ইউক্রেনে রুশ সেনাদের যৌন সহিংসতার ‘ভয়াবহ ধারা’

স্কাই নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইউক্রেনে রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার এক ‘ভয়াবহ ধারা’ দেখা গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। শুক্রবার প্রকাশিত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ হামলা শুরুর পর থেকে যৌন সহিংসতার ১ হাজারের বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেছেন, এসব ঘটনায় ৪ বছর বয়সী শিশু থেকে ৮২ বছর বয়সী মানুষও ভুক্তভোগী হয়েছেন। এসব ঘটনা নির্যাতন, ভয় দেখানো ও জোরজবরদস্তির একটি ‘ভয়াবহ ধারা’ তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ের ১ হাজার ৪টি ঘটনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। শত শত ভুক্তভোগীর গোপন সাক্ষাৎকার, আদালতের নথি ও সরকারি রেকর্ডের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর ৮৯ শতাংশের জন্য রুশ সেনাদের দায়ী করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ইউক্রেনীয় যুদ্ধবন্দি ও আটক চিকিৎসাকর্মীদের ওপর গণধর্ষণ, যৌনাঙ্গে আঘাত এবং নানা ধরনের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্যাতনের একটি বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি ছিল ‘টাপিক’ নামে পরিচিত সোভিয়েত আমলের সামরিক টেলিফোন ব্যবহার করে যৌনাঙ্গে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া। অন্তত ১৫৫টি ঘটনায় এই পদ্ধতি ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের বর্ণনা অনুযায়ী, কিছু যুদ্ধবন্দিকে লাঠি, দরজার চাবি ও বেলচার হাতলের মতো বস্তু দিয়ে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে কয়েকজন নারীর ওপর নির্যাতনের ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। জাপোরিঝঝিয়ায় এক নারীকে এক রুশ সেনা এক মাস ধরে সপ্তাহে কয়েকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সেনা তার আটক স্বামীর সঙ্গে ভালো আচরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

খেরসনে এক নারীকে প্রতি রাতে যৌন নির্যাতন করা এবং গণধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিয়েভ অঞ্চলে ২০২২ সালে দুই রুশ সেনা একটি বাড়িতে ঢুকে এক নারীর স্বামীকে গুলি করে হত্যা করার পর তাকে গণধর্ষণ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সময় তার চার বছর বয়সী সন্তানও সেখানে ছিল।

ভলকার তুর্ক বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ সামরিক হামলার একটি গুরুতর বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে যৌন সহিংসতা। তিনি এসব ঘটনা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর বড় অংশ রুশ বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় রাশিয়াকে বেসামরিক মানুষ ও যুদ্ধবন্দিদের নির্যাতন থেকে সুরক্ষায় দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তবে প্রতিবেদনে ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধেও যৌন সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। মোট ঘটনার ১১ শতাংশ ইউক্রেনীয় বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর প্রায় অর্ধেক ঘটনায় রুশ ও তৃতীয় দেশের যুদ্ধবন্দিদের যৌন নির্যাতনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বাকি ঘটনাগুলোর মধ্যে জোর করে নগ্ন করা, বৈদ্যুতিক শক, যৌনাঙ্গে আঘাত ও যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

চলতি বছরের মে মাসে রাশিয়াকে সংঘাতের সময় যৌন সহিংসতার জন্য বিশ্বাসযোগ্যভাবে অভিযুক্ত দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত করে জাতিসংঘ। রাশিয়া অবশ্য জাতিসংঘের এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

জাতিসংঘের ইউক্রেনবিষয়ক স্বাধীন তদন্ত কমিশনও এর আগে অধিকৃত ইউক্রেনীয় অঞ্চলে এবং রাশিয়ার ভেতরে ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিক ও যুদ্ধবন্দিদের ওপর রুশ কর্তৃপক্ষের ব্যাপক নির্যাতনের তথ্য নথিভুক্ত করেছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনে পরিকল্পিত যৌন সহিংসতা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত। ২০০২ সালে কার্যকর হওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধিতেও ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সূত্র: ইউরোনিউজ

এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2021 Skynews24.net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com