শিরোনাম
নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠানের আড়ালে ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাই’ যেভাবে টেন্ডার ছাড়াই সমাজকল্যাণের ৩৪২ কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিলেন ঢাকার দুই জায়গায় গদি-ঘাট- আড়তে পাপেল চক্রের চাঁদাবাজি, মাসে আদায় হয় ‘কোটি টাকার’ বেশি ময়মনসিংহে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৭ যাত্রী নিহত আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শুল্কমুক্ত মদ ‘অবৈধ গুদামে’, সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ৪ গুদাম সিলগালা ডেনমার্ককে গোলবন্যায় ভাসাল পর্তুগাল নিষেধাজ্ঞার কবলে পুলিশের আকাশযান কেনার প্রকল্প মদিনায় বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা ইরান ঘিরে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, মোতায়েন করছে ৩ রণতরী স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবার এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

আসামে চরম দুর্দশায় উচ্ছেদের শিকার হাজারো বাঙালি মুসলিম

স্কাই নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভারতের আসামের ধুবড়ি জেলায় আদানি পাওয়ারের ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য প্রায় ১ হাজার ৪০০ পরিবারের বসতবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত বছরের উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ১০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। সম্প্রতি ওই জমিতে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

প্রকল্পটি ধুবড়ির চাঁপার রেভিনিউ সার্কেলের চারুয়াবখরা, চিরাকুটা-১ ও ২ এবং সন্তোষপুর এলাকায় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারি নথি অনুযায়ী, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ৪টি ৮০০ মেগাওয়াট ইউনিটের সমন্বয়ে ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কয়লাভিত্তিক আল্ট্রা সুপারক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎকেন্দ্র।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে এসব এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ পরিবারকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৩ হাজার ৫০০ বিঘা সরকারি খাসজমিতে ১ হাজার ৭০০টির মতো স্থাপনা ছিল এবং সেখানে বসবাসকারী পরিবারগুলোর অধিকাংশই বাংলাভাষী মুসলিম।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, তাঁদের অনেক পরিবার কয়েক দশক ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছিল।

তাঁদের কেউ কেউ ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে পূর্বের বসতভিটা হারিয়ে সেখানে এসে ঘরবাড়ি গড়েছিলেন। উচ্ছেদের ফলে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু সরকারি খাসজমিই নয়, পট্টা বা মালিকানার নথি থাকা কিছু জমিও প্রকল্পের আওতায় নেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও অনেক জমির মালিক ক্ষতিপূরণ পাননি।

উচ্ছেদের আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাইজার আলগা এলাকায় পুনর্বাসনের জন্য প্রায় ৩০০ বিঘা জমি এবং ভূমিহীন পরিবারগুলোকে এককালীন ৫০ হাজার রুপি দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের একটি অংশ প্রস্তাবিত পুনর্বাসন এলাকার অবস্থান নিয়ে আপত্তি জানায়।

প্রকল্পটির পরিবেশগত অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, পরিবেশগত ছাড়পত্রের আবেদনে প্রকল্প এলাকায় জনবসতি নেই এবং পুনর্বাসনের প্রয়োজন হবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ তাঁদের দাবি, প্রকল্পের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের বসবাস ছিল। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই দাবির পাশাপাশি প্রকল্পের জন্য উচ্ছেদের বিষয়টিও উঠে এসেছে।

জেলা প্রশাসনের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চে বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য গবাদিপশুর চারণভূমি হিসেবে ব্যবহৃত সরকারি জমির শ্রেণি পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে উচ্ছেদ নোটিশ জারি করে ওই এলাকার বসতবাড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়।

উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দা আব্দুর রশিদ শেখের অভিযোগ, প্রায় ১ হাজার ৪০০ পরিবার যথাযথ পুনর্বাসন ছাড়াই দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। তাঁর দাবি, খাসজমির পাশাপাশি পট্টা থাকা জমির মালিকদের একটি বড় অংশও এখনো ক্ষতিপূরণ পাননি।

অন্যদিকে, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রকল্পটিকে রাজ্যের অন্যতম বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আদানি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির নির্মাণপর্বে প্রায় ২০ হাজার এবং চালু হওয়ার পর আরও প্রায় ৫ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সরকারি জমি ব্যবস্থাপনা, উচ্ছেদ, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি পরিবেশগত অনুমোদনের প্রক্রিয়া নিয়েও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ রয়েছে। ফলে বড় এই বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে ভূমি ও পুনর্বাসন ইস্যুটিও আলোচনায় এসেছে।

এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2021 Skynews24.net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com