শিরোনাম
নাজরান ফিশারীজ এন্ড এগ্রো প্রজেক্টে ৪০০ কোটি টাকার প্রতারণা: চক্রের এক সদস্য গ্রেফতার এরা সরকারকে ডোবাবে’ রাষ্ট্র পরিচালকদের তদবিরের দোকান! এমবাপে-ভিনিসিয়ুসের নৈপুণ্যে মোনাকোর জালে রিয়ালের ৬ গোল চানখারপুলে ৬ জনকে হত্যার রায় পেছানো হয়েছে, পরবর্তী তারিখ ২৬ জানুয়ারি গাজায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ভয়াবহ ভাইরাস, নজিরবিহীন স্বাস্থ্য বিপর্যয় দক্ষিণ আফ্রিকায় স্কুলবাস-ট্রাক সংঘর্ষ, ১৩ শিশু নিহত পবিত্র শবেবরাত ৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত: ৩ জন জিম্মি ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট: প্রধান উপদেষ্টা শুধু মিছিল-মিটিং নয়, রাজনীতি করতে হবে মানুষের কল্যাণে: তারেক রহমান

নাজরান ফিশারীজ এন্ড এগ্রো প্রজেক্টে ৪০০ কোটি টাকার প্রতারণা: চক্রের এক সদস্য গ্রেফতার

স্কাই নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

নাজরান ফিশারীজ এন্ড এগ্রো প্রজেক্ট” নামে একটি ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. ওবায়েদুল্লাহ (৩৩)। তাকে রাজধানীর সবুজবাগ থানাধীন বাসাবো এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ভোলা জেলার শশীভোষণ থানার জাহানপুর গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, “নাজরান ফিশারীজ এন্ড এগ্রো প্রজেক্ট” নামে একটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে আসছিল। বিনিয়োগকারীদের বলা হতো, ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা লাভসহ ৩৩ মাসে মূলধন দ্বিগুণ করে দেওয়া হবে।

এই প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে ২০২৩ সালের মে মাসে এক ভুক্তভোগী ও তার তিন বান্ধবী রাজধানীর কুড়িল চৌরাস্তা সংলগ্ন অফিসে গিয়ে মোট ১৭ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন। প্রথমদিকে আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে চক্রটি কিছু টাকা ফেরত দেয়, যা বিনিয়োগকারীদের আরও উৎসাহিত করে।

পরবর্তীতে একই বছরের জুলাই মাসে তারা ব্যাংকের মাধ্যমে আরও ৫০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন। এছাড়া ‘প্রজেক্টের প্লট’ কেনার কথা বলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোট ১ কোটি ৬৩ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা আদায় করা হয়। যদিও আংশিক কিছু অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছিল, পরে প্রতিষ্ঠানটি হঠাৎ লেনদেন বন্ধ করে অফিস গুটিয়ে নেয় এবং সংশ্লিষ্টরা আত্মগোপনে চলে যায়।

তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, একই কৌশলে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছে এই চক্র। প্রতিষ্ঠানের ৪টি ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া গ্রেফতারকৃত ওবায়েদুল্লাহর ব্যক্তিগত ১৪টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় আড়াই কোটি টাকার লেনদেনের তথ্যও মিলেছে।

এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে প্রায় ১৫ হাজার ভুক্তভোগী ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেন।

মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা পলাতক হয়ে যায় এবং মোবাইল নম্বর বন্ধ রাখে। পরে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্তে আরও জানা গেছে, মো. ওবায়েদুল্লাহর বিরুদ্ধে ভাটারা, উত্তরা পশ্চিম ও সাভার থানায় একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।

এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে সিআইডি সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অচেনা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের আগে তাদের সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2021 Skynews24.net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com