ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকেও শ্রীলঙ্কাকে কোনো সুযোগ দিল না ইংল্যান্ড। মাত্র ৯.৪ ওভারে ১২৫ রান তাড়া করে ৮ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ সম্পন্ন করেছে স্বাগতিকরা।
শ্রীলঙ্কা প্রথমে ব্যাট করে ১৮.৫ ওভারে মাত্র ১২৪ রানে অলআউট হয়। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন পাথুম নিশাঙ্কা, আর কামিন্দু মেন্ডিস করেন ৩৫। ইংল্যান্ডের হয়ে সনি বেকার ২টি উইকেট নেন ১৭ রানে, জোফরা আর্চার আর উইল জ্যাকসও ২টি করে উইকেট নেন। চার ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে একটি উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে কৃপণ ছিলেন জেমি ওভারটন।
জবাবে ইংল্যান্ডের শুরুটা অবশ্য খুব একটা স্বস্তির ছিল না। ১৩ রানে আউট হন ওপেনার অ্যানিউরিন ডোনাল্ড। তবে এরপর অধিনায়ক হ্যারি ব্রুককে সঙ্গে নিয়ে ম্যাচটিকে একতরফা করে দেন জস বাটলার। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনের ৮৫ রানের জুটি ইংল্যান্ডকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে যায়।
ব্রুক ২১ বলে ৩৩ রান করে রানআউট হলেও বাটলার অপরাজিত থাকেন ৩২ বলে ৬২ রানে। চারটি ছক্কা ও একাধিক বাউন্ডারিতে সাজানো ইনিংসটি শেষ করেন ছক্কা হাঁকিয়ে। শেষ পর্যন্ত ৯.৪ ওভারে ১২৬-২ রান তুলে নেয় ইংল্যান্ড; অবশিষ্ট ছিল ৬২ বল। এটি ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে বলের হিসেবে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়।
ইংল্যান্ডের সাবেক ও বর্তমান অধিনায়ক বাটলার ও ব্রুক দুজনই দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। এই ম্যাচেও তাদের ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কার বোলারদের কোনো কার্যকর প্রতিরোধ দেখা যায়নি। শ্রীলঙ্কার ফিল্ডিংও ছিল হতাশাজনক। ১৭টি ওয়াইড দিয়ে তারা অতিরিক্ত রান বিলিয়েছে। এমনকি মাদুশাঙ্কার বলে ব্রুকের সহজ ক্যাচও উইকেটকিপার কামিল মিশারা ও পয়েন্টে থাকা নিশাঙ্কার ভুল বোঝাবুঝিতে মাটিতে পড়ে যায়।
এই জয়ের ফলে ব্রুকের নেতৃত্বে ২০২৪ সালের গ্রীষ্ম থেকে ইংল্যান্ডের ২৬ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয় দাঁড়াল ২৩টি। শ্রীলঙ্কাকে ৩-০ ব্যবধানে হারানোর পাশাপাশি ভারতকে পেছনে ফেলে ইংল্যান্ড আবারও টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর অবস্থান ফিরে পেয়েছে।
নতুন টেস্ট কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের উপস্থিতিতে পাওয়া এই জয় ইংল্যান্ডের সাদা বলের ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে। তবে টি-টোয়েন্টির পর এবার তাদের নজর ৫০ ওভারের ক্রিকেটে। মঙ্গলবার ডারহামে শুরু হবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ।