্রাণিসম্পদ প্রকল্পের বর্তমান পরিচালক ড. মো. মোস্তফা কামালকে বিভিন্ন সময়ে ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি তিনি। দেখা করেননি নিজ অফিসেও।
অনুদানের আশ্বাসে তিন কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন, নেত্রকোণার কেনদুয়া শেখ সাদাফ ইসলাম। প্রতিশ্রুতির অনুদান না পেয়ে এখন পথে বসার উপক্রম তরুণ উদ্যোক্তার।
শেখ সাদাফের মতো প্রকৃত উদ্যোক্তারা যখন বিনিয়োগ করেও অনুদানের টাকা পান না, তখন প্রশ্ন ওঠে, বিশ্বব্যাংকের ঋণে এমন প্রকল্প আসলে নেয় হয়, কাদের জন্য?