সাভার: উপজেলায় নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুর রহমান নতুন কর্মস্থলে যোগদানের আগেই তাকে ঘিরে শুরু হয়েছে সমালোচনা। আগামী রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে তার দায়িত্ব গ্রহণের কথা রয়েছে। তবে তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এখন চলছে তীব্র প্রতিবাদ ও নানান বিতর্ক।
এর আগে, গত ৭ অক্টোবর সাভারে ১৩ মাস দায়িত্ব পালন করা বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুবক্কর সরকারকে বদলি করে চট্টগ্রামে পদায়ন করা হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মাহবুবুর রহমান।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে- মাহবুবুর রহমান আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন “আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান” এর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং “বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদ” এর সদস্য ছিলেন। আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হিসেবেই সমাদৃত ছিলেন সর্ব মহলে। সেই সুবাদে স্বৈরাচার সরকারের আমলে নিয়েছেন অনৈতিক সুবিধা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনের সাথেও তার ছিল ঘনিষ্ঠ সখ্যতা।
এমন একজন ব্যক্তি সাভারের উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে পদায়নের খবর ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় সমালোচনা। অনেকেই ফেসবুকে তার অতীত কর্মকান্ড ও নিষিদ্ধ হওয়া সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততার ছবি পোস্ট করছেন।
স্থানীয় নাগরিকদের অনেকেই লিখছেন- “আমরা একজন নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ইউএনও চাই। আওয়ামী লীগের মতো নিষিদ্ধ সংগঠনের ঘনিষ্ঠ কোন ব্যক্তি এই পদে থাকলে প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তাকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক।”
অভিজ্ঞ এক স্থানীয় রাজনীতিক বলেন, “এই মুহূর্তে কোন জনপ্রতিনিধি নেই। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভূমিকাই সব ক্ষেত্রে মুখ্য ছিল। একই সাথে তিনি ইউএনও, উপজেলা প্রশাসক ও সাভার পৌরসভারও প্রশাসক। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ পদে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের একজন দোসর জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হবে। শিল্প অধ্যুষিত এই জনবহুল এলাকায় তাকে ঘিরে সৃষ্টি হবে নতুন বিশৃঙ্খলা।”
এদিকে, দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বেই মাহবুবুর রহমানকে নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে এমন বিতর্কিত ব্যক্তিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সচেতন মহল।